জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের আলোচিত জয়নাল হত্যার ‘প্রধান আসামি’ আলী আকবর(৪৫)কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার রাতে বহুল আলোচিত মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নবীনগর থানার এসআই মিশন বিশ্বাস এক বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে জয়নাল হত্যার প্রধান আসামি আলী আকবরকে গ্রেফতার করেন। নবীনগর থানার ওসি আমিনুর রশীদ শুক্রবার (১৫’ই জানুয়ারি) দুপুরে প্রেস ব্রিফিং করে এ বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেন।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায় , গত বছরের ২২ জুন নবীনগরের লাউর ফতেপুর ইউনিয়নের লাউর গ্রামে দরিদ্র জয়নাল মিয়াকে পূর্ব বিরোধের জের ধরে প্রতিবেশী আলী আকবর ও তার লোকজন প্রকাশ্য দিবালোকে অগণিত মানুষের সামনেই নৃশংসভাবে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ জুন জয়নাল ঢাকায় মারা যান। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রুখসানা বেগম বাদী হয়ে প্রথমে ছয়জন পরে বিশজনকে আসামি করে মামলা করলেও পুলিশ গত ছয় মাসেও মামলার এজাহারভুক্ত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি।
অভিযোগ আছে, খুনিরা একটি প্রভাবশালীদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে থাকার কারণে নিহত জয়নালের চিহ্নিত খুনিরা এতদিন ধরা পড়েনি। তারা আর ও জানান, হত্যাকাণ্ডের পর একপর্যায়ে একটি প্রভাবশালী মহল মোটা অংকের টাকায় মামলাটি ‘আপস রফা’ করতে নিহতের শাশুড়িকে দেওয়া একটি ফোনালাপের অডিও নিয়েও এলাকার সর্বত্র তোলপাড় হয়।
আসামিদের পক্ষে জনৈক মান্নান নামের এক ব্যক্তি নিহত জয়নালের শাশুড়ি তাসলিমা বেগমকে ফোন দেন। দীর্ঘ ৯ মিনিটের ওই ফোনালাপে একপর্যায়ে এলাকার দুই প্রভাবশালী আওয়ামী লীগ নেতার মাধ্যমে মামলাটি আপস মীমাংসা করার কথাও শোনা যায়। ফোনালাপের অডিওটি ওই সময় ‘টক অব দ্য নবীনগর’ এ পরিণত হয়। সেসময় পুলিশ ফোনালাপের প্রধান হোতা মান্নানকেও আটক করতে সক্ষম হননি। এরপর দীর্ঘ ছয় মাস ধরে এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও পুলিশ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কাউকেই গ্রেফতার করতে পারেনি। এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান বলেন, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে খুনিদের ধরতে পুলিশ নিরলসভাবে কাজ করে গেছে। আশা করছি মামলার অন্য আসামিরাও দ্রুত গ্রেফতার হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























