রুজমিলা হক, লন্ডন থেকেঃ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ জ্বালানির ওপর কর ও ভ্যাট কমিয়ে চালকদের স্বস্তি দিতে পদক্ষেপ নিলেও, যুক্তরাজ্যে উল্টো চিত্র। পাম্পে পেট্রোল ও ডিজেলের উচ্চমূল্যে ভোগান্তি বেড়েই চলেছে। বর্তমানে যুক্তরাজ্যজুড়ে চালকদের পেট্রোলের জন্য গড়ে £১.৫০-এর বেশি এবং ডিজেলের জন্য ১৭৭ পেন্সেরও বেশি ব্যয় করতে হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে সরকারকে জ্বালানি শুল্ক কমানো বা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। লেবার পার্টি জানিয়েছে, তারা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

তবে, সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পূর্ববর্তী কনজারভেটিভ পার্টি সরকারের সময় চালু হওয়া প্রতি লিটার জ্বালানিতে ৫ পেন্স শুল্ক কমানোর নীতি সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত বহাল থাকবে। যা Russian invasion of Ukraine-এর পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপে নেওয়া হয়েছিল। অন্যদিকে ইউরোপজুড়ে এক ভিন্ন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। বিভিন্ন দেশের সরকার জ্বালানির ওপর কর ও ভ্যাট কমিয়ে দাম নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছে, যাতে সাধারণ চালকরা কিছুটা স্বস্তি পান।

পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক সম্প্রতি জ্বালানির ওপর ভ্যাট ২৩ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৮ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন। পাশাপাশি পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর এক্সসাইজ শুল্কও উল্লেখযোগ্য হারে কমানো হয়েছে। তার ভাষায়, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য ব্যবসায়ীদের মুনাফা নয়, বরং সাধারণ মানুষের জন্য বাস্তব মূল্যহ্রাস নিশ্চিত করা।

জার্মানিতে পেট্রোল স্টেশনগুলো দিনে একবারের বেশি দাম বাড়াতে পারবে না, এমন আইন অনুমোদন করেছে সংসদ। অতিরিক্ত মূল্য আদায় ঠেকাতে এই নিয়ম চালু করা হয়েছে, যদিও দাম কমানোর ক্ষেত্রে কোনো সীমা রাখা হয়নি। ফলে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে অনেক জার্মান চালক কম দামে জ্বালানি কিনতে পোল্যান্ডে যাচ্ছেন।

আয়ারল্যান্ড সরকারও পেট্রোল ও ডিজেলের ওপর কর কমিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতজনিত বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এক্সসাইজ শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে, যার ফলে চালকরা কিছুটা কম দামে জ্বালানি পাচ্ছেন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিসেল মার্টিন জানিয়েছেন, বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতেও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একইভাবে স্পেন প্রায় ৫ বিলিয়ন ইউরোর একটি জরুরি প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এতে জ্বালানির ওপর ভ্যাট ২১ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ আশা করছেন, এতে জ্বালানির দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং নাগরিকরা স্বস্তি পাবেন।

ফ্রান্সেও জ্বালানির উচ্চমূল্যের বিরুদ্ধে অসন্তোষ বাড়ছে। ট্রাকচালকরা দেশজুড়ে সড়ক অবরোধের পরিকল্পনা করছেন। সরকার ইতোমধ্যে কৃষক ও পরিবহন খাতের জন্য প্রায় ৭০ মিলিয়ন ইউরোর জ্বালানি সহায়তা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। অর্থমন্ত্রী রোল্যান্ড লেসকিউর জানিয়েছেন, এটি একটি লক্ষ্যভিত্তিক ও সাময়িক উদ্যোগ।

সব মিলিয়ে দেখা যাচ্ছে, ইউরোপের বেশিরভাগ দেশ জ্বালানি খাতে কর কমিয়ে জনগণকে স্বস্তি দিতে সক্রিয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। কিন্তু যুক্তরাজ্যে সেই তুলনায় উদ্যোগ সীমিত থাকায় চালকদের ওপর চাপ আরও বেড়ে যাচ্ছে—যা ভবিষ্যতে বড় অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে