
রুজমিলা হক, লন্ডন থেকেঃ ব্রিটেনের রাজধানী লন্ডন ক্রমেই শিশুদের লালন-পালনের জন্য অনুপযুক্ত হয়ে উঠছে, এমন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সিটি হল। সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে বলেছেন, যথাযথ পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে লন্ডন এমন এক শহরে পরিণত হতে পারে, যেখানে শিশুদের উপস্থিতিই কমে যাবে।
লন্ডন অ্যাসেম্বলির অর্থনীতি, সংস্কৃতি ও দক্ষতা কমিটির তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ সালের শুরুর দিক থেকে রাজধানীতে বসবাসরত শিশুদের সংখ্যা যুক্তরাজ্যের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় দ্রুত হারে কমছে। ২০১৩ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে লন্ডনের ০-৯ বছর বয়সী শিশুদের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৯৯,১০০ জন, অথচ একই সময়ে শহরের মোট জনসংখ্যা বেড়েছে ৫ লাখেরও বেশি।
এই পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে যে, বিশেষ করে শহরের অভ্যন্তরীণ এলাকাগুলো শিশুদের জন্য বসবাসের উপযোগিতা হারাচ্ছে। একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, উচ্চ বাসাভাড়া, শিশু পরিচর্যার ব্যয় এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক চাপের কারণে বহু পরিবার বাধ্য হয়ে লন্ডন ছেড়ে যাচ্ছে। যারা থেকে যাচ্ছে, তারা এমন আবাসিক এলাকায় বসবাস করছে যেখানে শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত খেলার জায়গা বা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নেই। এর প্রভাব পড়ছে শিক্ষা ব্যবস্থাতেও। শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ায় অনেক স্কুলে ক্লাসের আকার ছোট হচ্ছে, ফলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো অর্থায়নের সংকটে পড়ছে। এই সংকট মোকাবিলায় লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিশু-বান্ধব আবাসন গড়ে তোলা, পরিবার উপযোগী বাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি এবং রাজধানীর সব খেলার মাঠ ও উন্মুক্ত স্থানের একটি সমন্বিত মানচিত্র তৈরি করা।
এছাড়া ক্রস-পার্টি কমিটি পরামর্শ দিয়েছে, UNICEF-এর সহায়তায় লন্ডনকে একটি “শিশুবান্ধব শহর” হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে। কমিটির সভাপতি হিনা বোখারি বলেন, “আমরা লন্ডনকে এমন জায়গায় পরিণত হতে দিতে পারি না, যেখানে খুব কমসংখ্যক পরিবার ভালোভাবে বসবাস করতে পারবে। শহরটিকে শিশু ও পরিবারের জন্য উপযোগী করে তোলাই এখন অগ্রাধিকার হওয়া উচিত। তিনি আরও বলেন, মেয়রের দায়িত্ব হচ্ছে লন্ডনকে সবার জন্য বাসযোগ্য করে তোলা, বিশেষ করে শিশু ও পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ ও বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা।
অন্যদিকে, মেয়রের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সব ধরনের পরিবার ও তরুণদের সহায়তায় তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে খাবার, স্কুল ছুটির সময়ে যুব কার্যক্রমে বিনিয়োগ, পরিবারগুলোকে আর্থিক সহায়তা প্রদান এবং শিশুদের জন্য স্বল্পমূল্যে বা বিনামূল্যে যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করা। পাশাপাশি সাশ্রয়ী মূল্যে বাসস্থান নিশ্চিত করার উদ্যোগও চলমান রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়োপযোগী কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে লন্ডন ধীরে ধীরে পরিবার ও শিশুদের জন্য কম আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে, যা শহরের ভবিষ্যতের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ।




























