নিউজ ডেস্ক: ‘ডিসিপ্লিন্স ফায়ার (শৃঙ্খলার আগুন)’ নামক একটি সমাজকল্যাণমূলক সংগঠন ২০১৯ সাল থেকে ক্রীড়া, কল্যাণ, আত্মরক্ষা ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলিত ও সুশিক্ষিত করে গড়ে তোলার কাজ করে আসছে। এ সংগঠন শুধু মার্শাল আর্ট বা আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণই নয়, বরং শরীরচর্চা, ধ্যান, আনন্দশিক্ষা ও সমাজসেবার মতো বহু দিকেই কাজ করে যাচ্ছে। গত ২৮ আগস্ট ২০২৫, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হয় ডিসিপ্লিন্স ফায়ার-এর ‘ডিসিপ্লিন্স আর্ট প্রোগ্রাম’-এর ধাপ ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, পরীক্ষা ও প্রতিযোগিতা। এতে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা সফলভাবে ১ম ও ২য় ধাপে উত্তীর্ণ হয়।

১ম ধাপে প্রথম স্থান অর্জন করে মুয়াজ মোহাম্মদ। এছাড়াও সফলভাবে উত্তীর্ণ হয় তাশফিকুল আলম স্বাধীন, আয়েশা, সাদিদ, গালিব স্পন্দন ও তোওফা।
২য় ধাপে যৌথভাবে প্রথম স্থান অধিকার করে শুভ্রা সিংহ রয় ও মোঃ তাসনিমুর রহমান রাইয়ান। এই ধাপে আরও উত্তীর্ণ হয় মিথোছ আমান, সালাত-আল-হাসান, সাওয়াব-আল-হুসাইন, সামিরা রহমান রুহি, ইজান ও মহেন্দ্র।

অনুষ্ঠানের অতিথিবৃন্দের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন:
মোঃ আলাউদ্দিন আলাল (জাতীয় প্রশিক্ষক, মার্শাল আর্ট ও লাঠি ফাইট)
জনাব রবিউল ইসলাম ফটিক (আন্তর্জাতিক গোল্ড মেডেলিস্ট ও বডি বিল্ডিং প্রশিক্ষক)
নাজমা ফারহানা (চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ মহিলা বডি বিল্ডিং)
হাফিজুর রহমান ডলার (প্রশিক্ষক, কুষ্টিয়া রাইফেলস ক্লাব)
মোঃ সুজন রহমান (জেলা কালচারাল অফিসার, জেলা শিল্পকলা একাডেমি, কুষ্টিয়া এবং উপদেষ্টা, ডিসিপ্লিন্স ফায়ার)
মোঃ রিপন বৈদ্য (প্রিন্সিপাল, অ্যাডভান্টিসড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল)
ইমতিয়াজ হাসান দিপু (সভাপতি, হিন্দোল কুষ্টিয়া)
আনোয়ার কবির বকুল (সভাপতি, চর্যাপদ কুষ্টিয়া এবং উপদেষ্টা, ডিসিপ্লিন্স ফায়ার)
রোকসানা পারভীন (উপদেষ্টা, ডিসিপ্লিন্স ফায়ার)

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও শিক্ষক মীর আতিক আহমেদ। অতিথিবৃন্দ তাঁদের বক্তব্যে বলেন, বর্তমান প্রজন্মকে মোবাইল আসক্তি থেকে মুক্ত করে আত্মবিশ্বাসী ও শৃঙ্খলাবদ্ধ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে আত্মরক্ষা ও মার্শাল আর্টের বিকল্প নেই। জনাব আলাউদ্দিন আলাল বলেন, “একটি চারা গাছকে যেমন যত্ন নিয়ে বটবৃক্ষ বানাতে হয়, তেমনি মার্শাল আর্ট বা ডিসিপ্লিন্স আর্ট একজন মানুষকে পূর্ণতা দিতে পারে। সত্য বলা ও অনুশীলনই মূল চাবিকাঠি।”
সুজন রহমান বলেন, “কুষ্টিয়া একটি সাংস্কৃতিক রাজধানী। এখানকার শিশু-কিশোরদের সাংস্কৃতিক চর্চার পাশাপাশি আত্মরক্ষা কৌশলে দক্ষ করে গড়ে তুলতে হবে।”
রোকসানা পারভীন বলেন, “প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব শিশুকে ঘরে আটকে না রেখে এমন মহৎ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা।”
মীর আতিক আহমেদ বলেন, “মার্শাল আর্ট শেখার কোনো নির্দিষ্ট বয়স নেই। আত্মরক্ষা ছাড়াও এটি বাড়ায় আত্মবিশ্বাস, মনোযোগ, সহনশীলতা ও আত্মসংযম।”

অনুষ্ঠানের শেষাংশে ছিল এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এতে সংগীত পরিবেশন করেন ক্লোজআপ তারকা সুজন রহমান এবং রোকসানা পারভীন, যিনি হিন্দোল একাডেমির সংগীত প্রশিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। ‘ডিসিপ্লিন্স ফায়ার’-এর এই উদ্যোগ আগামী দিনে আরও বিস্তৃত হোক—এমন প্রত্যাশা সকলের।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে