রুজমিলা হক, লন্ডন থেকেঃ 
আরেকটি বড় আকারের অভিবাসী সংকটের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্য। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সম্ভাব্য যুদ্ধের প্রথম প্রহরেই ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিতে পারে বলে সতর্ক করছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা।

ইরানের অভ্যন্তরে লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি বাহিনীর সমন্বিত হামলার পর দেশটির জনগণের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে এবং এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ইউরোপে, বাড়তে পারে শরণার্থী প্রবাহ।

ইসলামী প্রজাতন্ত্রের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার লক্ষ্যে চলমান শেষ পর্যায়ের আলোচনা যদি কূটনৈতিক সাফল্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়, তবে আরেকটি বৃহৎ অভিবাসী বিপর্যয়ের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা তুলে ধরেছে ব্রিটেনের সংবাদমাধ্যম জিবি নিউজ।

যুদ্ধ অভিযান শুরুর পর ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে সমন্বিত বিমান হামলার খবর পাওয়া গেছে। এরই মধ্যে তেহরানসহ একাধিক প্রধান শহরে বিস্ফোরণের তথ্য মিলেছে। এসব হামলায় কয়েকশ নারী-পুরুষ ও শিশুর নিহত ও আহত হওয়ার খবরও এসেছে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, এই যুদ্ধের প্রভাব কেবল ইরানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং জর্ডান, সৌদি আরব, বাহরাইন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত–সহ প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। ইতিহাসও এমন আশঙ্কার ইঙ্গিত দেয়। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের পর প্রতি ছয়জন ইরাকির মধ্যে একজন ঘরছাড়া হয়েছিলেন। পরে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধের ফলে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ২০১১ সালে লিবিয়ার অভ্যন্তরীণ সংঘাতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ প্রতিবেশী দেশগুলোতে আশ্রয় নেন।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের জনসংখ্যা প্রায় ৯ কোটি, যা ইরাক, সিরিয়া ও লিবিয়ার সম্মিলিত জনসংখ্যার চেয়েও বেশি। ফলে দেশটির জনসংখ্যার মাত্র ১০ শতাংশ মানুষও যদি বাস্তুচ্যুত হয়, তবে সেটি এই শতাব্দীর সবচেয়ে বড় শরণার্থী আন্দোলনে রূপ নিতে পারে। আরও বলা হচ্ছে, ইরানের এক চতুর্থাংশ মানুষ যদি দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়, তবে বিশ্বব্যাপী শরণার্থীর সংখ্যা প্রায় ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে—এমন তথ্য দিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এই সংকটের প্রভাব কেবল ইরান ও মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না। ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের জন্যও তা মারাত্মক হতে পারে। শরণার্থীদের ঢল ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যের সমুদ্রবন্দরগুলোকে বড় ধরনের চাপে ফেলতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে