
অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্য সরকার আশ্রয়(এজাইলাম) খাতে ব্যয় ৪০০ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি কমানোর ঘোষণা দিয়েছে। সরকারের দাবি, অবৈধ অভিবাসীদের আকৃষ্ট করে এমন বিভিন্ন প্রণোদনা বন্ধ করার ফলেই এই সাশ্রয় সম্ভব হয়েছে।
লেবার পার্টি সরকারের সীমান্ত নিরাপত্তা ও আশ্রয় বিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস জানান, “আশ্রয় সংক্রান্ত খরচ কমানোর ফলে গত বছর মোট ব্যয়ে প্রায় ১ বিলিয়ন পাউন্ড সাশ্রয় হয়েছে। একই সঙ্গে এমন সব প্রণোদনা বন্ধ করা হচ্ছে, যা অবৈধভাবে যুক্তরাজ্যে আসতে মানুষকে উৎসাহিত করে।”
সরকারের পদক্ষেপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আশ্রয়প্রার্থীদের জন্য ব্যবহৃত হোটেল ব্যবস্থা ধীরে ধীরে বন্ধ করা। এই হোটেলগুলো স্থানীয়দের জন্য চাপ তৈরি করছিল এবং ব্যয়বহুল হওয়ায় এগুলো বন্ধ করাকে সাশ্রয়ের বড় উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। বর্তমানে দেশজুড়ে প্রায় ২০০টির মতো বিকল্প আবাসন ব্যবস্থা চালু রয়েছে। হোটেলে একজন প্রাপ্তবয়স্কের থাকার পেছনে বছরে প্রায় ৫ হাজার পাউন্ড খরচ হওয়ায় এই খাত থেকে সরে আসা ব্যয় কমাতে বড় ভূমিকা রাখছে।
২০২৫ সালের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরে শরণার্থী ব্যয় ৪৩২ মিলিয়ন পাউন্ড কমেছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৫ শতাংশ হ্রাস। ২০২১ সালের পর এটাই সর্বনিম্ন ব্যয়, এবং ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় প্রায় ৯০০ মিলিয়ন পাউন্ড কম।
অভিবাসন ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ পুনঃপ্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের নেতৃত্বে বৃহত্তর সংস্কার কর্মসূচির অংশ হিসেবেই এই সাশ্রয়কে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্যর্থ আশ্রয়প্রার্থীদের স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে উৎসাহিত করতে নগদ প্রণোদনার একটি পাইলট প্রকল্প চালু করা হয়েছে, যেখানে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে সর্বোচ্চ ৪০,০০০ পাউন্ড পর্যন্ত দেওয়া হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে পুনর্বাসনের ব্যয়ের তুলনায় এই ধরনের নগদ প্রণোদনা করদাতাদের ওপর চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আশ্রয় আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির কাজও জোরদার করেছে। গত ২৫ বছরের মধ্যে আবেদন প্রক্রিয়াকরণের গতি ৫৬ শতাংশ বেড়েছে, ফলে অপেক্ষমাণ মামলার সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনের পর থেকে প্রায় ৬০ হাজার অবৈধ অভিবাসী বা অপরাধে জড়িত বিদেশি নাগরিককে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা আগের সময়ের তুলনায় প্রায় ৩১ শতাংশ বেশি।
তবে সমালোচকদের মতে, ইংলিশ চ্যানেল পাড়ি দিয়ে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের সংখ্যা কমাতে সরকার এখনও পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নিতে পারেনি। ফলে সামগ্রিকভাবে ব্যয় কমলেও অভিবাসন সংকট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে মনে করছেন অনেকে।
সব মিলিয়ে, কঠোর নীতি ও কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য সরকার আশ্রয় ব্যয় কমাতে সক্ষম হলেও, এই নীতির কার্যকারিতা ও মানবিক দিক নিয়ে বিতর্ক এখনও অব্যাহত রয়েছে।




























