জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা।। মুজিববর্ষ’ উপলক্ষে অস্বচ্ছল বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য আবাসন নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার ৩১ জন অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হবে। ঘর পাবার জন্য ইতোমধ্যে উপজেলার ১৫০’জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছে। এই আবেদনের মধ্য থেকে যাচাই বাছাই করে ৩১ জনের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে।
ঘর নির্মাণের জন্য অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করতে আবেদনকারী প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার বাড়ি বাড়ি ছুটছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজিমুল হায়দার।কথা বলছেন আবেদনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে। পাশাপাশি কারো প্রলোভনে পড়ে যেন কেউ কোন দালালচক্রকে টাকা পয়সা না দেন সে ব্যাপারেও সতর্ক করছেন। কারণ, সরকারের পক্ষ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই ঘর নির্মাণ করে দেয়া হবে।
যাছাই-বাছাই কাজে ইউএনওকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করছেন, উপজেলা সমাজ সেবা অফিসার সৈয়দ রাফি উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো:হেবজুল বারী ও আব্দুল করিম। ইউএনও জানান, এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজিমুল হায়দার বলেন, ‘জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অনেকেই অস্বচ্ছল জীবন যাপন করছেন। অনেকে রয়েছেন গৃহহীন কিংবা রোদ-বৃষ্টিতে ভাঙ্গা ঘরে কষ্ট করে বসবাস করছেন। তাই আমরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারকে এ তালিকার অন্তর্ভূক্ত করতে চাই। আমি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাতি। তাই প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে হাসি ফুটানোর সরকারি উদ্যোগকে সফল করার লক্ষ্যে কাজ করছি। বিভিন্ন মাধ্যমে অফিসে বসেও যাচাই বাচাই কাজ সম্পন্ন করা যেত। আমি সেটি করিনি। মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান হিসেবে মনের তাগিদেই অতিরিক্ত শ্রম ও সময় দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়েছি। এতে করে প্রকৃত অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের মুখে হাসি ফুটলেই আমার শ্রম স্বার্থক হবে।
উল্লেখ্য,বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে চলমান ‘মুজিববর্ষ’ উদযাপনের আওতায় অস্বচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য এই আবাসন প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় সরকারের তরফ থেকে সারা দেশে ১৪ হাজার অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাকে একতলা বাড়ি নির্মাণ করে দেয়া হবে। এসব বাড়ি হবে ৯৮০ বর্গফুট আয়তনের। আর একেকটি বাড়ির নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫’লাখ ৭৫’হাজার টাকা। প্রতিটি বাড়িতে থাকবে তিন বেডরুম ও একটি ড্রইং-ডাইনিং।
আগ্রহী অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধার আবেদন সংগ্রহ বা তার সম্মতির ভিত্তিতে জেলা ও উপজেলাওয়ারি তালিকা পাঠাতে দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে।জানা গেছে, অসচ্ছল মুক্তিযোদ্ধাদের সুপারিশসহ তালিকা যাচাই বাছাই এর পর জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে চ‚ড়ান্ত তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের পর স্থানীয় উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




























