শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার গোস্বামীদূর্গাপুর ইউনিয়নের গাংদিয়া গ্রামে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের টাকা হরিলুট হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া ১৪ জন টাকা পায়নি। কেউ কেউ আবার জানেও না তার নামে টাকা বরাদ্দ হয়েছে। তবে টাকা পেতে প্রত্যেকেই আগাম টাকা দিয়েছে। প্রকল্প ২০১৭ সালের। এতদিন পর বিষয়টি ফাঁস হওয়ায় ওই এলাকায় এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর মহতি উদ্যোগে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের আওতায় গরীব দুস্থ্যদের আত্মকর্ম সংস্থানের জন্য ১০’হাজার করে টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। এর আওতায় ২০১৭ সালে গোস্বামীদূর্গাপুর ইউনিয়নের গাংদিয়া গ্রামে বেশ কয়েকজনের নামে এই টাকা বরাদ্দ অনুমোদন হয়। তবে কয়েক বছর পেরিয়ে গেলেও বরাদ্দ পাওয়া ব্যাক্তিদের মধ্যে ১৪ জন এই টাকা পাননি। একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের তৎকালিন সদর থানা অফিসার রাকিবুল ইসলাম ও তৎকালিন ফিল্ড সুপারভাইজার বিল্লাল হোসেন এবং সমিতির সভাপতি ও ম্যানেজার হারুনার রশিদ, কোষাধ্যক্ষ মিজানের যোগসাজসে এই টাকা হরিলুট হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। বরাদ্দ পাওয়া সত্তেও টাকা না পাওয়া মকবুল ও সাদ আহাম্মেদ’র সাথে কথা হলে তারা বলেন, তারা ছাড়াও হামিদা খাতুন, কাজলি, কাজেল, মাসুম বিল্লাহ, মাসুদ, সালমা খাতুন, বাবুল আক্তার সহ মোট ১৪’জন বরাদ্দ পেলেও তারা টাকা পাননি। সাদ আহাম্মেদ বলেন, আমি কোন টাকা পায়নি, কিন্তু আমার নামে বরাদ্দ হয়েছে যা আমি তিন মাস আগে জানতে পারি। আরেক জন মকবুল বলেন, টাকা পাওয়ার জন্য ২৫শ টাকা, ভোটার আইডি কার্ড ও ছবি নিয়েছিল সভাপতি ও ম্যানেজার হারুনার রশিদ। কিন্তু আজও আমি কোন টাকা পায়নি। জানতে পেরেছি টাকা তুলে ওরা নিয়ে নিয়েছে।

সভাপতি ও ম্যানেজার হারুনার রশিদের সাথে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি অভিযোগ স্বীকার করে বলেন, ৭’জনের টাকা ফেরত দেবার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। এতদিন টাকা দেননি কেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যবসায়িক লেনদেনে গ্রামের বাবলুর কাছে আমি টাকা পেতাম, তাকে বলা হয়েছিল এই টাকা বরাদ্দ পাওয়া ব্যাক্তিদের দিয়ে দিতে। কিন্তু সে দেয়নি। এ বিষয়ে বাবলু বলেন, হারুনার রশিদ আমার কাছে কোন টাকা পাবে না। আমাকে কাউকে টাকা দিতেও বলা হয়নি। সরকারি টাকা আমি কেন দেব?

কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে