রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে সরকারের বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল বিতরণে যৌথ ভাবে লুটপাট করা হয়েছে। অনিয়মের অভিযোগে গঠিত তদন্তে যৌথভাবে লুটপাটের চিত্র ধরা পরে।

জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা (ডিডিএলজি) তাগাদা দেওয়া সত্তে¡ও নির্ধারিত সময়ে দেয়া হয় নি কাগজপত্র। অনেক খড়কুটো পুড়িয়ে বিতরণের দু’মাসের মাথায় মিলেছে চাল বিতরণের মাষ্টার রোল। একই কর্মকর্তা ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রদান এবং বারবার কাগজ ঠিক করতে গিয়ে চাল আত্মসাতের ঘটনাটি অনেকটা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এভাবে প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক বরাদ্দ অসহায় অভাবী মানুষের মুখের খাওয়া গ্রাসকারীদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছেন অভিযোগকারীরা। গত ঈদের আগে উপজেলা থেকে কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নের ৯ হাজার ৯৯৮টি কার্ডের অনুক‚লে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৯৯.৯৮ মেট্রিক টন চাল।

অভিযোগে মতে, প্রতিটি কার্ডের অনুক‚লে ১০ কেজি করে বিতরণের নির্দেশনা থাকলেও তা করা হয়নি। সে সময় সৈয়দপুর খাদ্য গুদাম থেকে দু’দফায় গত ২৬ ও ২৭ জুলাই ৩ হাজার ৩৫২ বস্তায় মোট ৯৯ টন ৯৮০ কেজি চাল সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বস্তার ওজন ৩০ কেজি হিসেবে সরবরাহ দেওয়ার কথা ১০০ টন ৫৬০ কেজি। এতে কম দেওয়া হয়েছে ৬৮০ কেজি চাল। আবার কাশিরাম ইউনিয়নের রেজিষ্ট্রারে এসব চাল গ্রহণ দেখানো হয়েছে তিন দফায়, ২৬, ২৭ ও ২৮ জুলাই। এ তিন দিনে ইউনিয়ন পরিষদের রেজিষ্ট্রারে চাল গ্রহণ দেখানো হয়েছে ৩ হাজার ২০৩ বস্তায় ১০০ টন ২১০ কেজি। এখানেও ৩০ কেজি হিসেবে চাল হওয়ার কথা ৯৯ টন ৩৭০ কেজি। এখানে বেশি দেখানো ৮৫০ কেজি। এ ব্যাপারে খাদ্য গুদাম কর্মকর্তা ফজলুল হক জানান, প্রয়োজনে বস্তার নির্ধারিত ৩০ কেজির স্থলে কম দেওয়া যেতে পারে এবং চাল তিন দফায় নয়, দু’দফায় গত ২৬ ও ২৭ জুলাই খাদ্য গুদাম থেকে সরবরাহ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বস্তা প্রতি ৩০ কেজিই দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দেওয়া হয়েছে কম। এভাবে দেওয়া যেতে পারে বলে জানান ওই খাদ্য কর্মকর্তা।

জেলার ভিন্ন একজন খাদ্যগুদাম কর্মকর্তা বলেন, এটি ঠিক নয়, বস্তা প্রতি চাল কম হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জবাদিহি করবেন। এদিকে এসব চাল বিতরণের তদারকি কর্মকর্তা (ট্যাগ অফিসার) বিতরণকৃত চালের খাতায় তার স্বাক্ষরে ঘষামাজা দেখা গেছে। তিনি রেজিষ্ট্রারে লিখে দেন, চাল বিতরণ চলাকালে বেলা প্রায় সাড়ে ১২টার দিকে সাড়ে ৩০০ লোক গন্ডগোল শুরু করেন। আবার পরবর্তিতে একই কর্মকর্তা লিখে দেন যে, বিতরণ তদারকি করতে গিয়ে দেখেন গন্ডগোল চলছে। অর্থাৎ বিতরণ শুরুর আগে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ট্যাগ অফিসার এক তারিখে লিখলেন চাল বিতরণ শুরুর আগে গন্ডগোল শুরু হয়, আবার তিনিই আরেকবার লিখেন বিতরণ চলাকালে গন্ডগোল শুরু হয়। আসলে কোনটি ঠিক?

অপরদিকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইউনিয়ন পরিষদের রেজিষ্ট্রারে ১০ হাজার ৪৪০ জন মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করেছেন বলে লিখেছেন। কিন্তু তার বিতরণের কথা ৯ হাজার ৯৯৮ জনের মাঝে। অর্থাৎ তিনি ৪৪২ জন বেশি মানুষের মাঝে চাল বিতরণ করেছেন। এ অবস্থায় দু’কর্মকর্তা ও একজন জনপ্রতিনিধিসহ তিন ব্যক্তির কর্মকান্ডে পরিলক্ষিত হচ্ছে, যেন একটা আঁতাতের মাধ্যমে অসহায় মানুষকে ঈদ উৎসবে দেওয়া সদাশয় প্রধানমন্ত্রীর চাল লোপাট করা হয়েছে। এদিকে তদন্ত প্রতিবেদন জেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে দেওয়ার পর মাষ্টার রোলসহ আরও প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র দু’দফায় চাওয়া হলেও ওই কর্মকর্তা গত বুধবার পর্যন্ত পাননি বলে জানান।

সৈয়দপুর উপজেলার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা জানান, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) জেলা কর্মকর্তার (ডিডিএলজি) চাহিদা মত সকল কাগজপত্র পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এবারও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী জানান, চাল বিতরণে কোন অনিয়ম করা হয়নি। এ সবই একটি ষড়যন্ত্র এবং এরই শিকার আমি।

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে