রেজা মাহমুদ নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি ।। দীর্ঘ প্রায় দু’মাস পরে অবশেষে ভিজিএফ চাল বিতরণ তালিকা(মাষ্টার রোল) জমা দিয়েছেন নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী।
জমা দেয়া ওই তালিকায় ৩৯২ জনের ভূয়া নাম উল্লেখ করা হয়েছে। উক্ত তালিকার মধ্যে থাকা অনেক কার্ডধারীরাও চালের আশায় ঘুরে বেড়াচ্ছে প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে। এদিকে তদন্তে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে চাল বিতরণের অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ মিললেও দীর্ঘ দিনেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোন আইনী পদক্ষেপ নেননি। এরই মধ্যে জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালকের দপ্তর হতে মাষ্টার রোলসহ প্রয়োজনীয় কাগজ চেয়ে ৭দিন সময় দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু ৩ সপ্তাহ অতিবাহিত হলে এখনও তা দেয়া হয়নি। ফলে জরুরী ভিত্তিতে পাঠানোর জন্য আবারও তাগাদাপত্র দেয়া হয়েছে। গত আগষ্ট মাসের ঈদকে সামনে রেখে জুলাই মাসের শেষ সপ্তাহে ওই ইউনিয়নের ৯হাজার ৯৯৮টি কার্ডের অনুকুলে বরাদ্দ দেয়া হয়েছিল ৯৯হাজার ৯৮০ মেট্রিক টন চাল। প্রতিটি কার্ডের অনুকুলে ১০ কেজি করে বিতরণের নির্দেশনা দেয়া হলেও অভিযোগ মতে, অনেকেরই ভাগ্যে জুটেনি এসব চাল।
অনেক তাগাদার পর গত সপ্তাহে জমা দেয়া মাষ্টার রোলে মৃত ব্যক্তি, একই নামে একাধিক ব্যক্তি, ভূয়া নাম দিয়ে ও পাশের ইউনিয়নের ঠিকানা ব্যবহার করে ৩৯২ জনকে তালিকা ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া বিতরণের মাষ্টার রোলে ১৩ জনের নাম থাকলেও তারা তারা জানতেন না যে, তালিকায় তাদের নাম ছিল।
অভিযোগকারীরা দাবি করেছেন, সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে মাষ্টার রোলের তালিকায় এ ধরণের ভূয়া ব্যক্তির নাম আরও অনেক মিলবে। ইতোমধ্যে এসব অভিযোগ তদন্তের জন্য পৃথকভাবে গঠিত দু’টি তদন্ত টিম তদন্ত করে তাদের প্রতিবেদন জমা করেছে কয়েক সপ্তাহ আগে।
সূত্র মতে, অনিয়মের বিষয়টিও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া নিয়মানুযায়ী চাল বিতরণ শেষ হলেই বিতরণের তালিকা (মাষ্টার রোল) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের (পিআইও) নিকট জমা দিতে হবে। কিন্তু পৌণে দু’ মাসেও বিতরণের তালিকা (মাষ্টার রোল) জমা করা না করায় স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক তাসহ (মাষ্টার রোল) আরও কিছু কাগপত্র চেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে ৭দিনের সময় দিয়ে গত ৯ সেপ্টেম্বর চিঠি দেন। সুত্র জানায়, ৭দিন পেরিয়ে ২১দিনেও তা দেয়া হয়নি। ফলে একই কর্মকর্তা (উপ-পরিচালক) জরুরী ভিত্তিতে একই কাগজপত্র চেয়ে গত ২২সেপ্টেম্বর তাগাদা পত্র দিয়েছেন। সুত্র মতে গতকাল শনিবার (০৩-১০-২০২০) পর্যন্ত তা পাঠানো হয়নি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল মোতালেব সরকার জানান, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের সাথে চাল বিতরণের মাষ্টার রোলসহ কিছু কাগজপত্র পাওয়া যায়নি, তা চাওয়া হয়েছে। কিন্তু পাওয়া যায়নি। তাই পুনরায় তাগাদাপত্র দেয়া হয়েছে। পেলেই এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এদিকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক চৌধুরী জানান, চাল বিতরণের অনিয়মের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। একটি চক্র আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে চলেছে।

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




























