রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।। নীলফামারীতে ১০’দিন ধরে টানা ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে তিস্তাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় ৬ উপজেলার শহর ও গ্রামের লোকালয়ে পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, বসতবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, ডাকঘর ও ফসলি জমির মাঠ। সোমাবার বৃস্টি না হওয়ায় পানি কিছুটা কমলেও এখনো পানিবন্দী হয়ে দুর্ভোগ পোহাচ্ছে প্রায় এক লাখ মানুষ।

সৈয়দপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, গত দুই সপ্তাহের গড়ে ২৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। যা দেশের তৃতীয় সর্ব্বোচ। জেলার ডোমার, ডিমলা জলঢাকা, কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুরের প্রায় সবকটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিতে থৈ থৈ করছে এসব উপজেলার খাদ্যগুদাম, হাসপাতাল-ক্লিনিক, সড়ক। বসতবাড়ির কোথাও হাটু আবার কোথাও কোমার পরিমান পানি জমেছে। চোখের সামনে ভাসছে বাড়ির মূল্যবান সৌখিন আসবাবপত্র। অনেকের চুলা জ্বালিয়ে রান্না করে খাবার মতো কোনো উপায় নেই। শিশুসহ বয়স্করা পড়েছেন বড় সমস্যায়। সৈয়দপুর উপজেলার নতুন বাবুপাড়া এলাকার গৃহিণী কোয়েলিয়া হক বলেন, মুষলধারে বৃষ্টির কারণে বাড়ির পাশের ড্রেনগুলো উপচে রাস্তা ঘাট ও বাড়ি ঘর পানিতে তুলিয়ে গেছে। শহরের বিভিন্ন রাস্তাঘাটে থমকে গেছে যান চলাচল। পথচারীরা হাঁটু থেকে কোমরপানি ঠেলে চলাচল করছেন। ডিমলা উপজেলার গয়াবাবিড় ইউনিয়নের শুকারু মিয়া বলেন, একদিকে তিস্তার পানি বৃদ্ধি অন্যদিকে টানা ভারি বৃষ্টির ফলে আমরা প্রায় দেড় হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। বাড়ি ঘরের অর্ধেকের উপর পানি উঠেছে। এমন অবস্থায় আমরা কেউ ঘরে থাকতে পারছি না। সবাই উচু জায়গায় ও বিভিন্ন স্কুল- কলেজে আশ্রয় গ্রহণ করেছি।

এদিকে, সৈয়দপুর পৌরসভার সামনেই অবস্থিত মাতৃসদন কেন্দ্রে,১০০ শয্যা হাসপাতাল, ডাকঘর, বিমানবন্দর সড়ক, সৈয়দপুর সরকারী বিজ্ঞান কলেজ,সানফ্লাওয়ার স্কুল এন্ড কলেজ, আল ফারুক একাডেমিসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও বসত বাড়িতে হাটুপরিমান পানি জমেছে। এতে প্রতিষ্ঠানগুলোর গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র নস্ট হতে গেছে। নস্ট হয়েছে বসতবাড়ির মূল্যবান আসবাবপত্র।

সৈয়দপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ বলছে, শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া খড়খড়িয়া নদীর পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা এ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়েছে। ফলে হুমকির মুখে পড়েছে সৈয়দপুর শহর রক্ষা বাঁধ। বাঁধ রক্ষার্থে ইতোমধ্যে দূর্বল স্থানে ১০০ জিও ব্যাগ বসানো হয়েছে। ওই পৌরসভার প্যানেল মেয়র জিয়াউল হক জানান, এ শহরের ৮০ ভাগ বসতবাড়ি রেলওয়ের। এ রেলের জায়গায় অপরিকল্পিত ভাবে বাসা-বাড়ি নির্মান করায় পানি নিষ্কাষনের ড্রেনগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এব্যাপারে নীলফামারী জেলা প্রশাসক হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, টানা বৃষ্টি ও হঠাৎ করে তিস্তার অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধি হয়েছে। পানি বৃদ্ধির ফলে আবার বন্যার কবলে পড়েছে নি¤œাঞ্চলের মানুষ ও বিভিন্ন ফসলাদি। সংশ্লিষ্ট বিভাগকে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের জন্য বলা হয়েছে। বন্যাকবলিত এসব মানুষদের সার্বিক সহযোগিতর জন্য দ্রত পদক্ষেপ নেয়া হবে।

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে