ওমর ফয়সাল, ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম)।। চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে আদালতের স্থিতি অবস্থার আদেশ অমান্য করে ৩ প্রবাসীর প্রায় ৫’কোটি টাকা ম‚ল্যের সম্পত্তি জবরদখল চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভ‚ক্তভোগী পরিবার। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন প্রবাসীর স্ত্রী সেলিনা আকতার। এ সময় উপস্থিত ছিলেন, ৩ প্রবাসীর মা ছবিলা খাতুন, কিশোর এহসান আজিজ রাব্বী।
লিখিত বক্তব্যে সেলিনা আকতার বলেন, আমার স্বামী মুহাম্মদ আজম এবং দুই দেবর নাজিম উদ্দীন ও মুহাম্মদ এরশাদ সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রবাসী। কিছুদিন প‚র্বে দেশে আসার পর একটি ষড়যন্ত্র মূলক মামলায় আমার স্বামী বর্তমানে কারাগারে আছেন। এরমধ্যে, উপজেলা সদরের করোনেশন স্কুল রোডে আমার স্বামী ও তার অপর দু’ভাইয়ের খরিদা ভোগ দখলীয় ৪০’শতক জমি নিয়ে মঈন উদ্দীন সিদ্দিকীগং বিরোধ সৃষ্টি করতঃ জবর দখল করার পাঁয়তারা করলে আমার স্বামী চট্টগ্রামের যুগ্ম-জেলা জজ ২য় আদালতে মিছ মামলা নং- ৭/২০০৭ দায়ের করে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনা করেন। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে আদালত আদেশ নং- ৬৮, তাং- ১১/০২/২০০৯ইং ম‚লে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত দখল বিষয়ে উভয় পক্ষকে এবং নালিশী জমি বিক্রয় বিষয়ে বিবাদী মঈন উদ্দীন সিদ্দিকীগং-এর উপর স্থিতি অবস্থার আদেশ জারী করেন। এ আদেশের ফলে ক্ষিপ্ত বিবাদী মঈন উদ্দীন সিদ্দিকীগণের সহায়তায় স¤প্রতি ভূমিদস্য‚ মুহাম্মদ ইলিয়াস ওরফে জুনুসহ অজ্ঞাতনামা আরো কয়েকজন ব্যক্তি মিলে উক্ত সম্পত্তি জবর দখল করার পাঁয়তারা করে আসছে এবং আমাদের অজান্তে উক্ত জায়গায় মাটি স্তুপ করে।
আমরা খবর পেয়ে গত শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত ইলিয়াসকে আমাদের জায়গায় কেন মাটি ভরাট করছে জিজ্ঞাসা করলে সে জনৈক লেয়াকত আলীর নিকট হতে জায়গা খরিদ করেছে বলে জানায়।
উক্ত সম্পত্তি তার স্বামী ও দু’দেবর কারো কাছে বিক্রি করেনি উল্লেখ করে সেলিনা আক্তার বলেন, বস্তুতপক্ষে আমাদের দক্ষিণ রাঙ্গামাটিয়াস্থ মৃত মনির আহমদের পুত্র লেয়াকত আলী একজন প্রতারক ও জাল-জালিয়াতবাজ ব্যক্তি। সে বিগত ২০১৮ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর তারিখে আমার দেবর নাজিম উদ্দীনকে কথা আছে বলে ফোনে তার বাসায় ডেকে নিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে জাল দলিল সৃজন করতে চেয়েছিল; কিন্তু পারেনি।
মোবাইলে খবর পেয়ে আমি এবং আমার শ্বাশুড়ী গিয়ে পুলিশ নিয়ে ভ‚মিদস্যু লেয়াকতের ঘর হতে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আমার দেবর নাজিম উদ্দীনকে উদ্ধার করি। পরে এ ঘটনায় আমার দেবর বাদী হয়ে ফটিকছড়ি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। বর্তমানে আমার স্বামী ও দেবরগণের অনুপস্থিতির সুযোগে ম‚ল মামলার বিবাদী মঈন উদ্দীন সিদ্দিকীগং এবং ভ‚মিদস্যু লেয়াকতের প্ররোচনায় উক্ত ভ‚মিদস্যু ইলিয়াছ জুনু তার লোকজন নিয়ে আদালতের অমান্য করে আমাদের জায়গায় মাটি ভরাটসহ জবর দখলের পাঁয়তারা করছে।
আমরা পুলিশের কাছে যাবো বলে ভ‚মিদস্য‚ ইলিয়াছকে প্রতিবাদ জানালে সে আমাদেরকে হুমকি দেয় ‘পুলিশের ভয় দেখায়ও না। ওসির দরকার হলে আমাকে খুজে নেবে’। এ হুংকারের পর তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণে গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ফটিকছড়ি থানায় কাছে অভিযোগ দায়ের করি। কিন্তু পুলিশ কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি; এমনকি ডিউটি অফিসার বাবু চেনমং আমার অভিযোগ গ্রহণের কোন রিসিভিং সীল-স্বাক্ষর দিতেও অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। পুলিশের এহেন নির্লিপ্ততা আমাদের হতবাক করেছে। এমনতর পরিস্থিতিতে আমাদের আশংকা- পরিবারের পুরুষ লোকদের অনুপস্থিতির সুযোগে উপরোক্ত ভূমিদস্য‚গণ আমাদের তফসীলোক্ত সম্পত্তি জবর দখল এবং ভরাট করে ফেলতে পারে। সংবাদ সম্মেলনে টাকার সম্পত্তি রক্ষায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহায়তা কামনা এবং চিহ্নিত ভ‚মিদস্যুদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবী জানান ভুক্তভোগী প্রবাসীর পরিবার।

মুহাম্মদ ওমর ফয়সাল, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




























