জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা।। প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে সবচেয়ে বড় বনজ সম্পদ বা বনবিভাগ। আর সেই বনজ-সম্পদ দেখাশুনা করার জন্য জন্য প্রতিটি উপজেলায় সরকার একজন করে বন কর্মকর্তা নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন।

অথচ অফিস দেখলে মনে হবে এটি একটি  কুড়ে ঘর। তার ভাল কোন খুঁটি ও নেই। যে কোনো সময় বাতাসের তোড়ে গাছের পাতা কিংবা দূর্বল ঘরের চালার মত উড়ে যেতে পারে। এমনি জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বন বিভাগের অফিস। এ অফিসটির জরাজীর্ণ অবস্থা র্দীঘদিন যাবত। যে কোনা সময় অফিসটি ধবসে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর তার ফলশ্রুতিতে ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা। বন বিভাগের অফিস সূত্রে জানা যায়, ৮ ফিট বাই ১০ ফিট রুমে এটি গড়া অফিসটিতে একজন বন কর্মকর্তা এবং একজন সহকারি  কর্মরত রয়েছে। তারা উপজেলার ১২৭টি গ্রামের  সরকারি সমস্ত গাছ বনবিভাগের হয়ে দেখাশুনা করে থাকেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অফিসটিকে দেখলে মনে হবে এটি একটি কুড়ে ঘর। দেওয়ালে ফাটল ধরে গেছে, ঘরে লাগানো টিন গুলো ও নষ্ট হয়ে গেছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই তা দিয়ে পানি পড়ে। দরজা জানালা গুলো খসে পড়েছে। খুটি গুলো ও ঠিকঠাক নেই। যেকোন মূহুর্তে ঘরটি মাটিতে লুটিয়ে পড়তে পারে। ঘটে যেতে পারে বড় ধরনের দূর্ঘটনা।

স্থানীয়রা বলেন, ছোটবেলা থেকেই এ ঘরটিকে দেখে আসতেছি। ঘরটি এখন আগের চেয়ে অনেক লক্কর-ঝক্কর হয়ে গেছে। ইতিমধ্যে অনেক অফিস উন্নত হইছে কিন্তু বন বিভাগের এ ঘরটি আর নতুন হইল না। উপজেলায় এমন জরাজীর্ণ অফিস আর একটিও নেই। এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বন কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল বলেন, আমি ঠিকমতন অফিসে বসে অফিসের কাজ করতে পারি না। কেননা সবসময় মনের ভিতর একটা ভয় থাকে না জানি কখন ঘরটি আমার মাথার উপরে পরে যায়। তবে আমি এ বিষয়ে আমার উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করেছি। এ ব্যাপারে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন সরোয়ার বলেন, জাতীয় বন সম্পদের বিকাশের ক্ষেত্রে  বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অবদান সবচেয়ে বেশি।

অথচ তাদের অফিস কক্ষটি জরাজীর্ণ। আমি এখানে দায়িত্বরত বন বিভাগের কর্মকর্তার সাথে কথা বলে অফিস কক্ষটি নতুনভাবে সংঙ্কার করার জন্য উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে এ ব্যাপারে চিঠি লিখব।

জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে