নোমান চৌধুরী, চরফ্যাশন(ভোলা)প্রতিনিধি।। চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা রোগীদেরকে সু-কৌশলে বিভিন্ন ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ভাগিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছে চরফ্যাশনের দালাল এম্বুলেন্স ড্রাইভারগন৷
অনুসন্ধানে দেখা যায়, চরফ্যাশন উপজেলায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে অসংখ্য মালিকানাধীন এম্বুলেন্স৷ খুব সহজেই রোগী আনা-নেয়ার প্রয়োজনে এম্বুলেন্স পাওয়া যায়৷ এখানে পৌরসভা, বিভিন্ন ইউনিয়ন, এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলের মানুষ তাদের প্রিয় স্বজন অসুস্থ হলে প্রথমে চরফ্যাশন সদর হাসপাতালে নেয়ার ইচ্ছা থাকে সবার৷ কিন্তু দেখা যায় এম্বুলেন্সে রোগী আনার পথিমধ্যে উন্নত চিকিৎসা, কমমূল্যে নির্ভুল পরীক্ষা-নিরীক্ষার ও ভালো ডাক্তারের আশ্বাস দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারগণ রোগীকে তার পছন্দের ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যায়৷ এতে প্রতারণার স্বীকার হয়ে অতিরিক্ত টাকা গুনতে হয় সাধারণ রোগীদের৷
হাসপাতালকে ঘিরে রাখা বৈধ-অবৈধ ৩৫টি ডায়াগনস্টিক সেন্টার আর প্রাইভেট ক্লিনিকগুলোর মধ্যে অধিকাংশই রোগী পাওয়ার জন্য কমিশনের বিনিময়ে প্রায় ২০-২৫ টি এম্বুলেন্সের চালক নামের এসব দালাল পুষে রাখেন৷ ভুক্তভোগী আছলামপুর ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ডের মিজানুর রহমান জানান, সরকারি হাসপাতালের উদ্দেশ্যে মাকে নিয়ে রওয়ানা হলেও পথিমধ্যে এম্বুলেন্স ড্রাইভার বিভিন্ন লোভনীয় অফার দিয়ে একটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতে তোড়জোড় শুরু করে৷ তার কথায় ডায়াগনস্টিক সেন্টারে গেলে ৩ হাজার ৫শ টাকার পরীক্ষা করায় মাকে৷ পূর্বে দাম না করে বিলের কাগজ আমাকে দিলে রীতিমতো বিড়ম্বনায় পরি৷ কারণ আমার কাছে এত টাকা ছিলনা৷ অন্যের থেকে ধার করে টাকা পরিশোধ করতে হয় আমাকে৷ এসব অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা তারা ইচ্ছা করে করেছে৷
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নবগঠিত ডায়াগনস্টিক সেন্টার পরিচালনা কমিটির এক কর্মকর্তা এম্বুলেন্স ড্রাইভারদের দালালি কথা স্বীকার করে জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ম-নীতি মেনে কিছু সংখ্যক ডায়াগনস্টিক সেন্টার থাকলেও বাকিদের কাগজপত্র, পরীক্ষার যন্ত্রপাতি, সঠিক প্যাথলজি বা সরকারি নীতিমালার তোয়াক্কা না করেই পরিচালিত হচ্ছে৷ কিছুদিন পূর্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দিয়েছে। এ সকল প্রতিষ্ঠানের জন্য আমাদের সঠিক পথে চলা ভালো কিছু প্রতিষ্ঠানেরও বদনাম হচ্ছে৷ যা মানতে খুবই কষ্টকর৷ আমরা এসব অবৈধ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি৷ এবং ডাক্তারদের কে ওই সকল অবৈধ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিপোর্ট না দেখার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চরফ্যাশনের এক এম্বুলেন্স ড্রাইভার জানান, কিছু সংখ্যক ড্রাইভার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সাথে গোপন ভাবে চুক্তিতে রোগীদেরকে ভুলিয়ে ভালিয়ে নিয়ে আসে৷ তাই বলে সবাই একরকম না এর মধ্যে অনেক ড্রাইভার ভালো আছে।
চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচও শোভন বসাক জানান, এ সকল দালাল চক্রকে প্রতিহত করতে আমরা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছি৷ সাধারণ মানুষ যাতে সরকারি চিকিৎসা সেবা শতভাগ গ্রহণ করতে পারে সেটাই আমাদের কাম্য।
এম,নোমান চৌধুরী, চরফ্যাসন ভোলা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ




























