রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।। নীলফামারীর সৈয়দপুরে কাশিরাম বেলপুকুর ইউনিয়নে ভিজিএফ চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবেদন নিয়ে শুরু হয়েছে লুকোচুরি খেলা। প্রতিবেদন প্রকাশের আগেই ইউপি চেয়ারম্যন এনামুল হক চৌধুরী সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তদন্ত প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে কোন অনিয়ম পাওয়া যায়নি দাবী করলেও গঠিত পৃথক দুটি কমিটিই তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছেন। এছাড়া প্রায় দেড় মাস অতিবাহিত হলেও বিতরণের তালিকা (মাস্টাররোল) জমা দেননি তিনি। এসব অনিয়ম করা হলেও অজ্ঞাত কারনে নেয়া হয়নি তার বিরুদ্ধে কোন আইনী পদক্ষেপ। এতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই এবং হতাশ হয়ে পড়েছেন অভিযোগকারীরা।

তদন্ত সূত্রে জানা যায়, ঈদকে সামনে রেখে ওই ইউনিয়নে ৯ হাজার ৯৯৮ টি কার্ডের বিপরিতে ৯৯ টন ৯৮০ কেজি বরাদ্দ দেয়া হয়। প্রতিটি কার্ডের অনুকুলে ১০ কেজি করে বিতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। গত ২৭ ও ২৮ জুলাই সুবিধাভোগীদের মাঝে বিতরণ করা করা হলেও অবশিষ্ট প্রায় ১২০০ কার্ডধারীদের পরের দিন অর্থাৎ ২৯ জুলাই বিতরণ করা হবে বলে জানিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু পরের দিন পরিষদে তারা চাল নিতে এলে কাছে কার্ড জমা নিয়ে বলা হয় চাল শেষ হয়ে গেছে, আর চাল দেওয়া হবে না। আবার অনেককে প্রতি কার্ডের জন্য নগদ ১০০ টাকা করে দেওয়া কথা বলা হয়। এতে করে বঞ্চিত লোকজন পরিষদের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন।

ঘটনাস্থলে প্রশাসন ও সংবাদকর্মীরা ছুটে গেলে তাদের উপস্থিতিতে জানানো হয় সরকারী খাদ্যগুদাম থেকে চাল উত্তোলন করে পরের দিন (৩০ জুলাই) বিতরণ করা হবে। এ আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে বিক্ষোভকারীরা ঘরে ফিরে যায়। কিন্তু পরের দিন বাজার থেকে নিম্নমানের চাল কিনে এনে মাত্র ২৫০ জনের মাঝে বিতরণ করা হয়। বঞ্চিত সুবিধভোগীরা উপজেলা নির্বাহী বরাবর লিখিত অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে অন্য এলাকার লোকজন, একই ব্যক্তির একাধিকবার নাম এমনকি মৃত্যুর ব্যক্তির নামও বিতরণ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। চাল বিতরণে অনিয়ম এবং অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তিন সদস্য বিশিষ্ট ও এক সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। ২টি কমিটিই চেয়ারম্যানের দূর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে তদন্তে উল্লেখ করেছেন। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।

চেয়ারম্যান এনামুল হক চৌধুরী বলেন, প্রতিবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কোন সিদ্ধান্ত নেয়ার এখতিয়ার নেই। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সঠিক নয় বলেও তিনি জানান। জানতে চাইলে সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও ভিজিএফ চাল বিতরণ কমিটির উপদেষ্টা মোখছেদুল মোমিন বলেন, এর আগেও করোনায় অসহায় মানুষদের জন্য দেয়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপহার বিতরণে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমি উপজেলা চেয়ারম্যান এবং ভিজিএফ চাল বিতরণ কমিটি উপদেষ্টা। তা সত্তে¡ও বিতরণের তালিকা এবং তদন্ত সম্পর্কে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। এ ব্যাপারে নীলফামারী জেলা প্রশাসনের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল মোতালেব সরকার জানান, সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেছে। তবে তদন্তের সাথে চাল বিতরণের মাস্টার রোলসহ কাগজ পত্র পাওয়া যায়নি। তা চাওয়া হয়েছে। পেলেই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ 

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে