জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা।। সরকারি ভাবে গত ৭’ই মে থেকে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়েছে। শেষ হবে চলতি মাসের ৩১’শে আগস্ট। তবে এবার ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ধান-চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাংলাদেশের হাওর অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধানের মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ। এখানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ, সুনামগঞ্জ, সিলেট ও হবিগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলা থেকে ধান কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নৌ-পথে আশুগঞ্জ মোকামে বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসেন। প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এই সব ধান বেচা-কেনা। তবে এবার হাওর অঞ্চলে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান উৎপাদন হয়েছে এবং সেই ধান মোকামেও ভাল বেচাকেনা হচ্ছে। তারপরও মিল মালিকরা এবার চুক্তি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে ধান- চাল সরবরাহ করতে পারছেন না।
ব্যবসায়ীদের দাবি, বাজারে প্রতি কেজি ধানের দর ২৬’টাকার উপরে। বর্তমানে ধানের বাজার অনুযায়ী প্রতি কেজি চাল এখন ৪২’টাকার উপরে কিনতে হবে। ফলে গুদামে ৩৬’টাকা কেজি দরে চাল সরবরাহ করা সম্ভব না। কারন প্রতি কেজিতে ব্যবসায়ীদের কমপক্ষে ৬’টাকার উপরে লোকসান গুনতে হচ্ছে। এমনিতে ও করোনা ভাইরাস পরিস্থিতিতে অনেক মিল বন্ধ ছিল। তার উপর ধানের বাজারদর চাউলের বাজারদরের চেয়ে বেশি।দেশের হাওর অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ধানের মোকাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ব্যাপক পরিমান ধান বেচা কেনা হলেও সরকারি গুদামে ধান-চাল দিতে তেমন কোন আগ্রহ নেই মিল মালিকদের।

মিল মালিকরা দাবি করছেন, ধানের বাজারের সাথে চালের বাজারের কোন মিল নেই। ফলে তারা এবার চুক্তি করেও সরকারি গুদামে ধান- চাল দিতে পারছেন না। তবে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বলছেন চুক্তি মোতাবেক মিল গুলোকে চাল দিতে হবে। নতুবা শর্ত ভঙ্গ করলে মিলবে বিভাগীয় শাস্তি। এই সংক্রান্ত পরিপত্রও জারি করেছে খাদ্য অধিদপ্তর।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে ১৯,১৪৮ মে. টন। যা এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ১১,৭৮১ মে. টন। আর চাল সংগ্রহ করা হবে ৪০,৯৯৫ মে. টন। যা এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ২৪,১৮০ মে. টন।আতপ চাল সংগ্রহ করা হবে ১৪,৩৭২ মে. টন। আর এ পর্যন্ত সংগ্রহ করা হয়েছে ১০,৩৮৮ মে. টন। সরকারি ভাবে ধানের মূল্য ২৬, আতপ চাল ৩৫, আর সিদ্ধ চাল ৩৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই সংগ্রহ অভিযান চলবে চলতি( আগস্ট)মাসের ৩১ তারিখ পর্যন্ত। হাতে সময় আছে ৮ দিন। এই ৮দিন সময়ের মধ্যে বাকি ধান-চাল সংগ্রহ হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা চাতাল কল মালিক সমিতির সভাপতি বাবুল আহম্মেদ জানান, এবার করোনা ভাইরাস প্রাদূর্ভাবের কারনে মিল মালিকদের পিঠ দেওয়ালে ঠেকে গেছে। এ কারনে তিনি ব্যবসায়ীদের প্রণোদনা দেয়াসহ সময় বৃদ্ধি করার জন্য দাবি জানান। এ ব্যাপারে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুবীর নাথ চৌধুরী জানান, চুক্তি মোতাবেক মিলগুলোকে চাল দিতে হবে। শর্ত ভঙ্গ করলে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে তিনি সময় বৃদ্ধি কিংবা প্রণোদনার বিষয়টি জানা নেই বলে জানান।

জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























