ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ (ইউল্যাব) আয়োজিত ৮ম এসএসইএএসআর আন্তর্জাতিক সম্মেলন ২০১৯ এর আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হলো। ১৫ জুন, শনিবার রাজধানীর ধানমন্ডিতে ইউল্যাব মিলনায়তনে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপনী অনুষ্ঠান হয় যেখানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী জনাব এম এ মান্নান ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ দূতাবাসের হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব ক্যানবার হোসেন-বার।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, শেখ হাসিনার সরকার বেশি করে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিয়ে থাকে। আমাদের মুক্তচর্চা করার স্বাধীনতা আছে কারণ আমরা একটি সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতামুক্ত সমাজে বিশ্বাস করি। আমরা সেই আলোকেই আমাদের দেশ এবং সমাজ গড়তে চাই। আমি ইউল্যাবকে আহ্বান করবো এ ধরনের সম্মেলন আরও বেশি করে আয়োজন করতে। আমি বিশ্বাস করি এই ধরনের সম্মেলন থেকে ইউল্যাব এবং এর শিক্ষার্থীরা অনেক লাভবান হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণায় বরাদ্দ বাড়ানোর বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের এ বিষয়টি ভেবে দেখা উচিত। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডির সুযোগ ও গবেষণার বিষয়টি নিয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছেও প্রস্তাবনা পৌঁছে দেওয়ার কথা তিনি বলেন। তিনি জানান,  পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় কিছু অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে। যদি আমরা প্রস্তাবনা পাই, আমরা যাচাই করে দেখি। সামাজিক প্রেক্ষাপট ভিত্তিক গবেষণায় পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সবসময় স্বাগত জানায়। আমি ইউল্যাবের শিক্ষক, শিক্ষার্থীদের তাদের প্রস্তাবনা যাওয়ার অনুরোধ করে বলেন আপনারা প্রস্তাব নিয়ে আসুন, আশা রাখি আমরা বিবেচনা করে অর্থ বরাদ্দ দিতে পারবো।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান আরও বলেন, নদী ও মানুষকে আলাদা করা যাবে না, তাই সম্মেলনের থিম “নদী ও ধর্ম” খুবই  যথাযথ এটা স্বীকার করা করতে হবে। বাংলাদেশে গবেষণার প্রয়োজনের উপর জোর দিয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী আশ্বস্ত করে বলেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে শিক্ষা ক্ষেত্রে আরও তহবিল নিশ্চিত করার দিকে নজর দিবেন। বিশেষ অতিথ  ব্রিটিশ দূতাবাসের হাইকমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) জনাব ক্যানবার হোসেন-বার, গ্রেট ব্রিটেনের সাথে বাংলাদেশের শিক্ষা সম্পর্ক নিয়ে কথা বলেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তার দেশ ভবিষ্যতে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সহজতর করবে।

অনুষ্ঠানে ইউল্যাবের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ সামসাদ মর্তূজা স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন। আরও বক্তব্য রাখেন ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজ এর বিশেষ উপদেষ্টা অধ্যাপক ইমরান রহমান; অধ্যাপক রোসালিন আই. জে. হ্যাকেট, ভাইস প্রেসিডেন্ট, সিআইপিএসএইচ, ইউনিভার্সিটি অব টেনেসি, যুক্তরাষ্ট্র;  ইউল্যাবের উপাচার্য অধ্যাপক ডঃ এইচ এম জহিরুল হকের সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে এই সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি হয়। এই বছরের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য বিষয় হলো “নদী ও ধর্মঃ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সাংস্কৃতিক সম্পর্ক”।

আমিনা আহমেদ, সদস্য, ইউল্যাব বোর্ড অব ট্রাস্টিজ, অধ্যাপক মিলন কুমার ভট্টাচার্য; সম্মেলনের সভাপতি ও ইউল্যাবের সেন্টার ফর আর্কিওলজিক্যাল স্টাডিস এর পরিচালক অধ্যাপক ডঃ শাহনাজ হুসনে জাহান ও এসএসইএএসআর এর সভাপতি অধ্যাপক ডঃ অমরজিভা লোচন এসময় উপস্থিত ছিলেন। এর আগে সম্মেলনে বিশ্বের ৩০ টি দেশ থেকে আগত অংশগ্রহণকারী শিক্ষক ও গবেষকগণ বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর প্রদর্শন করেন। তারা বাংলাদেশের বিশেষ করে ঢাকার প্রাচীন নিদর্শন ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পরিদর্শন করেন।  সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, সম্মেলন পূর্ব ও পরবর্তী  ঐতিহাসিক স্থান ভ্রমণের মাধ্যমে বাংলাদেশের উন্নত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরার মধ্য দিয়ে এই সম্মেলন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত হয়ে উঠে।  

আয়োজকরা মনে করেন ইউল্যাব আয়োজিত এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দেশি ও বিদেশি শতাধিক বিশেষজ্ঞ প্রত্নতত্ত্ববিদ ,ইতিহাসবিদ, নৃতত্ত্ববিদ, সমাজবিজ্ঞানী এবং অর্থনীতিবিদ যারা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ধর্ম ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণা করে, তাদের মধ্যে একটা টেকসই সম্পর্ক ও পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে এবং  বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের মধ্যে একটি সুসম্পর্ক সংযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়েছে যা বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গর্বের। এটি বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করবে বলে আয়োজকদের বিশ্বাস। এমন একটি বৃহৎ সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পেরে ইউল্যাব তথা বাংলাদেশে আগত অংশগ্রহণকারীরা অনেক খুশি। এতো বড় আয়োজন সফলতার সাথে করতে পারায় তারা ইউল্যাব কর্তৃপক্ষকে সাধুবাদ জানান। তারা বাংলাদেশীদের আথিতিয়তার ভূয়সী প্রসংসা করেন।  

এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনে বিশ্বের ৩০ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের  অধ্যাপক ও গবেষকগণ ১৫টি শিরনামের অধীনে ৩৭টি প্যারালাল সেশনের মাধ্যমে মোট ১৭০টি গবেষণা প্রবন্ধ পাঠ  করেন। আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন এই সম্মেলনের মাধ্যমে শতাধিক দেশি ও বিদেশি বিশেষজ্ঞের উপস্থিতিতে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ধর্ম ও সংস্কৃতি বিষয়ক গবেষণায় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে একটি টেকসই ও কার্যকর যোগাযোগ তৈরি হয়েছে যা বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক একাডেমিক পরিমন্ডলে নিজেদের তুলে ধরার জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ। এই সম্মেলনকে সাফল্যমন্ডিত করার জন্য লোকশিল্প মেলা, বই মেলা এবং ইউল্যাবের ছাত্রদের “বাংলাদেশের নদী” শিরনামে আলোকচিত্র প্রদর্শনী ও “ গ্রূপ টেম্পল অব পুঠিয়া” শিরনামে ট্রাডিশনাল ফটো গ্যালারীর আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

সমাপনী অনুষ্ঠানে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-গবেষক এবং ইউল্যাবের বিভিন্ন বিভাগের প্রধান, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।

 নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে