শহিদুল ইসলাম দইচঃ যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা বলেছেন, যবিপ্রবি একটি ছোট বিশ্ববিদ্যালয়, এখানে কোনও প্রো-ভিসি লাগবে না। প্রো-ভিসি নিয়োগ মানেই প্রশাসনিক স্তর বৃদ্ধি। আর এর মানে বিশ্ববিদ্যালয়ের খরচ বাড়ানো। স্বৈরাচারের দোসরকে প্রো-ভিসি করা হলে ক্যাম্পাস অচল করে দেয়ার হুমকি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা । বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রেসক্লাব যশোরে যবিপ্রবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এইসব কথা বলা হয়।
“স্বৈরাচার শেখ হাসিনার দোসর হিসেবে পরিচিত সচিব ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমের স্বামী সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর এফ এম সাইফুল ইসলামকে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো ভিসি বানানোর চেষ্টা চলছে” এমন সংবাদের ভিত্তিতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন যবিপ্রবির কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মেহেদী হাসান সাব্বির।
সংবাদ সম্মেলন বলা হয়, প্রফেসর ডক্টর এফ এম সাইফুল ইসলাম সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন গণতান্ত্রিক শিক্ষক পরিষদের নেতা এবং ক্রপ বোটানি অ্যান্ড টি প্রোডাকশন টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষক। তার স্ত্রী ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুম ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার হিসেবে রাতের ভোটের মূল কারিগর ছিলেন। যার পুরস্কার স্বরূপ তাকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। চাকরির মেয়াদ শেষ হলেও পুরস্কার হিসেবে তাকে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য হিসেবে নিয়োগ পান। শেখ হাসিনার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেই গত বছরের ৮ অক্টোবর ফ্যাসিস্ট সরকারের দোসর হিসেবে ড. মোছাম্মৎ নাজমানারা খানুমকে পিএসসি থেকে বরখাস্ত করে। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, ২০১২ সালে ড. নাজমানারা খানুমের লবিংয়ে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হন ড. সাইফুল। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের প্যানেল থেকে দুইবার (২০১৪-১৬ ও ২০২২-২৪) সিকৃবির সিন্ডিকেট সদস্য নির্বাচিত হন। এছাড়া ২০১৫-১৭ হলে কৃষি অনুষদের ডিনের দায়িত্ব পালন করেন।
ছাত্র নেতৃবৃন্দ দাবি করেন, তার আপন ভায়রাভাই ড. কে এম দেলোয়ার হোসেন যবিপ্রবির বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি। তার বাড়ি গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে। জুলাই বিপ্লব নিয়ে কটুক্তিসহ তার বিরুদ্ধে ফ্যাসিস্টের সহযোগী হিসেবে শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি এখনও বলে বেড়ান, আপা (শেখ হাসিনা) দ্রুতই দেশে ফিরবেন এবং জুলাই বিপ্লবের সমন্বয়কারীসহ আন্দোলনের সমর্থকদের শায়েস্তা করবেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, উপ-উপাচার্য হিসেবে ড. সাইফুলের মত স্বৈরাচারের দোসরকে আমরা কখনোই মেনে নেব না। তাকে উপ-উপাচার্য করা হলে এই ক্যাম্পাস আমরা অচল করে দেবো। তার মত লোককে নিয়োগ দেওয়া মানে দুই হাজার শহীদের রক্তের সাথে বেইমানি করা।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে পিইএসএস বিভাগের হাবিবুর রহমান ইমরান, ইএসটি বিভাগের হাবিব খান, পিইএসএসের ইসমাইল হোসেন, ফুড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাসুদ রানা, ম্যাথমেটিক্সের সুমন আলী, কেমিস্ট্রি বিভাগের আব্দুল খালেক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
যশোর নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইমস নিউজ


























