ইবি প্রতিনিধিঃ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল খেলোয়াড়দের নির্দয়ভাবে পটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়েছে। বুধবার জাবিতে খেলা চলার এক পর্যায়ে ইবির খেলোয়াড়দের ওপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে ইবির সাবেক প্রক্টর ও ক্রীড়া পরিচালকসহ প্রায় ১২ জন আহত হয়েছেন। তাদের দুইজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভার এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এর আগে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হ্যান্ডবল খেলোয়াড়দের মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।জাবিতে অনুষ্ঠিত বঙ্গবন্ধু আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় স্পোর্টস চ্যাম্প-১৯ হ্যান্ডবল বিভাগের সেমিফাইনাল খেলার পূর্ব মুহূর্তে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল খেলোয়াড়দের এ হুমকি দেয়া হয়।

তথ্য মতে জানা যায়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে  বিকেল সাড়ে তিনটার   টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের  বনাম  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হ্যান্ডবল দলের মাঝে সেমিফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। ইবি খেলোয়াদের ফাউলের আবেদনে প্রেক্ষিতে জাবি খেলোয়াড়রা চড়াও হয়। খেলার শেষ পর্যায়ে হঠাৎ করেই একদল শিক্ষার্থীরা লাঠিসেটা, ডাল দিয়ে অতর্কিত  হামলা করে।

এবিষয়ে জাবির ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান জানান খেলার মাঠটি অরক্ষিত ছিলো অল্প সময়ের ভিতরে ঘটনাটি ঘটে , এ ঘটনায় দায়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অত্যন্ত  লজ্জিত। পুরো খেলার ভিডিও ক্লিপ অামাদের হাতে রয়েছে, যারা এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাটি ঘটিয়েছে  তাদের  বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের  শৃঙ্খলা  বিধি অনুযায়ী সব্বোর্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

রোববার বিকেল ৪টায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মাঠে তাদের সাথে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় হ্যান্ডবল টিমের সেমি ফাইনাল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। ওই হুমকি দেয়ার পর খেলা পণ্ড হয়ে যায়। পরে জাবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভয় দিলে বুধবার খেলা শুরু হলে শুরু হয় স্লেজিং। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটে বলে।

এই ব্যাপারে ইবি উপাচার্য ড. রাশিদ আসকারী বলেন খেলার মাঠে একটি বর্বর মামলা। এই হামলার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার জানা নেই। আমরা বিচার চেয়েছি সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন। তারা যদি যথাযথ বিচার না করে আমরা বিচার চেয়েছি ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রনালয় এবং এ্যাসোসিয়েশন অব ইউনিভার্সিটির কাছে। জাহাঙ্গীরনগরে ইবি আর কখনও খেলতে যাবেনা। তারা খেলার মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছে।

এদিকে হামলার খবর ছড়িয়ে পরলে ইবির বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের সামনের মহাসড়ক ঘন্টাব্যাপী অবরোধ করে। পরে প্রশাসনের আশ্বাসে তারা অবরোধ তুলে নেয়। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের হামলার ঘটনায় বিভিন্ন মহলে নিন্দার ঝড় বইছে। তাদের মতে এই ধরনের ঘটনা আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সর্ম্পকের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

প্রিতম মজুমদার
ইবি নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে