ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের টি.এস.সি.সি’র বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান মিলনায়তনে মঙ্গলবার অর্থনীতি বিভাগের আয়োজনে “লিডারশিপ ডেভোলপমেন্ট এন্ড ফিন্যান্সসিয়াল ইনকুলেশন ইন এ ডিজিটাল এরা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. দেবাশীষ শর্মার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি’র বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, বর্তমান পৃথিবী চতুর্থ রেভুলেশনের দিকে যাচ্ছে, সেখানে বাংলাদেশও কোন দিকে দিয়ে পিছিয়ে নেই। বিশ্বায়নের এই যুগে বর্তমানে প্রযুক্তির ছোয়া জীবন ও জগতের প্রতিটি বিষয়ের উপর পড়ছে।

তাই পরিবর্তনশীল বায়োলজিক্যাল ও সোশ্যাল রেভুলেশনের সাথে সুসমন্বয় করে পৃথিবীকে আমাদের বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল ও চৌকস নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ প্রতিদ্বন্দিতা করে একের পর এক সাফল্য ছিনিয়ে আনছে। অচিরেই ভিশন ২০-২১ এবং রুপকল্প-২০৪১ বাস্তবায়িত হলে দেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌছে যাবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, আজকের দিন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনন্য, বিরল একটি দিন। কারন আজকের সেমিনারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান “লিডারশিপ ডেভোলপমেন্ট এন্ড ফিন্যান্সসিয়াল ইনকুলেশন ইন এ ডিজিটাল এরা” শীর্ষক সেমিনারের প্রবন্ধ উপস্থাপন করলেন যা জ্যোতি ছড়িয়ে আমাদের জানার পরিধিকে আরো বাড়িয়ে দিল।

প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান শুধু বাংলাদেশের অর্থনীতিকেই এগিয়ে নিয়ে যাননি তিনি আন্তর্জাতিক অঙ্গণে অর্থনীতির বিকাশে গুরত্বপূর্ণ ভুৃমিকা রেখে চলেছেন। তিনি বলেন, অর্থনীতির জটিল বিষয়গুলো যে এত সহজ ভাবে উপস্থাপন করা যেতে পারে তা প্রধান আলোচক প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান এর প্রানবন্ত বক্তব্য না শুনলে বোঝা যেত না। সেমিনারে প্রধান আলোচক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর প্রফেসর ড. মোঃ আতিউর রহমান তাঁর বক্তব্যে বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য রক্ষা করা সম্ভব হয়নি কিন্তু এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশের ভাগ্য বদলে দিচ্ছে আজ কৃষকের সন্তানেরা। ১৯৭২ সালে দেশে ১ কোটি চাল উৎপাদিত হতো। সেই কৃষকেরা গত বছরে ৩ কোটি ৮০ লক্ষ টন চাল উৎপাদন করেছেন। বর্তমানে সারা পৃথিবী ব্যাপী ছড়িয়ে গেছে কৃষকের সন্তানেরা। তাঁরা সেই মুভুমির দেশগুলো থেকে ১৫শত বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এ দেশে পাঠাচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশে ৪০-৫০ লক্ষ কৃষকের সন্তানেরা গার্মেন্টস শিল্প ও রুপান্তর শিল্পে কাজ করে ৩৭ বিলিয়ন ডলার আয় করেছে। আমাদের দেশের মানুষের হাতগুলো আজ দ্ক্ষ হাতে পরিণত হয়েছে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতির সমস্যা, সম্ভাবনা এবং দ্রুত পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ জাকারিয়া রহমান, সাবেক প্রক্টর ও সিন্ডিকেট সদস্য প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, প্রফেসর ড. মামুন, প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া, প্রফেসর ড. মাহবুবুল আরফিন, প্রফেসর ড. হাবিবুর রহমান, প্রফেসর ড. নাসিম বানু, প্রফেসর ড. অরবিন্দু সাহা প্রমুখ ও অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থীরা। সেমিনারটি উপস্থাপনা করেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক মিথিলা তানজীল।

নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে