ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন এবং রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন ও কেক কাটা অনুষ্ঠানের সভাপতি প্রক্টর(ভারঃ) ড. মোঃ আনিচুর রহমান এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ ও কর্ম ছিল পৃথিবীর সকল ধরনের নিষ্পেষিত মানুষের মুক্তির সনদ।

তাই বাঙালী জাতির মুক্তির অংকুরগম হয়েছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মের মধ্যে দিয়ে। তিনি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়ার অজপাড়াগায় জন্ম গ্রহন না করলে বাঙালি জাতি দীর্ঘদিনের শোষন, ব না হতে মুক্তি পেত না। তিনি পুরো জাতিকে এক করে স্বাধীনতা সংগ্রামে প্রেরন করতে পেরেছিলেন। তার সময়ে অনেক নেতা ছিলেন যেমন হোসেন শহীদ সোরওয়ার্দী , শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক, মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীসহ অনেক বড় মাপের নেতা কিন্তুু তারা কেউই বাঙালি জাতিকে মুক্তির সুনিদিষ্ট আলো দেখাতে পারিনি।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘ ধারাবাহিক আন্দোলন সংগ্রামের পথ ধরে সুদীর্ঘ নয় মাস গনযুদ্ধের মধ্যে দিয়ে তিনি পাকিস্তানি হানাদারমুক্ত করেছিল স্বপ্নের সোনার বাংলাকে। ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, পৃথিবীতে অনেক বড় বড় নেতা রয়েছে যেমন উইনস্টাইন চার্চিল, চীনে মাও সেতুং, জামার্নিতে বিসমার্ক, দক্ষিন আফ্রিকাই নেলসন ম্যান্ডেলা, ইন্দোনেশিয়াই মেঘবতী সুকর্ণপতি, মালোয়েশিয়ায় মাহাথির মোহাম্মদ, ভারতে মাহাত্মা গান্ধি ঠিক তেমনি আমাদের দেশে ইতিহাসের পাতায় স্বর্নাক্ষরে লেখা রয়েছে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাম। তিনি নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আর্দশ ও চেতনায় নিজেদেরকে গড়ে তোলবার জন্য সকলের প্রতি আহবান জানান।

যাতে করে বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনর বাংলায় পরিনত হয় অচিরেই। ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী তাঁর বক্তব্যে নিউজিল্যান্ড মসজিদে হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা, ঘৃণা ও ধিক্কার জানান এবং দোষী ব্যক্তির দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, এই গ্রহ সবার এটা কোন বিশেষ গোষ্ঠী, ধর্ম, বর্ণের মানুষের নয়। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রো ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, যতদিন বাংলদেশ থাকবে ততদিন বাঙালি জাতির মুক্তির দিশারী হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি কাল উত্তীর্ণ মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর স্মৃতি আদর্শ বংশ পরমপরায় চলে যাবে। তিনি দেখিয়েছিলেন যে বাঙালি জাতি বীরের জাতি। তাদেরকে শত বাধা বিপত্তি ঠেকিয়ে রাখতে পারে না।

প্রো ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন মানবিক গুনাবলীতে অতুলনীয়। তিনি শিশুদের অত্যন্ত ভালোবাসতেন। তিনি সাম্প্রদায়িক বিষবৃক্ষ পছন্দ করতেন না সেজন্য তিনি সেসময় সাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী মুসলিম লীগ থেকে বেরিয়ে এসে আওয়ামীলীগ গঠন করেছিলেন। তার দেখানো পথ ধরে বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর তনয় জননেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে আজ উন্নয়নের রোল মডেলে পরিনত করেছে। তার বলিষ্ঠ, সাহসী ও দৃঢ় দক্ষ নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে এসেছে। তাই ভিশণ ২০-২১ এবং রুপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়িত হলে অচিরেই বাংলাদেশ পৃথিবীর কাছে উন্নত দেশ হিসাবে পরিগনীত হবে।

এছাড়া বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, সেসময় একটি শিশুর কন্দন ধ্বনিতে সমস্ত টুঙ্গিপাড়া মুখরিত হয়েছিল। তাঁর কন্দন ধ্বনি ছিল ভিন্নধর্মী। তিনি বাঙালি জাতিকে জানান দিলেন হাজার বছর ধরে তোমরা যে শৃঙ্খলে আবদ্ধ ছিল তা হতে মুক্ত করবার জন্য আমি পৃথিবীতে আসলাম। ছোট সেই শিশুটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠল মুজিব, মুজিব ভাই, শেখ মুজিব এবং বঙ্গবন্ধু পরবর্তীতে জাতির জনক। এজন্য দীর্ঘ ১৪ বছর তাকে কারাবরন করতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধুর বিচক্ষণতা ও উদারতা ছিল অতুলনীয়। তিনি বাঙালি জাতির মনের কষ্টকে উপলব্ধি করতে পারতেন। তাই তিনি তাঁর শৈশব, কৈশর ও যৌবনকে উৎসর্গ করেছিলেন বাঙালী জাতির জন্য। তিনি আশা প্রকাশ করেন কোমলমতি শিশুদের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু চিরদিন বেঁচে থাকবে।

এর আগে সকাল ৯টায় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী এর নেতৃত্বে প্রশাসন ভবন চত্বর হতে এক বর্ণাঢ্য আনন্দ র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালিতে উপস্থিত ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, প্রভোস্ট, প্রক্টর, বিভাগীয় প্রধানসহ সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী এবং ইবি শাখা ছাএলীগের সকল স্তরের নেতা কর্মী ও ছাত্র-ছাত্রীবৃন্দ। আলোচনা সভা শেষে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা এবং রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন করেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ ও প্রক্টর(ভারঃ) ড. মোঃ আনিচুর রহমান।

এছাড়া টিএসসিসি’র বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিবস ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষ্যে কেক কাটা অনুষ্ঠিত হয়। কেক কাটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড হারুন-উর-রশিদ আসকারী, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং বিভিন্ন অনুষদের ডিন, চেয়ারম্যান, প্রভোস্ট, প্রক্টর, শিক্ষক সমিতি নেতৃবৃন্দ, বিভাগীয় প্রধানসহ সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ইবি শাখা ছাএলীগের সকল স্তরের নেতাকর্মীবৃন্দ।

বীরশ্রেষ্ট হামিদুর রহমান মিলনায়তনে আলোচনা সভা, চিত্রাঙ্কন এবং রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন ও কেক কাটা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার, শেখ রাসেল হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. মিয়া মোঃ রাশিদুজ্জামান, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া, টি.এসসিসি’র পরিচালক প্রফেসর মোঃ ইয়াসিন আলী, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, প্রফেসর ড. মাহবুুবুল আরফিন, প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর ড. রেজওয়ানুল ইসলাম, প্রফেসর ড. সেলিনা রহমান, প্রফেসর ড. মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন, প্রফেসর ড. মোহাঃ মেহের আলী, প্রফেসর ড. শাহাদৎ হোসেন আজাদ, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অফিসের পরিচালক(ভারঃ) এইচ এম আলী হাসান, উপ-রেজিস্ট্রার মোঃ নওয়াব আলী খান, শেখ জাকির হোসেন, সাধারন কর্মচারী সমিতির সভাপতি আতিয়ার রহমানসহ সর্বস্তরের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র -ছাত্রীবৃন্দ। চিত্রাঙ্কন এবং রচনা প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরন ও কেক কাটার অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন জনসংযোগ অফিসের উপ- পরিচালক রাজিবুল ইসলাম।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলে হল কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রলীগ এর উদ্্েযাগে কেক কাটা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কেক কাটা ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী, প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা, ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার এস এম আব্দুল লতিফ, প্রক্টর(ভারঃ) ড. মোঃ আনিচুর রহমান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রভোস্ট প্রফেসর ড. তপন কুমার জোদ্দার, শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, সাধারন সম্পাদক প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া, শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি প্রফেসর ড. মাহবুবুর রহমান, ছাত্রলীগ ইবি শাখার সাবেক সাধারন সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমসহ ছাত্রলীগ ইবি শাখার নেতাকর্মীবৃন্দ। পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আত্মার মাগফেরাত ও শান্তি কামনা করে দোয়া মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়
নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে