রাবি প্রতিনিধি।। আমাদের শিক্ষার্থীরা বিদেশীদের থেকে কোন অংশে দূর্বল না কিন্তু আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের সে পরিবেশ দিতে পারিনি। আমরা তাদের ছোটবেলা থেকেই মিথ্যাবলা এবং কপি করা শিখাই । এতে তাদের প্রতিভা বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য করে এসব কথা বলছিলেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ইমেরিটাস অধ্যাপক অরুণ কুমার বসাক। এসময় ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দিয়ে তিনি আরো বলেন “তোমাদের সবার মধ্যেই প্রতিভা আছে কিন্তু তা সুপ্ত তোমরা সে সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করো। মানুষ আজীবন ছাত্র থাকে। তাই একজন ছাত্র হিসেবে বলব, তোমাদের অভিনন্দন যে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি  হতে পেরেছে। শিক্ষার আসল উদ্দেশ্য কী সে সম্পর্কে নবীনদের জানা উচিৎ আর তা হচ্ছে নিজের বিকেক কে তুলে ধরার সক্ষমতা অর্জন করা। মানুষ সত্যের সন্ধান পেলে তারা আরামে থাকতে পারে,  লোভ লালসা থেকে দূরে থাকতে পারে। সবাইকে তিন ক্যাটাগরিতে মানুষকে সম্মান করতে শিখতে হবে। সে তিন ক্যাটাগরি হচ্ছে গর্ভধারিণী মা,দেশ মাতৃকা এবং সমগ্র নারী জাতি কে সম্মান করতে হবে। আমাদের শিক্ষার মাধ্যমে নিজের দূর্বলতাকে চিহ্নিত করতে শিখতে হবে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্পদ কে আমাদের রক্ষা করতে হবে। এটা সাধারণ মানুষের সম্পদ।

রবিবার সকাল ১০ঃ৩০মিনিটে জাতীয় সংগীত ও পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে আনুষ্ঠানিকভাবে নবীনবরন শুরু হয়।অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপাচার্য এম আব্দুস সোবহান।বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্টার ড. এম এ বারী সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা  অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু। এরপর শিক্ষার্থীদের ফুলদিয়ে বরণ করে নেয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহার সভাপতিত্বে এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য চৌধুরী মো. জাকারিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. অরুণ কুমার বসাক, প্রক্টর অধ্যাপক ড. লুৎফর রহমান, জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক ড. প্রভাষ কুমার কর্মকার, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান আল আরিফ প্রমুখ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি অধ্যাপক এম আব্দুস সোবহান নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন আল্লাহ বলেছেন, ‘যে মানুষের কাছে কৃতজ্ঞ না, সে আমার কাছেও কৃতজ্ঞ না’ যারা আমাদের জন্য এদেশ মুক্ত স্বাধীন করেছেন আমাদের তাদের প্রতি কৃতজ্ঞ থাকতে হবে। তোমরা তীব্র প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছো। কারো মেধা কম না। সকলে সমান দিল নিয়ে শিক্ষকদের কথা শুনে না। তোমাদের নিশ্চয় স্বপ্ন আছে। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণের জন্য আমরা কাজ করে যাব। বার বার চেষ্টা করে কেউ কখনওই ব্যর্থ হয় না, এক বার বা দুবার করে কেউ ব্যর্থ হতে পারে। মানুষ স্বার্থের কথা ভেবে কেউ বড় কিছু করতে পারবে না। বিদ্যা অর্জন করে ভালো মানুষ হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছো, তবে বিদ্যা অর্জন করলে শুধু বিদ্যান হওয়া যায় কিন্তু শিক্ষিত হওয়া যায় না। তোমরা তোমাদের শিক্ষকদের প্রতি ভক্তি করবে, বিনয়ী হবে,শ্রদ্ধাবান হবে। কিন্তু বেদ বাক্যের মত যে সব শিক্ষক তোমাদের ভুলপথে পরিচালিত করে তাদের অনুসরণ করো না। নিরপেক্ষ বলে কেউ নেই। তোমাকে সঠিক বা ভুল কোন একটি নির্বাচন করতে হবে। কোন কোন ডিপার্টমেন্ট এ কুপরামর্শ আছে কিন্তু কোন ডিপার্টমেন্ট এ আছে আমি বলবো না। সমস্ত সংগ্রাম ও স্বাধিকার আন্দোলনে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক অবদান আছে কিন্তু তোমরা নিচুমন নিয়ে এখানে থেকে বের হয়ো বা। যিনি বিদ্বান ব্যক্তি তিনি অবশ্যই পরিশীলিত হন। আমরা ভালো রেজাল্ট করবো কিন্তু ভালো রেজাল্ট করতে না পারলে জীবন ব্যর্থ হয়ে যাবে এমনটা না। উচ্চ শিক্ষিত আর উচ্চ বিদ্যানের মধ্যে পার্থক্য আছে। বিদ্যা অর্জনের সনদ দেখানো যেতে পারে কিন্তু তোমরা কেউ শিক্ষিত হওয়ার সনদ কেউ দেখাতে পারবে না। মানুষের জীবন এতো সস্তা না। আল্লাহ মানুষকে তার খলিফা হিসেবে পাঠিয়েছেন না। কাজেই তোমরা সবাই যে স্বপ্ন  নিয়ে এ বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছো সে স্বপ্ন শিক্ষিত ও মানুষের মতো মানুষ  হওয়ার মধ্য দিয়ে পূরণ করো।”

বেলা ১টার দিকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শুরু হয়। এসময় নবিন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে কবিগুরুর  “আনন্দালোকে মঙ্গোলালোক” ও জাতীয় কবির “দুর্গম গিরি কান্তার  মরু দুস্তর পারাবার হে” গান দুটির সাথে সাথে নাচ পরিবেশন করা হয়। এর পর চলতে থাকে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এদিকে স্বাগত বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র উপদেষ্ঠা  অধ্যাপক লায়লা আরজুমান বানু বলেন, “আমি নতুন শিক্ষার্থীদের জানাই উষ্ণ অভিনন্দন। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতীক রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে তোমাদের স্বাগতম। নানা আন্দোলনের বাকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের ত্যাগ ও ভূমিকা ছিল অতুলনীয়। দেশবরেণ্য শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিজ্ঞানীদের বিচরণস্থল মতিহারের এই ক্যাম্পাস।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক  চৌধুরী মো. জাকারিয়া  বলেন, “আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশ করেছি সত্য, আমরা যে তৈল নিয়ে এখানে এসেছি আমাদের সে তৈল যেন পড়ে না যায় সে দিকে আমাদের সতর্ক থাকতে হবে । আমরা তোমাদেরকে  স্বপ্ন দেখাবো কিন্তু সে স্বপ্নের ঝাল তোমাদেরকেই বুনতে হবে। আমাদের প্রত্যেকের জিনে মেধা আছে কিন্তু আমাদের সকলকে সে মেধা বিকাশের চেষ্টা করতে হবে। শিক্ষার সব ক্ষেত্রে তোমাদের পদচারণা থাকবে এটাই কামনা।”প্রক্টর অধ্যাপক এম লুৎফর রহমান বলেন, “তোমাদের আসল অভিভাবক হচ্ছে তোমাদের বাবা-মা কিন্তু এখানে তারা নেই।তাই তোমাদের এখানকার অভিভাবক হচ্ছে তোমাদের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, তোমরা তাদেরকে সর্বোচ্চ মান্য করবে।

এদিকে অনললুষ্ঠানের শুরুতে নবীনদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষার্থী খন্দকার ইবনে শামস এবং মৃৎশিল্প ও ভাষ্কর্য বিভাগের ইসরাত জাহান।

মেশকাত মিশু
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে