ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. রশিদ আসকারী বলেছেন, মানুষের ব্যাক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় এমনকি বৈশ্বিক জীবনে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন রয়েছে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করার।

প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সুশাসন কীভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে হয় সেই দায়িত্বটি সবচেয়ে বেশি বর্তায় লোক প্রশাসনের বিভাগের উপর। একুশ শতকের একটি বাসযোগ্য পৃথিবী বিনির্মাণে সুশিক্ষিত ও দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে হবে। তিনি লোক প্রশাসন বিভাগকে কোয়ালিটি এস্যুরেন্স ম্যাকানিজম পুরোপরি রপ্ত করার পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা উচ্চশিক্ষাস্তরে গবেষণার উপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন। তাই গবেষণার ক্ষেত্রটিকে আরও প্রশস্ত করতে হবে। তদসঙ্গে পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে দেশসেবায় ব্রতী হতে হবে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, তোমাদের তিনটি জিনিস রপ্ত করতে হবে। এক হলো, যে বিষয়ে পডাশোনা করছো, তার লেটেস্ট ট্রেন্ড জানতে হবে। দুই, চারপাশ সম্পর্কে, সমাজ, রাষ্ট্র ও বিশ্বে কী ঘটছে সে সম্পর্কে সাধারণ জ্ঞান রাখতে হবে। নিয়ত পরিবর্তনশীল পৃথিবীর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে। এবং তিন. ইংরেজিতে উপস্থাপনা শৈলীতে দক্ষ হতে হবে।

লোক প্রশাসন দিবস উপলক্ষ্যে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগের আয়োজনে বিশবিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় আজ (৩ মার্চ) তিনি এসব কথা বলেন। দুপুর ১২টায় শুরু এ আলোচনা সভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন। লোক প্রশাসন বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জুলফিকার হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ আলোচনাসভায় সম্মানিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. নাসিম বানু।

আলোচনাসভায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বলেন, লোক প্রশাসন একটি রাষ্ট্রের স্থানীয় সরকার এবং কেন্দ্রীয় সরকার সর্ব ক্ষেত্রেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেকারণে লোক প্রশাসনের স্নাতকরা রাষ্ট্রের সকল স্তরে দক্ষ মানবশক্তি হিসাবে রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে রাষ্ট্র নায়ককে অনেক বেশি সহযোগিতা করার সুযোগ পায়। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধামনমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা উন্নয়নশীল দেশের নাগরিক হয়েছি। ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের নাগরিক হব। ২০৪১ সালে উন্নত জাতি হিসাবে আত্মপ্রকাশ করবো এবং ২১০০ ডেল্টা প্লান বাস্তবায়নের পথে আমরা অগ্রসরায়মান। তিনি আরও বলেন, এই শুভক্ষণে লোক প্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থীরা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সোনালী বাংলা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে নিবেদিতপ্রাণ হতে পারে।

অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, পৃথিবীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংবিধান Ñ বাংলাদেশের সংবিধান। সংবিধান কোন ভুল করেনি । কিন্তু কোন কোন সময় আমরা নিজেরা হয়তো ভুল করে বসি। ভুলের কারণেই সুশাসন এবং গণতন্ত্র কখনও কখনও আমাদেরকে ধরা দিচ্ছে, আবার কখনও দূরে চলে যাচ্ছে, কখনও সমৃদ্ধ হচ্ছে. আবার কখনও অসুস্থ হচ্ছে। সংবিধানে মানবাধিকার, গণতন্ত্র এবং আইনের শাসনের কথা সুস্পষ্টভাবে বলা আছে। তিনি বলেন, আমরা সকলে সংবিধানকে শ্রদ্ধা করব, মেনে চলবো। আলোচনাসভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. এ কে এম মতিনুর রহমান। আরও বক্তব্য রাখেন বিভাগের শিক্ষার্থী রত্না খাতুন।

আলোচনাসভা চলাকালে লোক প্রশাসন বিভাগের কর্মকাÐের উপর নির্মিত একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয। বিভাগের কৃতি শিক্ষার্থীদের চেয়ারম্যান অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও লীডারশীপ অ্যাওয়ার্ডসহ বিভাগীয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় সেরা শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। আলোচনাসভাটি সঞ্চালনায় ছিলেন বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিকুর রহমান ও শাম্মী আক্তার। আলোচনাসভার পূর্বে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে এবং পরে বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে