ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. রাশিদ আসকারী বলেছেন, বাংলা হোক জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা। তিনি বলেন, ২০০৯ সালে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে বাংলা ভাষাকে আন্তর্জাতিকীকরণের জন্য বাংলাদেশের জাতীয় সংসদে তিন-তিনবার প্রস্তাব দেন এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৬৪তম অধিবেশনে তাঁর বক্তৃতায় বিশ্বদরবারের কাছে বাংলাকে জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা করার দাবী জানান।

জাতিসংঘের দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার সকল যোগ্যতা বাংলা ভাষার রয়েছে। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, বাংলা ভাষায় এখন বিশ্বের প্রায় ২’শত ২০’মিলিয়ন মানুষ কথা বলেন। তিনি বলেন, আজ জননেত্রী শেখ হাসিনার কন্ঠে কন্ঠ মিলিয়ে আমরাও বলতে চাই, বাংলাকে করা হোক জাতি সংঘের রাষ্ট্রভাষা। তিনি বলেন, বাঙালির হৃদয়ে রবীন্দ্রনাথ, চেতনাতে নজরুল। বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বাংলা ভাষার দিকপাল। এটাই সকল বাঙালির প্রথম এবং শেষ উপলদ্ধি।

মঙ্গলবার দুপুরে, বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে, “ভাষা ভাবনায় রবীন্দ্র-নজরুল” শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন।  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও জাতীয় দিবসসমূহ উদ্ধসঢ়;যাপন স্যান্ডিং কমিটি ২০১৯’র আহবায়ক প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় প্রধান আলোচক ছিলেন কথাসাহিত্যিক ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের প্রফেসর হাসান আজিজুল হক। সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু চেয়ার প্রফেসর ও বাংলা একাডেমির সাবেক মহা-পরিচালক প্রফেসর শামসুজ্জামান খান প্রধান আলোচকের বক্তৃতায় কথাসাহিত্যিক প্রফেসর হাসান আজিজুল হক বলেন, রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল তাঁদের ছাড়া আমরা বাঙালিরা বাঁচতে পারিনা। আমাদের নিশ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে তাঁরা জড়িয়ে আছেন। তাঁদের কথা, গান, কবিতা, বাঙালিয়ানাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। রবীন্দ্রনাথ তাঁর বিভিন্ন লিখনীর মধ্যদিয়ে বিচিত্র পৃথিবীকে ফুটিয়ে তুলেছেন আর এ জন্যেই তিনি বিশ্বকবির মর্যাদা লাভ করেছেন। তিনি বলেন, বাঙালিত্বের শ্রেষ্ঠ প্রকাশ হচ্ছেন কাজী নজরুল। তিনি বলেন, এই দু’জন কবি বিশ্বের যে বিদ্যা-শিক্ষার উচ্চতা সেখানে আমাদেরকে নিয়ে গেছেন।

সভায় বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, আমাদের বাংলা ভাষার যে ছন্দ, মাধুর্য এবং সৌন্দর্যবোধ তা সমৃদ্ধশালী করেছেন কবি রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল। আমরা মুলত তাদেরকেই অনুস্মরণ করে চলেছি। তিনি বলেন, ভাষা ভাবনায় রবীন্দ্র-নজরুলের কৃতিত্বের কোন সন্দেহ নেই। অপর বিশেষ অতিথি প্রফেসর শামসুজ্জামান খান বলেন, সৃষ্টিকর্তা যাকে যে ভাষায় সৃষ্টি করেছেন তার কাছে সে ভাষা অমূল্য রতন। তিনি বলেন, আমাদের বাংলাকে বিশ্বপর্যায়ে নিয়ে
গেছেন রবীন্দ্রনাথ এবং নজরুল। আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, আমরা ভাষার স্বাধীনতা পেয়েছি ভাষা শহীদদের রক্তের বিনিময়ে। তিনি বলেন, ভাষার স্বাধীনতা পেয়েছিলাম বলেই ৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণে সাড়া দিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে আমরা স্বাধীন দেশ পেয়েছি। তাই আমি মনেকরি বাংলা ভাষা অর্জনের মধ্যদিয়েই বাঙালির সকল অর্জনের সূচনা হয়েছে।

ল’এন্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের প্রভাষক সাহিদা আখতারের সঞ্চালনায় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবুল আরফিন এবং ইংরেজি বিভাগের প্রফেসর ড. মিয়া মোঃ রসিদুজ্জামান। জাতীয় সংগীতের মধ্যদিয়ে সভার সূচনা করা হয়। এদিকে আলোচনা সভার পূর্বে “বাংলা মঞ্চে” আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ও মহান একুশে স্মরণে ফিতা কেটে ৩দিনব্যাপী বই মেলা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী)। উদ্বোধন শেষে ভাইস চ্যান্সেল, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর ও ট্রেজারারসহ অতিথিবৃন্দ বই মেলার স্টল ঘুরে ঘুরে দেখেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইমস্ নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে