মাগুরা প্রতিনিধি/শেখ ইলিয়াস মিথুনঃ মাগুরার শ্রীপুর ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহার বিরুদ্ধে কলেজের জায়গার গাছ বিক্রি ও দোকান ঘর হস্তান্তর করে প্রায় দেড় কোটি টাকা আত্নসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

লিখিত অভিযোগে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের স্মারক নং-০৩.০০১.০০০.০০.০০.০১.২০১৬-৬৩, তারিখ ১৭.০৮.২০১৬. ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের স্মারক নং- ৩৭.০০.৪০.০৭০.০২.০৪৪.২০১৬-৭৭৭, তারিখ ১৮/০৮.২০১৬. যাহা স্মারক নং- ৭এ/ ৯সি-২/২০১৩/৬৬৯৪ খ্রি: তারিখে ২৮.০৮.২০১৬ গনপ্রাজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার,মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর, বাংলাদেশ, ঢাকা কর্তৃক জারিকৃত শ্রীপুর ডিগ্রি কলেজ জাতীয় করনের লক্ষে নিয়োগ, স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ হস্তান্তর ও অর্থ ব্যয়ের উপর নিষেধাজ্ঞা আদেশ জারি করেন।

উপরোক্ত নিষেধাজ্ঞার ২৮.০৮.২০১৬ খ্রি: তারিখের পরে শ্রীপুর ডিগ্রী কলেজ মার্কেটের ৩০ টির অধিক দোকান ঘর অধ্যক্ষ নির্মাল কুমার সাহার স্বাক্ষরিত চুক্তি পত্রে হস্তান্তর করেন। প্রমান হিসাবে ২টি দোকান হস্তান্তরের চুক্তি পত্রে দেখা যায়, একটির থেকে ৩’লাখ ৪৬’হাজার টাকা গ্রহন করে ৩০/০৩/২০১৭ তারিখে হস্তান্তর করেন করেন। অপর একটি দোকান ঘর বাবদ ৪ লাখ টাকা গ্রহন করে ৩০/০৪/২০১৭ ইং তারিখে হস্তান্তর করেন। দোকান ঘর বরাদ্ধ দিয়ে তিনি ১’কোটির অধিক টাকা অবৈধ্যভাবে উপার্জন করেছেন।

এছাড়াও আশির দশকে রোপন কৃত ৭০টির অধিক শেগুন, মেহেগনি ও শিশু কাঠগাছ ৪৫ লক্ষাধিক টাকায় বিক্রয় করেছেন মর্মে অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু তিনি অবসর প্রাপ্ত ৩ জন শিক্ষকের বকেয়া পাওয়া বেতনের ১৫’লাখ ৯৯’হাজার টাকা বারবার আবেদন করার পরও প্রদান না করায় অর্থ অভাবে উক্ত শিক্ষকগন মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

বিপ্লব হোসেন নামক এক ব্যাক্তির নিকট হতে, তার স্ত্রী মারিয়া কিবতি কে শ্রীপুর ডিগ্রী কলেজে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগে প্রভাষক পদে চাকুরি দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহা ৪ লাখ টাকা গ্রহন করেন। চাকুরি না দেয়ায় ফলে উক্ত টাকা ফেরত পাওয়ার জন্য মাগুরা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত-১ আমলী আদালতে বিপ্লব হোসেন বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন। মাগুরা সি,আর ৬০০/১২ নং মামলায় মাগুরা জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট-২(ভার:) তদন্ত কর্মকর্তার প্রতিবেদন অনুযায়ী অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায় বলে উল্লেখ করেন।

অভিযোগে আরোও জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের জন্য কোন প্রার্থীর শিক্ষা জীবনে তৃতীয় বিভাগ গ্রহন যোগ্য নয়। কিন্তু নির্মল কুমার সাহা ডিগ্রী পাশ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে তেঁজগাও কলেজ হতে ১৯৮৭ সালে স্নাতক (পাশ) ৩য় বিভাগে উর্ত্তীন হয়েছেন।

নির্মল কুমার সাহার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি বিধি অনুযায়ী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ পদে নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা কোনটাই পূরণ হয়নি। ইতিপূর্বে তিনি নহাটা কলেজিয়েট গার্লস স্কুলে অধ্যক্ষ পদে নিয়োগও বিধি বর্হিভূত ছিল। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জারিকৃত ২৪/১০/১৯৯৫ তারিখের শা: ১১/বিবিধ ৫/৯৪(অংশ-৬)/৩৯৫নং স্মারকে কাঠামো বিধি অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক মহাবিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ নিয়োগের শিক্ষাগত যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা দ্বিতীয় শ্রেনি অনার্সসহ দ্বিতীয় শ্রেনির স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং সকল পরিক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ থাকিতে হইবে অথবা প্রথম শ্রেনীর স্নাতকোত্তর ডিগ্রিসহ সকল পরিক্ষায় দ্বিতীয় বিভাগ থাকিতে হইবে। সহকারি অধ্যাপক পদে মহা বিদ্যালয়ে ৫ বছরের অভিজ্ঞাসহ মোট ১২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকিতে হইবে। কিন্তু নির্মাল কুমার সাহা নাজির আহমেদ কলেজে ৫/১০/১৯৯৩ খ্রি:তারিখে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। ১/১১/২০০৪ খ্রি: তারিখে নাজির আহমেদ ডিগ্রি কলেজ থেকে প্রভাষক হিসাবে ছাড়পত্র গ্রহন করেন। সহকারী অধ্যাপক না হয়ে ১১ বছর ৫ মাস ২১ দিনের অভিজ্ঞতা দেখিয়ে একই দিনে তিনি নহাটা কলেজিয়েট গার্লস স্কুলে অধ্যক্ষ পদে যোগদান করেন।

এই প্রতিষ্ঠানেও তার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ নিয়োগের বিধি অনুযায়ী যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা কোনটাই পূরণ হয়নি। এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ নির্মল কুমার সাহার সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, কতিপয় ব্যক্তি উদ্দেশ্যমুলক ভাবে তার বিরুদ্ধে এ সকল অভিযোগ তুলেছে।

শেখ ইলিয়াস মিথুন,
মাগুরা নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে