ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (ড. রাশিদ আসকারী) বলেছেন, উদ্ভাবন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার সূচক।
মানসম্পন্ন উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে এ বিষয়গুলো আমাদেরকে গুরুত্ব দিতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। ঠিক এমনি একটি সময় আমরা শিক্ষা পরিবারের সদস্যরা সরকার কর্তৃক নির্দেশিত এবং আমাদের উদ্ভাবিত দুই পক্ষের সমন্বয়ে উচ্চ শিক্ষায় বিপ্লব ঘটাবার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত। তিনি বলেন, এই জাতীয় অনুষ্ঠান, আমাদের মানুষ গড়ার কারিগর যারা শিক্ষা ক্ষেত্রে রয়েছেন এবং তাদের সহায়তার জন্য যেসকল কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন উভয়ের সাথে সরকারের পক্ষে যারা শিক্ষামন্ত্রণালয় এবং ইউজিসিতে কাজ করছেন তাদের ভাব বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করেছে।
এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে মাইল ফলক হয়ে থাকবে। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা একজন স্বপ্নদ্রষ্টা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের নেত্রী। ২০০৮ সালের নির্বাচনে তিনি পরিবর্তনের সনদ নিয়ে জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে নিরঙ্কুশ বিজয়ের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করেছিলেন। আর তখন থেকেই তিনি পরিকল্পনা এবং ছকভিত্তিক উন্নয়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্বাচনী ইস্তেহারে ভিশন ২০০০-২০২১ আমরা দেখেছি। যা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষা নীতির কথা আমরা জেনেছি।
পরবর্তীতে নানা পরিকল্পনার মধ্যদিয়ে ভিশন ২০০০-২০২১ এবং জাতীয় শিক্ষা নীতি বাস্তবায়নের চেষ্টা চলমান রয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, স্বল্প মেয়াদী, মধ্যম মেয়াদী ও দীর্ঘ মেয়াদী নানাবিধ পরিকল্পনা এবং তা সফল বাস্তবায়নের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশ নির্ধারিত সময়ের আগেই একটি উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে। আমরা আশাবাদী এভাবে যদি চলতে থাকে, তাহলে নির্ধারিত সময়ের আগেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হবো। এছাড়াও ভিশন ২০৪১ এর আগেই আমরা উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত হবো। ড. রাশিদ আসকারী বলেন, বর্তমান সরকার কর্তৃক গৃহীত উন্নয়ন রূপরেখাসহ বিশেষ করে উচ্চশিক্ষারমাণ উন্নয়নের রূপরেখার সাথে আমরা যুক্ত হয়ে একটি উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থায় কাজ করতে অঙ্গীকারাবদ্ধ।
আজ শনিবার সকালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে, প্রশাসন ভবনের সভাকক্ষে দিনব্যাপী “বার্ষিক কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা : পরিপ্রেক্ষিত ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়” শীর্ষক কর্মশালা ২০১৯ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তৃতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে যে চলমান উন্নয়ন, সেই উন্নয়নের সাথে তাল মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষারমান উন্নয়নে আমরা বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। আর এরই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য বার্ষিক কর্মসম্পাদন ব্যবস্থা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার যোগ্য নেতৃত্বের ফলেই বাংলাদেশ আজ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়েছে। আমরা যদি উন্নয়ন ধারা অব্যহত রেখে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে যেতে চাই সেক্ষেত্রে শুদ্ধাচার কৌশল অবলম্বন করতে হবে। তিনি বলেন, একে-অপরের নিকট দায়বদ্ধতার মধ্যদিয়ে আমাদের কাজ করে যেতে হবে। তাহলে আমাদের লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যে সুন্দর ও সঠিক ভাবে সম্পন্ন হবে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভার:) এস এম আব্দুল লতিফ। রিসোর্স পারসন হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপ- সচিব মোহাম্মদ কামরুল হাসান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপ-সচিব জাকিয়া পারভীন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা (বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ-২) সিনিয়র সহকারী সচিব আর এইচ এম আলাওল কবির এবং ইউজিসি’র রিসাপা বিভাগের সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফোকাল পয়েন্ট, এপিএ এবং উপ-রেজিস্ট্রার (প্রশাসন) মোঃ নওয়াব আলী খান।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে রিসোর্স পারসনগণ বার্ষিক কর্মসম্পাদন ব্যবস্থাপনা বিষয়ের উপর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। দিনব্যাপী এ সেমিনারে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদীয় ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, হল প্রভোস্ট, অফিস প্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। সর্বশেষ ’ধন্যধান্যে পুস্পেভরা আমাদের এই বসুন্ধরা‘ উপস্থিত সকলের কন্ঠে এই গানটি গাওয়ার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ























