ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেছেন, বসন্তকে বাঁচাতে হলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ মোকাবেলা করতে হবে। তিনি বলেন, একুশ শতকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়ণ। এটা মোকাবেলা না করতে পারলে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মাত্রা সহনীয় পর্যায়ে না আনতে পারলে আমাদের ঋতুরাজ বসন্ত হারিয়ে যাবে।

ড. রাশিদ আসকারী বলেন, আমরা বসন্ত উৎসব পালন করি কিন্তু উৎসব পালনের পাশাপাশি বসন্তের যে প্রকৃতি, এটি যাতে বিপন্ন না হয় এবং ক্রমাগত বিলীন হয়ে না যায় সে বিষয়ে আমাদের সচেতনতা বৃদ্ধির এবং কিছু কর্তব্য কর্মের আবশ্যকতা রয়েছে। তিনি বলেন, হাজার বছরের বাঙালি-ইতিহাসে আমাদের একটি গৌরবের বিষয় হলো, আমাদের দেশের মতো ঋতু বৈচিত্র পৃথিবীর আর কোন দেশে নেই। তিনি বলেন, আমাদের প্রতিটি ঋতুর রয়েছে নিজস্ব রূপ, রস, গন্ধ এবং রয়েছে আলাদা-আলাদা পরিবর্তন ও বৈশিষ্ট। বলেন, ছয় ঋতুর রূপ, রস এবং গন্ধ আমাদের পূর্বসূরীরা উপভোগ করেছেন। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য যে, বর্তমানে একুশ শতকের পৃথিবীতে আমাদের সন্তানেরা ঋতুর এই স্বাদ পায়না।

ড. রাশিদ আসকারী বলেন, প্রকৃতি যদি কাউকে মোহিত ও প্রাণীত করতে না পারে তাহলে সে কখনো বড় লেখক, সাহিত্যক হয়ে উঠতে পারে না। তিনি বলেন, কংক্রিটের জঙ্গলে বসে হয়তোবা জীবনকে উপভোগ করা যায়, কিন্তু জীবনের অর্থ বোঝা সেটা ব্যর্থতার সামিল হয়ে দাঁড়াবে। ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, আমাদের বাংলা বিভাগ ২০০৭ সালে হতে প্রতি বছর নিয়মিত বসন্ত উৎসব উদ্ধসঢ়;যাপন করে চলেছে। এটা একদিন ইতিহাস হয়ে দাঁড়াবে। নিয়মিত এ আয়োজন করায় বাংলা বিভাগকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

আজ বুধবার সকালে বাংলা বিভাগের আয়োজনে, ক্যাম্পাসস্থ বাংলা মঞ্চে, বসন্ত উৎসবের আলোচনাসভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ড. রাশিদ আসকারী এসব কথা বলেন। বাংলা বিভাগের সভাপতি প্রফেসর ড. মোহাঃ সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনাসভায় বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, প্রকৃতির দিক থেকে বসন্তকে ঋতুরাজ বলা হয়। আমাদের যতগুলো ঋতু আছে তার মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর, মানুষের জন্য বন্ধু পরায়ন এবং অত্যন্ত আনন্দের ঋতু হচ্ছে বসন্ত। বসন্ত সুবাতাস দেয়, মানুষকে আনন্দ দেয়, মানুষের কষ্টকে নিঃশ্বেষ করে দেয় এবং মানুষের জীবন ফুলে- ফলে সুশোভিত করে তোলে। তাই বসন্তকে আমরা বলি সুসময়। তিনি বলেন, বসন্তের মধ্যদিয়ে আমাদের যে বাঙালিয়ানা, সেই বাঙালিয়ানায় নিজেদেরকে গড়ে তুলতে পারি, নিজেদেরকে আত্মপ্রকাশ করতে পারি এবং নিজেদের জীবনটা সব সময় সুসময়ে ভরপুর করে রাখতে পারি।

ড. শাহিনুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ভবনে প্রথম বসন্ত উৎসব উৎযাপন করা হয়। আজ দেশব্যাপী সকল ধর্মের, বর্ণের এবং গোত্রের মানুষ ব্যাপক আয়োজনের মধ্যদিয়ে এদিনটি উদযাপন করছে। এর থেকে আমরাও পিছিয়ে নেই। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়েও বাংলা বিভাগের আয়োজনে নিয়মিত এদিনটি উদযাপন করা হচ্ছে। এজন্য বাংলা বিভাগকে জানাই আন্তরিক ধন্যবাদ।

বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মোঃ বাকী বিল্লাহ বিকুলের সঞ্চালনায় আলোচনাসভায় বক্তব্য রাখেন বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ সরওয়ার মুুর্শেদ রতন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন বসন্ত উৎসব উদ্ধসঢ়;যাপন কমিটির আহবায়ক ও বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ রবিউল হোসেন। আলোচনা শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নাটিকা “অবাধ জল পান” মঞ্চায়িত এবং “অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ” শীর্ষক ক্যারিয়োগ্রাফি প্রদর্শন করা হয়। এর পূর্বে রবীন্দ্র-নজরুল কলা ভবন থেকে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি ক্যাম্পাসের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বাংলা মঞ্চে শেষ হয়।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে