ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মিলনায়তনে সোমবার সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন দেশবরেন্য অর্থনীতিবিদ ও ঢাকা স্কুল অব ইকনোমির চেয়ারম্যান এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমদ একথা বলেন। তিনি বলেন আমরা হলাম ভাটির দেশের মানুষ।

নদীর উজানে যদি বাঁধ বা অন্য কোন ভাবে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ যদি আটকানোর চেষ্ঠা না করা হয় তবে নদীগুলো মরে যাবে না। তিনি বলেন অভিন্ন নদী ব্যবস্থাপনা হবে একসঙ্গে। একটি নদীর উৎপত্তিস্থল হতে শেষ পর্যন্ত সেসব দেশের উপর দিয়ে নদীগুলো প্রবাহিত হয় সেই সব দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে নদীর পানি সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনের জন্য। তিনি তাঁর বক্তব্যে আরো বলেন আমরা শুধু প্রকল্পের কথা বলি কিন্তুু সেই প্রকল্পের সাথে সংশ্লিষ্ট মানুষের কথা চিন্তা করি না। আমাদেরকে সঠিক মানুষ হতে হবে কথা ও কাজের মধ্যে দিয়ে। প্রথমত মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারন করতে হবে এবং সেই চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হয়ে দেশ ও জাতি গঠনে সকলকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে দেশকে কাঙ্খিত উন্নতির শিখরে পৌছানোর জন্য। সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন আমরা পৃথিবীতে যত বড় বড় নদী দেখি তাঁর মধ্যে দক্ষিন আমেরিকার আমাজান নদী অন্যতম এই আমাজান নদীকে কেন্দ্র করে পৃথিবীর অনেক বিরল জীব বৈচিত্র ও প্রজাতি বেঁেচ আছে। উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেন পৃথিবীতে ভুগর্ভস্থ পানি সবচেয়ে বেশি মজুদ আছে কানাডায় আর সবচেয়ে কম পানির মজুদ আছে কাতারে। সঠিক পানি ব্যবস্থাপনা না হলে জীব বৈচিত্র হারাবে, প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিনষ্ঠ হবে দেশে দেশে খরা, অনাবৃষ্টি ও দুরভিক্ষ দেখা দেবে। তিনি আরো বলেন পৃথিবীতে কোন কারনে যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধে তা হবে শুধুমাত্র পানির জন্য অন্য কোন কারনে নই

। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিভারাইন পিপলের মহাসচিব ও দৈনিক সমকালের সহকারী সম্পাদক শেখ রোকন। ‘রোল অব ইউনিভার্সিটি টু প্রমোট রিভার ইকনোমি’ শীর্ষক সেমিনারটিতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার প্রফেসর ড. মো. সেলিম তোহা, পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মোঃ কামাল উদ্দিন, অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মোঃ আব্দুল মুঈদ এবং পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ জসিম উদ্দিন। সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পরিসংখ্যান বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আলতাফ হোসেন রাসেল। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রওশন আরা সেতু। সেমিনারে নদী অর্থনীতি বিনষ্ট হওয়ার কারণ এবং তা পুনরুদ্ধারে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণ শিক্ষার্থীরা কী করতে পারে এ বিষয়ে আলোচনা ও সুপারিশ গৃহীত হয়।

সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান, প্রফেসর মোহাম্মদ মামুন, প্রফেসর ড. আলমগীর হোসেন ভুঁইয়া, প্রফেসর ড. জাকারিয়া রহমান, ছাত্রলীগ ইবি শাখার সভাপতি শাহিনুর রহমান শাহিন, সাধারন সম্পাদক জুয়েল রানা হালিমসহ অর্থনীতি ও পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্র-–ছাত্রী ও ছাএলীগ ইবি

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে