জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার নবীনগরে নৌকার বিরুদ্ধে ভোট দিলে ৫লাশ ফেলে দেওয়ার বক্তব্য দিয়ে ভাইরাল হওয়া সেই ছাত্রলীগ নেতাকে খুজছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, সেই ছাত্রলীগ নেতা মোবাইল বন্ধ করে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। এর আগে উপজেলার পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর বিরুদ্ধে কেউ ভোট দিলে ৫টি লাশ পড়ার হুমকি দিয়েছিলেন প্রার্থীর ভাতিজা ও ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম।এর আগে, বৃহস্পতিবার (২৫ নভেম্বর) রাতে স্থানীয় লাপাং স্কুল মাঠে আওয়ামী লীগ প্রার্থীর সমর্থনে অনুষ্ঠিত সভায় প্রকাশ্যে এই হুঁশিয়ারির একটি ভিডিও ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এই বক্তব্য ওই ছাত্রলীগ নেতার বলে নিজেই স্বীকার করেছিলেন তিনি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী ২৮ নভেম্বর নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সহ ৪ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ থেকে বর্তমান চেয়ারম্যান ফিরোজ মিয়া মনোনয়ন পেয়েছেন। স্বতন্ত্র প্রার্থী নূর আলমও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। কিন্তু স্থানীয় ভাবে জনপ্রিয়তা কম থাকায় দলের মনোনয়ন তিনি পাননি। বৃহস্পতিবার রাতে নৌকা প্রতিকের সমর্থনে ইউনিয়নের লাপাং স্কুলে এক সভার আয়োজন করা হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক কাজী মোর্শেদ হোসেন কামাল। সভায় আওয়ামী লীগের মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী ফিরোজ মিয়ার ভাতিজা ও ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম তার বক্তব্যে বলেন,’প্রশাসন কাজ করুক বা না করুক- নৌকার বিরুদ্ধে যদি একটা ভোটও কাটে, ওই ওয়ার্ডে পাঁচটা লাশ পড়বে ইনশাল্লাহ। লিডার ছাত্রলীগ তো, আবেগে চইলা আসছে। ইনশাল্লাহ নৌকার বিপক্ষে কেউ ভোট কাটতে পারবে না। আমরা শক্ত হাতে প্রতিবাদ করব’। তার এই বক্তব্যের একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে।

এদিকে, হুমকি দেওয়া ওই ইউপি ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলমের একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিতে দেখা যায় তার হাতে চাপাতি ও হাতে বল্লম। এই ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যায় নবীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুর রশিদ জানান, ‘ওই ছাত্রলীগ নেতা এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। তাকে গ্রেফতার করতে এক প্লাটুন পুলিশ মাঠে কাজ করছে। তার মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করা হয়েছে, তা তার অবস্থান শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ’। এদিকে, শুক্রবার সকালে নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি আশরাফুল আলম নিজের বক্তব্য বলে স্বীকার করে বলেন, ‘আমাদের সভা চলাকালে পাশের চিত্রী গ্রামে নৌকার বিপক্ষে ভোট কাটা হবে বলে খবর পেয়েছিলাম, তাই মুখে এমন কথা এসে গেছে। আসলে বয়স অল্প তো, বিবেকের তাড়নায় তখন বলে ফেলেছি-নৌকার বিপক্ষে যদি কেউ ভোট কাটতে আসে দরকার হলে পাঁচটা লাশ ফেলব। আবেগে বলে ফেলেছি, নিউজ না করলে খুশি হব’।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে