ওমর ফয়সাল, ফটিকছড়ি, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি।। ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ নাজিম উদ্দীন মুহুরী নিজেই গুম-খুন ও চাঁদাবাজির মুল হোতা বলে অভিযোগ তুলেছেন উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা হোসাইন মুহাম্মদ আবু তৈয়ব।
রবিবার (২৯ আগস্ট) বিকালে নাজিরহাটে একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা আওয়ামী লীগের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন এ অভিযোগ করেন তিনি। আবু তৈয়ব বলেন, ২৮ আগস্ট এক সংবাদ সম্মেলনে নাজিম উদ্দীন মুহুরী দলীয় নেতাকর্মী খুনের ঘটনায় আমাকে জড়িয়ে যেসব বক্তব্য দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা-বানোয়াট। প্রকৃত সত্য হলো নাজিম মুহুরী নিজেই একজন খুনী ও চাঁদাবাজ। ৮০/৯০ দশকে খোরশেদ, ইলিয়াস, মাসুদ, শাহেদ সহ দলের বেশ কিছু নেতাকর্মী হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তিনি। সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক ফোনালাপে ২০-২২টি হত্যা মামলার আসামী বলে নিজেই স্বীকার করেছেন নাজিম মুহুরী।
জেলা ছাত্রলীগে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু তৈয়ব বলেন, ৮০ দশকে নাজিম মুহুরী আমার কর্মী ছিল। তখন ছাত্রলীগের নাম ভাঙ্গিয়ে চাঁদাবাজি, দখলবাজি, ছিনতাই, ডাকাতি, নারী ধর্ষণ সহ এমন কোনো অপকর্ম নাই, যা তিনি করেননি। এছাড়া, তাঁর বাবা শামসুল আনোয়ার ওরফে লেঙ্গা শামসু একজন আওয়ামী বিদ্বেষী। তিনি ৭৫ সালে লেলাংয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা আহমদ ছাফার বাড়ীতে বঙ্গবন্ধুর জেয়াফত অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধুকে ফেরাউন বলে আখ্যায়িত করে তাঁর জেয়াফতের খাবার লাথি মেরে ফেলে দিয়েছিলেন।উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তৈয়ব আরো বলেন, আমি ছাত্রজীবন থেকে আজ পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নিবেদিত প্রাণ সৈনিক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি।
রাজনীতি করতে গিয়ে অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। এমনকি জামায়াত-শিবির আমার ভাইকে নির্মম ভাবে খুন করেছিল। অথচ নাজিম মুহুরী বলেছে আমি নাকি দলের বিরুদ্ধাচরণ করি। প্রকৃত পক্ষে দলের দায়িত্ব থেকেও বিগত সংসদ নির্বাচনসহ বিভিন্ন নির্বাচনে নৌকার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করেছেন তিনি। নাজিরহাট পৌরসভা নির্বাচনে নৌকার বিপক্ষে গিয়ে টাকার বিনিময়ে বিএনপি প্রার্থীকে জিতিয়েছেন। যা পরবর্তীতে প্রকাশ্যে স্বীকারও করেছেন এই মীর জাফর।
এ সময় জাল সার্টিফিকেটধারী নাজিম মুহুরী সাধারণ সম্পাদক হওয়ার পর থেকে টাকার বিনিময়ে বিএনপি-জামায়াত ও অনুপ্রবেশকারীদের পদ-পদবী দিয়ে সংগঠনকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন উল্লেখ করে, ফটিকছড়ি আওয়ামী লীগের অযোগ্য ও ব্যর্থ কমিটি ভেঙে দিয়ে যোগ্য ব্যক্তিদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দিতে দলের সভাপতি শেখ হাসিনার প্রতি জোর দাবী জানান উপস্থিত নেতৃবৃন্দ।সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক তৌহিদুল আলম বাবু, প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা খায়রুল বশর চৌধুরী, উপজেলা আ.লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শাহ আলম সিকদার, সহ-সভাপতি দিদারুর বশর চৌধুরী দুদু, দপ্তর সম্পাদক এস.এম শামসুদ্দীন, সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাম্মদ শাহনেওয়াজ, মহিলা সম্পাদিকা সাজেদা ছাফা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান জেবুন্নাহার মুক্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ইব্রাহীম তালুকদার, জয়নাল আবেদীন, আওয়ামী লীগ নেতা হোসেন তালুকদার, বুলবুল মাস্টার, নুরুল আলম কাঞ্চন, জুলফিকার আলী ভুট্টু, জয়নাল আবেদীন, যুবলীগ নেতা মীর মোরশেদুল আলম, আক্কাস আলী, মুহাম্মদ হাসান, ইফতেখারুল ইসলাম রাসেল, ছাত্রনেতা ইমতিয়াজ ইয়াকুব সহ আওয়ামী লীগ, অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম)নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ



























