ওমর ফয়সাল, ফটিকছড়ি(চট্টগ্রাম)।।
চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মন্দাকিনী এলাকা থেকে মো: আজম (২৮) নামে এক মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের গলা কাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (২ জুন) সকালে হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বড় চৌধুরী বাড়ি ঘাটার নিজ দোকান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আজম ওই এলাকার নজর মো: চৌধুরী বাড়ির বীর মুক্তিযোদ্ধা মৃত শামসুল আলমের পুত্র।

পারিবার ও স্থানীয় স‚ত্রে জানা যায়, মুক্তিযোদ্ধা শামসুল আলমের তিন ছেলে, এক মেয়ের মধ্যে আজম তৃতীয়। এলাকায় শান্ত-শিষ্ট ছেলে হিসেবে পরিচিত আজম পড়াশোনা শেষ করে বিগত ১০ বছর ধরে পার্শ্ববর্তী বড় চৌধুরীঘাটা এলাকায় মুদি দোকান করে আসছেন। নিয়মিত বাড়িতে রাত্রি যাপন করলেও মাঝে মধ্যে দোকানেও ঘুমাতেন তিনি। মঙ্গলবার সকালে বাড়িতে থেকে এসে আর যাননি। রাতে ঘর থেকে পাঠানো খাবার খেয়ে দোকানেই ঘুমিয়ে পড়েন তিনি। প্রতিদিন সকাল ৬টার দিকে দোকান খুললেও বুধবার সকালে দীর্ঘক্ষণ হয়ে যাওয়ার পরও ঘুম থেকে না উঠায় পাশের দোকানের লোকজন এসে তাকে ডাকতে থাকে। দীর্ঘক্ষণ ডাকাডাকির পর কোনো সাড়া শব্দ না পেয়ে বাড়ীতে খবর দেয়া হয়। পরে স্বজনরা এসে বাহিরে থেকে ভিতর থেকে তালাবদ্ধ থাকায় ছাদের টিন খুলে ভিতরে প্রবেশ করে আজমের গলা কাটা লাশ দেখতে পায় তারা। পরে হাটহাজারী মডেল থালা পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে। খবর পেয়ে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‍্যাব-৭ ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর পৃথক টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। পরে লাশের সুরতহাল শেষে মর্গে প্রেরণ করে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো কিরিচ উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে রাতের কোনো এক সময় আজমকে জবাই করে মৃত্যু নিশ্চিত করে পালিয়ে যায় হত্যাকারীরা।

নিহত আজমের মা জানান, ধলই ইউনিয়নের মাস্টার বাড়ি থেকে পারিবারিক ভাবে আজমের জন্য কনে ঠিক করা হয়েছে। আগামী ১৮ জুন তাদের বিয়ের তারিখ নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সে বিয়ে করা হয়নি। এর আগেই আমার ছেলেকে দুনিয়া থেকে বিদায় করে দিয়েছে খুনীরা। তিনি আরো বলেন, আজম বা আমাদের পরিবারের সঙ্গে কারো শত্রæতা ছিল না। কেন এভাবে আমার ছেলে হত্যা করা হয়েছে বুঝতে পারছি না। তবে গত দুই বছর আগে একদিন রাতে দোকানে ঘুমানোর সময় কে বা কারা দোকানের টিন খুলতে চেয়েছিল বলে জানিয়েছিল আজম। ছেলে হত্যার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে হত্যাকারীদের ফাঁসি দাবী করেছেন তার মা। এ ব্যাপারে হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে আলামত গুলো জব্ধ করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিকভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। হত্যার কারণ উদঘাটনে আমরা কাজ করছি।

ফটিকছড়ি নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে