জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।।
গত ২৬-২৮ মার্চ হেফাজত ইসলামের কর্মী-সমর্থক দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনকে অতিদ্রুত সংস্কার করে পুনরায় ট্রেনের যাত্রাবিরতির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। সেই সাথে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হেফাজত নেতাকর্মীদের গ্রেফতার ও দ্রুত মেরামত করে পুনরায় ট্রেনের যাত্রাবিরতির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসী। এই দাবি আদায়ের লক্ষ্যে মঙ্গলবার(১’লা জুন) দুপুরে সচেতন ব্রাহ্মণবাড়িয়া বাসীর ব্যানারে প্রচন্ড বৃষ্টি -বাদলকে উপেক্ষা করে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে বিভিন্ন শ্রেণিপেশার কয়েক হাজার মানুষ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সাহিত্য একাডেমির সভাপতি দেশ বরেণ্য কবি জয়দুল হোসেনের সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মনির হোসেনের সঞ্চালনায় উক্ত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াহিদ খান লাভলু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন জামি, সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন, জেলা চেম্বারের সহসভাপতি শাহআলম, পৌরসভার প্যানেল মেয়র হোসনে আরা বাবুল, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও সাধারণ সম্পাদক শাহাদাৎ হোসেন শোভন প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকদের চালানো তাণ্ডবের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাধারণ মানুষ আজ দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। রেলস্টেশনে কোনো ট্রেন যাত্রাবিরতি না করায় দুর্ভোগ হয়েছে দ্বিগুন। এছাড়া পূর্বাঞ্চল রেলপথের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এ স্টেশন থেকে রাজস্ব আয় থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। সেজন্য মানববন্ধনকারীরা দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশনটি দ্রুত সংস্কার করে সব ট্রেনের যাত্রাবিরতি পুনরায় চালু করা অতীব জরুরি। এছাড়া তাণ্ডবের ঘটনায় হেফাজতে ইসলামের জেলা কমিটির সভাপতি মাওলানা সাজিদুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক মুফতি মুবারক উল্লাহকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তারা। বুধবার জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ আরও নানা কর্মসূচি বাস্তবায়নের কথাও জানান তারা।

প্রসঙ্গত উল্লেখ যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে গত ২৬ থেকে ২৮ মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ব্যাপক তাণ্ডব চালায় হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকরা। তারা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা চালিয়ে ভাঙচুর,লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। এ ঘটনার পর ২৭’শে মার্চ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশনে সব ট্রেনের নির্ধারিত যাত্রাবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত ঘোষনা করা হয় এবং তা এখন ও বহাল রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে