
জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা।। নানা জাতের রসালো ফলের মধ্যে লিচু একটি। এ বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় গত বছরের চেয়ে বেশি জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে। ২০২০ সালে এ জেলায় ৪৫৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছিল। গত বছর উৎপাদন ও বাজার দর ভালো পাওয়ার কারণে এ বছর ৫১০ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার লিচুর ফলনও ভালো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলার সীমান্তবর্তী তিনটি উপজেলায় বেশিরভাগ লিচুর চাষাবাদ হয়। অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার লিচুর বাজার দরও ভালো পাওয়া গেছে। জেলার তিনটি উপজেলায় ৪৯৫ হেক্টর ও জেলার অন্যান্য উপজেলায় ১৫ হেক্টর জমিতে এ বছর লিচুর আবাদ করা হয়েছে। জেলা কৃষি বিভাগ বলছে, চলতি বছর ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার প্রায় সাড়ে ১৫’কোটি টাকার লিচু বিক্রি হবে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বিজয়নগর উপজেলায় ৩৭৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে।
সীমান্তবর্তী এ উপজেলায় উৎপাদিত লিচু সুস্বাদু হওয়ায় দেশ-বিদেশে তার খ্যাতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে এ বাজারের লিচু কিনে নিয়ে যায়। এখানকার উৎপাদিত লিচুর মধ্যে পাটনাই, বোম্বাই, চায়না-২ ও চায়না-৩ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও জেলার সবচেয়ে বড় লিচুর হাট বসে বিজয়নগরের আওলিয়া বাজারে। প্রতিদিন ভোররাত ৩টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত জমে লিচুর হাট। পাইকারদের পদচারনায় বেশ জমজমাট হয়ে ওঠে লিচুর এ হাট আর ভিড় ও হয় প্রচুর। প্রতিদিন প্রায় ৩০ লাখ টাকার লিচু বিক্রি হয় উক্ত হাটে । গত বছর এ বাজারের লিচু বিক্রি থেকে সরকার রাজস্ব পেয়েছিল ১৩ কোটি টাকা। উপজেলার পাহাড়পুর ইউনিয়নের সেজামোড়া গ্রামের লিচু চাষি নাজমুল হাসান বলেন, ‘আমার লিচু বাগানটি সাড়ে ৩ বিঘা জমির ওপর। গত ৫-৭ বছর যাবত আমি বাগানটিতে লিচু চাষাবাদ করে আসছি।
কৃষি বিভাগের সহায়তায় এ বছর ভালো ফলন হয়েছে। প্রতিদিন বিকেলে লিচু গাছ থেকে পেড়ে পরদিন ভোরে স্থানীয় আওলিয়া বাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। এছাড়াও বাগানে প্রচুর ক্রেতা আসেন লিচু কিনতে।। সিলেট থেকে আসা পাইকার আলাউদ্দিন মিয়া বলেন, ‘এ অঞ্চলের লিচু অত্যন্ত সুস্বাদু। এছাড়াও উত্তরবঙ্গ থেকে যে লিচু আনা হয়, তা সিলেট যেতে যেতে অনেকটা মান নষ্ট হয়ে যায়। দামে ও মানে আমাদের চাহিদার মধ্যে হওয়ায় বিজয়নগর থেকেই প্রতিবছর লিচু কিনে সিলেটের বাজারে নিয়ে যাই।’ বিজয়নগর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জুনায়েদ আল সাদী বলেন, ‘এ বছর বিজয়নগরে ৩৫০ হেক্টরের বেশি জমিতে লিচু চাষ করা হয়েছে। এ বছর লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে। আমরা কৃষকদের সব ধরনের সহায়তা দিয়েছি। বৃষ্টিপাত কম এবং তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় বাগানগুলোয় সেচ দেওয়ার চেষ্টা করেছি। এ সময় পানির অভাব বা বৃষ্টি বেশি হলে লিচু ফেটে যায়। আমরা আগাম ব্যবস্থা নেওয়ায় লিচু বাম্পার ফলন হয়েছে।’ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক রবিউল আলম বলেন, ‘কৃষি বিভাগ মৌসুমের প্রথম দিক থেকেই কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জেলার ৪২০টি বাগানে ১,৫৩০ মেট্রিক টন লিচুর ফলন হবে বলে প্রত্যাশা করছি। যার বাজারমূল্য দাঁড়াবে ১৫ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























