জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সংবাদদাতা।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের বিচার চাওয়া সেই হেফাজত নেতা মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী নিজেই ঐ সহিংসতায় সাথে সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন আদালতে।জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন জানান, রোববার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মোঃজাহিদ হোসেনের আদালতে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

২৬’শে থেকে ২৮’শে মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তাণ্ডবের প্রতিবাদ এবং জড়িতদের বিচার চেয়ে গত ২৩’শে এপ্রিল হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য পদ এবং জেলা কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে পদত্যাগ করেন আব্দুর রহিম কাসেমী।

এদিকে, ঐ তাণ্ডবে মদদ দেওয়ার অভিযোগে গত ৪ মে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ভাদুঘর থেকে পুলিশ  আব্দুর রহিম কাসেমীকে গ্রেপ্তার করে। এরপর তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয় ও ২ নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। গত ২৭’শে মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার এসআই মিজানুর রহমান বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ৫ হাজার জনকে আসামি করে মামলাটি দায়ের করেছিলেন। এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, তাণ্ডবের ঘটনায় আব্দুর রহিম কাসেমী নিজের দায় স্বীকার করেছেন।

জেলা ডিবির ওসি মো. লোকমান হোসেন বলেন, আব্দুর রহিম কাসেমী তার দোষ স্বীকার করে যাদের নির্দেশে সরকারি অফিস ভাঙচুর করা হয়েছে তাদের নাম ও প্রকাশ করেছেন। গত ২৬’শে থেকে ২৮’শে মার্চ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের কর্মী সমর্থকরা  তাণ্ডব চালিয়ে  ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলওয়ে স্টেশন, পুলিশ সুপারের কার্যালয়, খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানা, জেলা পরিষদ কার্যালয়, জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, পৌরসভা কার্যালয়, পৌরমিলনায়তন, সদর উপজেলা ভূমি অফিস ও আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনসহ বেশ কয়েকটি সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় হামলা অগ্নিসংযোগ করে। এ সব ঘটনায় ৫৬টি মামলা দায়ের হয়েছে। এ মামলাগুলোয় আসামির সংখ্যা ৪১৪ জন, আর অজ্ঞাতনামা আসামির সংখ্যা ৩৫ হাজারেরও বেশি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে