শাহীন রেজা, কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি।। কুষ্টিয়া শহরের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পূর্ব পাশের কুষ্টিয়া কালেক্টরেট স্কুল এন্ড কলেজের দক্ষিণের রাস্তা সংলগ্ন ১২/৩১ নং টিনশেডের বাড়ির উত্তর অংশের একটি ফ্ল্যাট সাথী ও তমাল দম্পতির কাছে ভাড়া দিয়ে বিপাকে পড়েছেন বাড়ির মালিক পিয়ারুল ইসলাম। ভাড়াটিয়া তমাল ও সাথির স্থায়ী ঠিকানা ২৪ সতীশ চন্দ্র লেন, থানাপাড়া কুষ্টিয়াতে। তবে উক্ত বাড়িটির দক্ষিণ অংশে ভাড়া নিয়ে বসবাস করছেন একজন শিক্ষক। গত ০১/০১/২০২০ তারিখে উক্ত দম্পতির কাছে মাসিক ৪০০০ টাকা ভাড়ায় বাড়িটির উত্তর দিকের অংশ তাদের কাছে ভাড়া দেন। উক্ত দম্পতি সাথী ও তমাল ভাড়া নেওয়ার পর থেকে উক্ত এলাকায় মরণনেশা ইয়াবায় সয়লাব করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তা এলাকাবাসী সকলেই জানেন। তাদের মাদক ব্যবসার বিষয়টি বাড়ির মালিক পিয়ারুল জানতে পারলে তিনি বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন। পিয়ারুলের গ্রামের বাড়ি মিরপুর থানার নওদা কল্যাণপুর গ্রামে। পিয়ারুল ইসলাম তিনি এইচ এন্ড এস ফ্যাক্টরিতে চাকরী করেন।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে শুরু হয় রাস্তার উপর দাঁড়িয়ে জানালা দিয়ে তার ইয়াবা ব্যবসার লাইন। এলাকাবাসী এটাও বলেন, আমরা তাদের এই মাদক ব্যবসার ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখে আমাদের সন্তানদেরকে নিয়ে আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছি। কখন না জানি আমাদের সন্তানরা মাদকে জড়িয়ে পড়বে। এবিষয়টি জানাজানি হলে বাড়ির মালিক ভাড়াটিয়া সাথী ও তমালকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার কথা বললে তারা বাসা ছাড়তে নারাজ। বরং উল্টো বাড়ির মালিকের কাছে টাকা পাবে বলে উকিলের মাধ্যমে লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে মাদক ব্যবসায়ী ওই দম্পতি।
বিষয়টি নিয়ে বাড়ির মালিক পিয়ারুলের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রতিবেদককে সবকিছু খুলে বলেন যে, আমি তাদের কাছে বাসা ভাড়া দেওয়ার পর থেকে তারা আমাকে নিয়মমতো বাসা ভাড়া প্রদান করে না। এ পর্যন্ত তাদের কাছে আমি ৭ মাসের বাসা ভাড়া ও ইলেকট্রিক বিল প্রায় তিন হাজার টাকা পাবো।এই মর্মে কুষ্টিয়া সদর মডেল থানায় তাদের বিরুদ্ধে পরপর দুইবার ৩০/১২/২০২০ ও ০৩/০২/২০২১ তারিখে অভিযোগ দায়ের করেছি। কিন্তু কুষ্টিয়া মডেল থানা থেকে আগত দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তারা তদন্তে এসে তাদের মুখের কথা শুনে চলে যান। বিষয়টির কোনো সুরাহা করতে পারেন নাই কুষ্টিয়া মডেল থানার পুলিশ। উক্ত বিষয়টি নিয়ে এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের দিয়ে একাধিকবার বৈঠক করাও হয়েছে বলে বাড়ির মালিক প্রতিবেদককে জানান। তিনি এটাও বলেন বাসা ছেড়ে দেয়ার কথা ও ভাড়া চাইতে গেলে ভাড়াটিয়া সাথী তিনি বিভিন্ন রকমের প্রাণনাশের হুমকি-ধামকি প্রদান করে বলেন আপনারা থানায় যান। উপর মহলে আমার লোক আছে পারলে আমাকে এখান থেকে উঠায়ে দেখেন আপনাদের কত বড় ক্ষমতা।
অন্যদিকে বাড়ির মালিক পিয়ারুল ইসলামকে ফাঁসাতে কুষ্টিয়া জজ কোর্টের এক বিজ্ঞ আইনজীবীর মাধ্যমে মাদক ব্যবসায়ী সাথী মৌখিক চুক্তির কথা উল্লেখ করে গত ২০/০১/২০২১ তারিখে একটি লিগ্যাল নোটিশ পাঠিয়েছে। উক্ত লিগ্যাল নোটিশে লিখা আছে বাসা ভাড়া নেওয়ার সময় তিন বছরের মৌখিক চুক্তির বিনিময়ে ৫০০০০ টাকা বাড়ির মালিক পিয়ারুলকে জামানত প্রদান করি। মৌখিক আর্থিক চুক্তির বিষয়টি যে আইনের আওতায় পড়েনা সেটা বোধ হয় ভুলে গেছেন বিজ্ঞ আইনজীবী। উক্ত আইনজীবীর জুনিয়ারের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা হলে তিনি বলেন মৌখিক চুক্তি কোন আইনের আওতায় আসে না। কোন ডকুমেন্টস ব্যতীত কাউকে লিগ্যাল নোটিশ দেয়ার অধিকার আমাদের নেই বলে তা অকপটে স্বীকার করলেন। তবে আমার সিনিয়ার ডকুমেন্ট ব্যতীত কেন যে লিগ্যাল নোটিশ দিল এটা আমি জানি না। এ বিষয়ে আরও বেশ কয়েকজন বিজ্ঞ আইনজীবীর সঙ্গে কথা হলে তারাও একই কথা বলেন, ডকুমেন্ট ব্যতীত আমরা কারো বিরুদ্ধে লিগ্যাল নোটিশ দিতে পারিনা।
উক্ত বাড়িটির মালিক পিয়ারুল ইসলাম তিনি একজন সৎ ও নিরীহ ব্যক্তি হাওয়াই উক্ত মাদক ব্যবসায়ী ভাড়াটিয়াদের সঙ্গে বাকবিতন্ডা করতে নিজেকে না জড়িয়ে নিরবে তার সম্মান বাঁচাতে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রধানদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই সেই সাথে ওই মাদক ব্যবসায়ীকে বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে তাদেরকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হোক।
কুষ্টিয়া নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্স নিউজ


























