চরফ্যাশন(ভোলা)প্রতিনিধি।। ভোলার চরফ্যাশন আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় চরফ্যাশন জেনারেল হাসপাতালের নামে রেকর্ডীয় অন্যের জমি  দখলের পায়তারা চলছে৷ এ ব্যাপারে গত ১৯জানুয়ারি ২১ তারিখে  জমির প্রকৃত মালিকানা দাবি করে আবু জাহের তালুকদার বাদি হয়ে চরফ্যাশন যুগ্ন জজ (২য়) আদালতে মোঃমিজানুর রহমান,ইকবাল হোসেন, দিলারা বেগম, মোস্তাফিজুর রহমান ও নাজমা বেগমকে বিবাদী করে ১৮-১-২১ তারিখে পৃথক ৪ দলিলে ৩৫.৫০ শতাংশ জমির দলিল বাতিলের জন্য দেওয়ানী ৫৫-২০ইং মোকদ্দমা দায়ের করেন৷
বিরোধীয় জমিতে গত ২৬ জানুয়ারি বিবাদীরা  প্রভাব বিস্তার করে জমি নিয়ে চলমান মামলা গোপন রেখে স্থানীয় সংসদ সদস্যকে দিয়ে চরফ্যাশন জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি সেবামুলক প্রতিষ্ঠানের নামফলক  উম্মোচনে বাধ্য করায়৷ এ ব্যাপারে সংসদ সদস্যের কাছে মামলার সকল কার্যক্রম গোপন রাখা হয়েছিল৷
এরপর বিরোধীয় জমিতে জোড়পূর্বক  পাকা স্থাপনা বন্ধে  মামলার বাদি আবু জাহের তালুকদার (২৮ জানুয়ারি) বৃহস্পতিবার চরফ্যাশন যুগ্ম জজ আদালতে  আদেশের জন্য একটি আবেদন করেছেন৷ মামলার বিবরনে জানা যায় ১৯৫৯ সালে তৎকালীন বরিশাল ২য় সাব জজ আদালতে দেওয়ানী মোকাদ্দমা ২৩৭-৫৯ ইং সনে মুকবুল আহম্মেদ খান ও আবুল হাশেম মাস্টার কে বিবাদী করে সন্তোষ কুমার গং রা বাদী হয়ে ১৫ একর ০৭ শতাংশ জমি ৩০-৯-৫৯ ইং সনে ২৩৭-৫৯ ইং মোকাদ্দমায় চুড়ান্ত রায়ে  ডিগ্রী অনুবলে মুকবুল আহম্মদ খান ও আবুল হাশেম মাস্টারের নামে ৫৪ ধারায় ৩৫৭১এফ-৫৯ মিসকেইচে বিগত ২রা জানুয়ারি ১৯৬১ সনে এস,এ ২৮০ নং খতিয়ানে ১৫ একর ৭ শতাংশ জমি আট আনা অংশ হারে মুকবুল আহম্মদ খান ও আবুল হাশেম মাস্টারের নামে রেকর্ড হয়৷
এরমধ্যে এলএ কেইসে ৪৭- ৬৪-৬৫ ইং সনে চরফ্যাশন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নামে ৩ একর জমি অধিগ্রহন করা হয়৷ পাউবির নামে একুজেশনের পরে ৩ একরের জমির টাকা মুকবুল আহাম্মদ খান ৩০-০২-৬৬ ইং তারিখে ৯০৮১ নং চেকের মাধ্যমে গ্রহন করেন৷   উক্ত জমির ১৯৬০ সনে  মুকবুল আহম্মদ খান ৩টি সাফ কবলা দলিলে ২ একর জমি নিজাম উদ্দিন গং দের নিকট  বিক্রি করে।এবং আরও কিছু দলিলে তিনি ও তার ওয়ারিশগন বাকি জমি বিক্রি করে নিঃশর্তবান হয়ে যায়।
মকবুল আহাম্মদ এর মৃত্যুর পর তার স্ত্রী জয়গুন বিবি কে ১৫.০৭ একর জমির মালিক দাবী করে৷ মামলার বাদি আবু জাহের তালুকদার বলেন, উক্ত জমির মালিকানা স্বত্ব নেই মুকবুল আহম্মদ খানের কোন ওয়ারিশদের৷ তাছাড়া আমাদের বিক্রিত জমির দলিল ও মিজান দিলারা গং দের আগের। অপরদিকে এই জমির এ ভুয়া দলিল এর সকল দাতাগন ২০০৭.২০০৮ ও ২০০৯ সালে হাসেম মাস্টার এর  ওয়ারিশদের নিকট থেকে ৩টি দলিলে কিছু জমি খরিদ করেন।
তারা কি করে অন্য কাউকে এ জমির মালিক দাবী করে? মামলার পরে অতি সম্প্রতি প্রধান বিবাদি  নজরুল ইসলাম খান মিন্টু মারা যাওয়ার পর উক্ত জমিতে অন্যান্য বিবাদি তৎপর হয়ে ওঠে৷ পরে গত ২৬ জানুয়ারি চরফ্যাশন জেনারেল হাসপাতাল নামে একটি  নামফলন উন্মোচন করে বিরোধীয় ও চরফ্যাশন আদালতে মামলা চলমান অবস্থায় কিছু ক্ষমতাশীন ব্যক্তির ছত্রছায়ায় জমি দখলের অনর্থক পায়তারা চালাচ্ছে বলেও ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন৷

জেলা ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে