ওমর ফয়সাল, ফটিকছড়ি প্রতিনিধিঃ হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী বলেছেন, ইসলামে ভাস্কর্যের কোনো বৈধতা নেই। ভাস্কর্য নির্মাণ স্পষ্ট হারাম ও শরিয়ত বিরোধী। সুতরাং আমার বাবার ভাস্কর্যও যদি কেউ বানায় প্রথমে আমিই তা টেনে হিচড়ে ভেঙে ফেলবো। আলেম-ওলামারা যদি ভাস্কর্যের বিরুদ্ধে কথা না বলে তাহলে সাধারণ মানুষ মনে করবে এটা জায়েজ। হালালকে হালাল এবং হারামকে হারাম মনে করতে হবে। নতুবা ঈমান থাকবে না, ধ্বংস অনিবার্য। ইসলামে ভাস্কর্য নির্মাণ স্পষ্ট হারাম, তাই ওলামায়ে কেরামগণ এর বিরুধীতা করছেন। আর সাধারণ মানুষকে হালাল-হারাম সম্পর্কে অবগত করাই আলেমদের কর্তব্য।
কতপিয় বিপথগামী নাস্তিক ও কুচক্রী মহল আলেম-ওলামাদের নিয়ে বিরূপ মন্তব্য করছে উল্লেখ করে হেফাজত আমীর বলেন, খবরদার, আলেম-ওলামাদের নিয়ে কথা বলতে হলে মুখ সামলে কথা বলবেন। আলেমগণ নবীর ওয়ারিস। ওলামায়ে কেরামের সাথে যারা বেয়াদবী করবে তৌহিদি জনতা তাদের জিহবা টেনে ছিড়ে দিবে। এদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ, হক্কানী আলেমদের প্রতি তাদের অফুরন্ত ভালোবাসা রয়েছে। কিছু কুচক্রী মহল এ সম্পর্ককে বিনষ্ট করতে চায়। মুসলমানরা ঐক্যবদ্ধ থাকলে ঐসব কুচক্রী মহল, নাস্তিক্যবাদী শক্তি ও তাদের দোসররা পালানোর পথ খোঁজে পাবে না বলেও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন জুনায়েদ বাবুনগরী।
তিনি শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার নাজিরহাট পৌরসভার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত দেশের প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী ইসলামী শিক্ষা ও গবেষণা কেন্দ্র আল জামিয়াতুল আরবিয়া নছিরুল ইসলাম নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার ১১০ তম দুইদিন ব্যাপী বার্ষিক ইসলামী মহাসম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে শুরু হওয়া দুই দিনব্যাপী এ ইসলামী সম্মেলনের প্রথম দিবসে বাবুনগর মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী এবং দ্বিতীয় দিবসে মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও শাইখুল হাদীস মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী সভাপতিত্ব করেন।
মাদ্রাসার মুহাদ্দিস মুফতি আব্দুল হাকিম কাসেমীর স ালনায় অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী এ ইসলামী মহাসম্মেলনে দারুল উলূম হাটহাজারী মাদ্রাসার প্রধান পরিচালক মুফতিয়ে আজম আব্দুস সালাম চাটগামী, পটিয়া মাদ্রাসার মহাপরিচালক মুফতি আবদুল হালিম বোখারী, আল্লামা নূরুল ইসলাম জিহাদি, মুফতি ফখরুদ্দিন ফেনী, আল্লামা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, মুফতি নোমান ফয়েজি, মাহমুদুল হাসান ফতেপুরী, আল্লামা কাসেম ভূজপুরী, আল্লামা হাফেজ জাফর আহমদ, হাফেজ জাকারিয়া আল আজহারী, আল্লামা হাবিবুল্লাহ নদভী, আল্লামা মুফতি নজরুল ইসলাম কাসেমী, ড. আ.ফ.ম খালিদ হোসেন, খোরশেদ আলম কাসেমী, হাবিবুল্লাহ মাহমুদ কাসেমী, আল্লামা মেরাজুল হক ঢাকা, মুফতি কামাল উদ্দিন ঢাকা, মাওলানা আবদুল মতিন ধর্মপুরী, মুফতি এরশাদ উল্লাহ জিরি, মাওলানা নাসির উদ্দিন মুনির, মাওলানা হাজ্বী ইউসুফ, মাওলানা আনিসুর রহমান মেখলী, আল্লামা আনোয়ার শাহ, মাওলানা আইয়্বু, মুফতি রবিউল হাসানসহ দেশ বরণ্যে ওলামা-মাশায়েখ ও ইসলামী স্কলারগণ কোরআন-সুন্নাহর আলোকে সমসাময়িক বিষয়ে আলোচনা করেন।
শুক্রবার বিকালে বাবুনগর মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতে ইসলামের প্রধান উপদেষ্টা আল্লামা মহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর আখেরী মোনাজাতের মধ্যদিয়ে দুইদিন ব্যাপী এ মাহফিলের সমাপ্তি ঘটে। এর আগে জুমার নামাজে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশগ্রহণ করেন।এদিকে, ঐতিহ্যবাহী নাজিরহাট নাজিরহাট বড় মাদ্রাসার ১১০ তম বার্ষিক মাহফিল সকলের সরব অংশগ্রহণ ও সার্বিক সহযোগীতায় শান্তিপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হওয়ায় জামিয়ার মহাপরিচালক মুফতি হাবিবুর রহমান কাসেমী, সহযোগী পরিচালক মাওলানা ইয়াহিয়া ও সহকারী পরিচালক হাফেজ ইসমাইল এলাকাবাসী ও মাদ্রাসার ছাত্র-শিক্ষকদের প্রতি বিশেষ ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেছেন।
জেলা ডেস্ক ।। বিডি টাইমস নিউজ




























