জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় শিক্ষক বাবা-মা পেলেন কলাগাছের গোড়ায় পাওয়া’একটি শিশুকে। কুড়িয়ে পাওয়া শিশুটি ছেলে। এর আগে ঐ শিক্ষক পরিবার একটি মেয়ে সন্তান কে পালিত সন্তান হিসেবে নিয়েছিলেন।

কুড়িয়ে পাওয়া ছেলে শিশুটি যখন কাদঁছিলেন তখন ঐ মমতাময়ী মা শিক্ষক নিজের অনুভূতিরও জানান দিচ্ছিলেন, ‘না না, কাঁদে না।’ শিশুটিকে ফিডারে করে দুধ খাওয়ালেন মায়ের মত করে আগলে রাখা পারভীন আক্তার। গত চার দিন তিনি শিশুটিকে দেখভাল করছিলেন।

পরম মমতা ভরা এই শিক্ষক মা শিশুটিকে বুকে আগলে রেখেছেন নিজের সন্তানের মত করে। একটু যেন মনমরা হয়েছিলেন পারভীন কয়েক মিনিটের জন্য। আর শিশুর কান্নায় কষ্টের অনুভূতি ব্যক্ত করা সেই মায়ের মুখে যেন রাজ্য ভরা হাসি ফিরে এল। পালক নেওয়া মেয়েসন্তানের পর এবার তারা ‘কুড়িয়ে’ পেয়েছেন ছেলেসন্তান। শিক্ষক ‘মা’ নতুন এ ছেলে সম্পর্কে জানালেন, স্বভাবের সঙ্গে মিল রেখে এ সন্তানের নাম রাখা হবে শান্ত। পুরো নাম মো. জায়ান রশিদ শান্ত। বাড়িতে সে নাবিলা রশিদ নামে একজন বোন পাবে শান্ত। শিশুটিকে নিয়ে যাওয়া দম্পতি প্রায় ১৮ বছর আগে বিয়ে করলেও এখনো পর্যন্ত তারা নিঃসন্তান রয়েছেন।

দুপুরে শিশুটিকে আদালতের নির্দেশে নতুন বাবা-মায়ের কাছে তুলে দেওয়া হয়। ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. শওকত হোসেন শিশুটিকে নতুন বাবা-মায়ের হাতে তুলে দেন। পরে সদর থানায় প্রক্রিয়া শেষে শিশুটিকে ঐ শিক্ষক পরিবার বাড়ি নিয়ে যায়। গত ২৯’শে নভেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার বাসুদেব ইউনিয়নে কলাগাছের গোড়ায় পাওয়া যায় প্রায় ছয় মাস বয়সী ঐ শিশু ছেলেটিকে। সেদিন সন্ধ্যায় সেখানকার পারভীন আক্তার নামে এক নারী তার বাড়ি থেকে কান্না শুনে শিশুটিকে নিয়ে যান। এরপর সবার পরামর্শে ৩০ নভেম্বর শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানে নার্সদের সঙ্গে পারভীন আক্তার নামে ঐ নারীও শিশুটিকে দেখাশোনা করতেন।

শিশুটিকে নেওয়ার জন্য অনেকেই থানায় ও হাসপাতালে যোগাযোগ করেন। এরই মধ্যে পৃথক দুই সরকারি কলেজের সহকারী অধ্যাপক দম্পতি নিয়ম অনুসারে পাঁচ লাখ টাকার বন্ডে শিশুটিকে নেওয়ার আবেদন করেন। চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাসুদ পারভেজ বৃহস্পতিবার এক আদেশে শিশুটিকে আবেদনকারী নিঃসন্তান দম্পতিকে দেওয়ার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন। আদেশে কিছু শর্ত দেওয়া হয়। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো, শিশুটিকে নিজ সন্তানের মর্যাদায় লালন-পালন ও সুশিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। নিজের ঔরসজাত সন্তান জন্ম নিলেও নিজ সন্তানের মতো সব সম্পত্তির উত্তরাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিতে হবে। কোনো সময় শিশুটির বৈধ পিতা-মাতাকে পাওয়া গেলে তাকে তার বৈধ বাবা-মার কাছে ফেরত দিয়ে দিতে হবে। এ প্রসঙ্গে শিক্ষিকা পারভীন শান্তর নতুন মা বলেন, ‘আমার মেয়েট পালক নবম শ্রেণিতে পড়ে। সে একাকিত্ব বোধ করতঃ। একজন ভাই পাবে শুনে সে খুব আপ্লুত। আমরা চেষ্টা করব এ সন্তানকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে তুলতে। কোনো কিছুতেই কমতি রাখব না তার। শান্তর বাবা বলেন, ‘আমার কাছে এটা দ্বিতীয় জীবন মনে হচ্ছে। জীবনজুড়ে যে নিষ্ক্রিয়তা ছিল, সেটা কেটে গেছে বলে মনে হচ্ছে। আমার কাছে মনে হচ্ছে আল্লাহই যেন তাঁর হাত ধরে আমাদের জন্য এ শিশুটিকে রেখে গেছেন। আমাদের সর্বোচ্চা চেষ্টা থাকবে শিশুটিকে মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার।

শিশুটি সম্পর্কে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. শওকত হোসেন বলেন, ‘নতুন বাবা-মায়ের কোলে শিশুটিকে তুলে দিতে পেরে আমরাও বেশ খুশি। আশা করি, নতুন বাবা-মা নিজ সন্তানের মতো করে শিশুটিকে বড় করে তুলবেন। শিশুটির চিকিৎসা সংক্রান্ত যেকোনো ধরনের সেবার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে