আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)।। ফরিদগঞ্জে স্বাস্থ্য সহকারী ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন।
বাংলাদেশ হেলথ এ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন, ফরিদগঞ্জ শাখার ব্যানারে ওই কর্মসূচী চলছে। এতে, মাঠ পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, তাদের প্রতি ঘোষিত ও বিভিন্ন সময়ে প্রতিশ্রতি দেওয়া দাবী বাস্তবায়ন না করায়, তারা বাধ্য হয়ে একযোগে সমগ্র দেশব্যাপী এ আন্দোলনে অংশ নিয়েছেন। প্রতিশ্রতি দেওয়া দাবী বাস্তবায়ন করলে তারা কর্মে যোগ দেবেন- বলেছেন আন্দোলনকারীরা। বৃহস্পতিবার সকাল হতে এ কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত এ কর্মবিরতি চলবে বলে আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন।
এদিকে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে উপস্থিত কয়েকজন এর সঙ্গে কথা বলে তাদের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তারা বলেছেন, প্রতিশ্রতি দিয়ে দাবী বাস্তবায়ন না করা দুঃখজনক। “সরকারের উচিৎ দাবী মেনে দ্রত কাজে যোগদান করানো। নচেৎ, জনসাধারণ সমূহ ক্ষতির শিকার হবে”- এমন মন্তব্য করেছেন জনৈক নুরুল ইসলাম(৫০)। আন্দোলনকারীরা তাদের বক্তব্যে বলেন, ১৯৯৮ সালের ৬ই ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী একটি ঘোষণা দেন। সে ঘোষণা মোতাবেক ২০১৮ ও ২০২০ সালের ফেব্রয়ারি মাসে তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রীগণ লিখিত প্রতিশ্রতি দেন। প্রতিশ্রতিতে ছিলো, বেতন বৈসম্য নিরসনের লক্ষে স্বাস্থ্য সহকারীদের ১৩শ, সহঃ স্বাস্থ্য পরির্শকদের ১২শ ও স্বাস্থ্য পরিদর্শকদের ১১শ বেতন গ্রেড প্রদান করা হবে। বক্তারা ক্ষোভ ও আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, সে প্রতিশ্রতি অদ্যাবধি বাস্তবায়ন করা হয়নি। “সামনের ‘জাতীয় এমআর ক্যাম্পেইন’ বর্জন করা হলো”- ঘোষণা দিয়ে বক্তারা বলেন, পূর্বের ঘোষিত সে প্রতিশ্রতি বাস্তবায়ন না করায় বাধ্য হয়ে আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলনে অংশ নিয়েছি এবং কর্মকিরতি পালন করছি।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০’ঘটিকায় ফরিদগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে উপস্থিত হয়ে দেখা যায় স্বাস্থ্য সহকারী, সহঃ স্বাস্থ্য পরিদর্শক ও স্বাস্থ্য পরিদর্শক ঐক্যবদ্ধভাবে কমপ্লেক্স-এর সামনে অবস্থান নিয়েছেন। তারা সেখানে ব্যানার ঝুলিয়ে বক্তব্য রাখছিলেন। ওই সময়ে অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, আন্দোলনকারীরা সকাল আট ঘটিকায় কমপ্লেক্স-এ উপস্থিত হন। অফিস খোলার পর তারা হাজিরা খাতায় সহি করে কমপ্লেক্স এর সামনে অবস্থান নেন।
সংগঠনের ফরিদগঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবদুল মোতালেব বলেন, ‘বাংলাদেশ হেলথ এ্যাসিস্ট্যান্ট এসোসিয়েশন’ এর আহবানে ফরিদগঞ্জ উপজেলার ৪৮’টি ওয়ার্ডে ইপিআইসহ মাঠ পর্যায়ে সকল কার্যক্রম-এ কর্মবিরতি পালন করছি। সভাপতি মাসুদ আলম মিজি বলেন, আমরা হঠাৎ করে আন্দোলন করছি এমন নয়। আমরা শুধু সরকার কর্তৃক ঘোষিত প্রতিশ্রতির গ্যাজেট দাবী করছি। তা না হলে এ আন্দোলন চলবে- বলেছেন সভাপতি মাসুদ আলম মিজি। অবস্থানস্থলে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সহসভাপতি শাহ আলম তালুকদার, স্বাস্থ্য পরিদর্শক আঃ রাজ্জাক, স্বাস্থ্য সহকারী নাজমুল আলম, নোমান খান, শাহাবুদ্দিন, শাহাদাৎ হোসেন (জুনিয়র), ফয়সাল, আশ্রাফুল ইসলাম, শরীফ সালাহ্ধসঢ়; উদ্দিন, বশির উল্যা, আলী হোসেন, মুন্নি আক্তার, নূর-ই হাসনা প্রমুখ।
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্স নিউজ




























