সোহেল রানা ডালিম, চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি।। চুয়াডাঙ্গার দর্শনা কেরুজ চিনিকল কর্তৃপক্ষ তাদের কৃষি খামারের জমি শর্তসাপেক্ষে লিজ দিয়ে কোটি টাকার বেশি বাড়তি আয় করেছে। এসব জমি লিজ নিয়ে এলাকার কৃষকেরা আখ চাষের সাথে সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন প্রকার ডাল, মিষ্টি কুমড়াসহ বিভিন্ন ধরণের সবজির চাষ করছেন। আখ বিক্রির পাশাপাশি সাথী ফসল বিক্রি করে অধিক মুনাফা অর্জনের প্রত্যাশা করছে এলাকার চাষীরা।
অলস জমি দিয়ে একদিকে যেমন, আখসহ অতিরিক্ত মুনাফা পাবে কেরুজ মিল কর্তৃপক্ষ অপরদিকে খামার এলাকার চাষীরাও লাভবান হবে। ফলে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ও লিজ গ্রহীতারা উভয়ই লাভবান হবে বলে মনে করছে কর্তৃপক্ষ। কেরুজ চিনিকল খামার এলাকার ৮টি কৃষি খামারের মোট ১ হাজার ৮শ’ বিঘা জমি শর্তসাপেক্ষে লিজ দেওয়া হয় সংশ্লিষ্ট খামার এলাকার চাষীদের কাছে। তাতে শর্ত থাকে যে, ওই সকল জমিতে আখ চাষ বধ্যতামুলক হলেও সাথে সাথে বিভিন্ন সাথী ফসলও চাষ করতে পারবে কৃষকরা। জমি লিজ পন্থায় এরই মধ্যে এক কোটি টাকারও বেশি বাড়তি আয় করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আর ওই সমস্ত জমি লিজ নিয়ে এলাকার চাষিরা আখ লাগানোর পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে মসুর, ছোলা, সরিষা, পেঁয়াজ, রসুন, কপি, মিষ্টি কুমড়া, মুলাসহ বিভিন্ন ধরণের সবজির আবাদ করেছে। একদিকে আখ চাষ অন্য দিকে সাথী ফসলের চাষ করে নতুন দ্বিগন্তের সূচনা করেছেন সংশ্লিষ্ট এলাকার চাষিরা।
দর্শনা কেরুজ চিনিকলের খামার সূত্রে জানা যায়, ১৯৩৮ সালে চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় গড়ে ওঠে কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ঐতিহ্যবাহী চিনিকল প্রতিষ্ঠানটি। আখ চাষের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের আওতায় মোট জমির পরিমাণ ৩ হাজার ৩শ’ ৩৫ দশমিক ৫৬ একর। প্রতি মরসুমে চিনিকল কর্তৃপক্ষ ১৫ থেকে ১৮ একর জমিতে আখ রোপন করলেও বাকি জমি অলস পড়ে থাকে বছরের পর বছর। পড়ে থাকা জমিতে কিভাবে বাড়তি আয় করা যায় তার পরিকল্পনা গ্রহণ করে কর্তৃপক্ষ। পরিকল্পনা মাফিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কৃষি খামারের ১৮শ’ বিঘা জমি আখ চাষের শর্তে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষকদের কাছে লিজ দেওয়া হয়। যার মধ্যে ঘোলদাড়ি কৃষি খামার বাদে ফুরশেদপু খামার থেকে ৮৩ একর, বেগমপুরে ১শ’ একর, ঝাঝরিতে ৭৭ একর, আড়িয়ায় ১১০ একর, হিজলগাড়িতে ৫০ একর, ডিহিতে ১২৫ একর, ফুলবাড়িতে ১০ একর এবং ছয়ঘরিয়া খামার থেকে ৪৫ একর জমি। আর এই লিজের মেয়াদ ধরা হয়েছে ১ সেপ্টম্বও ২০২০ থেকে ২৮ ফেব্রæয়ারী ২০২২ সাল পর্যন্ত।
কেরুজ চিনিকলের জমি লিজ নেওয়া কয়েকজন কৃষকের সাথে কথা হলে তারা বলেন, সাধারণ মানুষের কাছ থেকে এক একর জমি লিজ নিতে কমপক্ষে ৩০ হাজার টাকা লাগে। তাও আবার ১২ মাসের জন্য। সেখানে ১৮ মাসের জন্য চিনিকলের জমি লিজ নিয়েছি। আখের সাথে সাথী ফসল চাষ করার সুযোগ পাচ্ছি। প্রাকৃতিক কারণে অন্যান্ন ফসল নষ্ট হলেও আখের ক্ষেত্রে তেমনটা হওয়ার সুযোগ খবই কম। সব ধরণের আবহাওয়া আখ সহ্য করতে পারে। সঠিক পরিচর্চা করে আখ লাগাতে পারলে আখেও ভালো লাভবান হওয়া যাবে।
মাঝখানে সাথী ফসলের অর্থ দিয়ে সকল খরচ উঠে আসবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে চিনিকল কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে তাতে চিনিকল যেমন লাভবান হয়েছে তেমনি অতিরিক্ত চাষের জমি পেয়ে এলাকার কৃষকেরাও খুশি হয়েছে। এ বিষয়ে উপ-ব্যবস্থাপক (মিলস ফার্ম) হুমায়ুন কবির বলেন, প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে আমাদের আখ চাষ করা দরকার। সেই সাথে জমি লিজ হলে প্রতিষ্ঠানও অতিরিক্ত অর্থ পাবে। কমে আসবে ফার্মের লোকসান তাছাড়া আখেরও উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে চিনিকল এবং লিজ গ্রহীতারা উভয়ে লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকছে।
কেরুজ চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবু সাঈদ বলেন, আখ লাগানোর শর্তে জমি লিজ দিয়ে চিনিকলটি যেমন বাড়তি আয় করছে, তেমনি এলাকার কৃষক জমি লিজ নিয়ে আখ চাষের পাশাপাশি অন্যান্ন ফসল হিসেবে বিভিন্ন ডালসহ সবজির আবাদ করে বাড়তি আয় করবে বলে আশ করছি। সেই সাথে জেলার আর্থসামাজিক উন্নয়ন ঘটবে। শুধু তাই নয় ফর্মের মতো অধিক মাত্রাই জমি চাষ করতে হবে না। এলাকার কৃষকরা যখন জমি নিয়ে অল্প অল্প জমিতে আখ চাষ করবে তখন আখের পরিচর্যার বৃদ্ধি পাবে। সাথে সাথে উৎপাদনও বৃদ্ধি পাবে। ফলে চিনিকলে যেমন আখের ঘাটতি থাকবে না সেই সাথে কৃষকেরাও একই সাথে দুইটি ফসল ফলিয়ে দ্বিগুণ মুনাফা অর্জন করতে পারবে।

চুয়াডাঙ্গা নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























