আবু হেনা মোস্তফা কামাল, ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর)।। ফরিদগঞ্জ পৌরসভা মেয়রের নামে নারী নির্যাতনের অভিযোগ মামলা দায়ের করেছেন তার স্ত্রী সোনিয়া। প্রতিবাদে গতকাল রবিবার দুপুরে মেয়র মাহফুজুল হক সংবাদ সম্মেলন করেছেন ফরিদগঞ্জ প্রেসক্লাবে। স্ত্রীর অভিযোগ এর পেছনে পারিবারিক কলহ, স্ত্রীর মানসিক রোগসহ আওয়ামী লীগের একাংশ ও বিএনপি’র ষড়যস্ত্র বলে দাবী করেছেন মেয়র। এর আগে, গত ১৭ই নভেম্বর মেয়রের স্ত্রী সোনিয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ সংশোধিত/২০০৩ এর ১১(গ)/৩০ ধারায় শিশু ও নারী নির্যাতন দমন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, চাঁদপুর আদালতে মামলা (নং ৩০৬/২০২০)টি দায়ের করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে মেয়র মাহুফুজুল হক প্রায় দু’ ঘন্টাব্যাপী মৌখিক বক্তব্য রাখেন। বক্তব্যকালে তিনি বারংবার আবেগাপ্লুত হন এবং কান্নাায় ভেঙ্গে পড়েন। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর হতে এ যাবত নিজ দলীয় প্রতিপক্ষের বাধা ও ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আসছেন। স্ত্রী সোনিয়ার দায়েরকৃত মামলাটি একদিকে দাম্পত্য কলহ অন্যদিকে ষড়যন্ত্রকারীদের প্ররোচনার বঃিপ্রকাশ বলে তিনি দাবী করেন।
রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বলতে তিনি আওয়ামী লীগের একাংশ ও বিএনপি’র নাম উল্লেখ করেন। দলীয় প্রতিপক্ষের তালিকায় অনেকেই রয়েছেন দাবী করলেও শুধু মাত্র সাবেক এমপি শামছুল হক ভুইয়ার নাম প্রকাশ করেন। ফলে, স্ত্রী কর্তৃক দায়েরকৃত মামলাটি ষড়যন্ত্রমূলক, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন- দাবী মেয়রের। বক্তব্যে তিনি দাবী করেন, সামনে ফরিদগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন। এ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের একাংশ স্ত্রী সোনিয়াকে দিয়ে ষড়যন্ত্রমূলক মামলা করিয়েছে।
বক্তব্যের সময়ে, স্ত্রী সোনিয়াকে মানসিক রোগী দাবী করে তিনি বলেন, প্রেম করে বিয়ে করলেও কখনও সুখী ছিলাম না। বিয়ের প্রায় আড়াই মাস পর জানতে পারি সোনিয়া মানসিক রোগী। সোনিয়া প্রচন্ড অর্থলোভী, সংসারের প্রতি উদাসীন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সাথে অশোভন ও মারমুখি আচরণে অভ্যস্ত। প্রায়শঃই তিন সন্তানকে ফেলে ঘর থেকে বেরিয়ে যেতেন। তিনি আমার কোনো প্রকার বারণ মানতেন না। উল্টো, স্ত্রী কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছেন। অধিকাংশ সময়ে, সোনিয়া তার বাবার বাড়ি গিয়ে পড়ে থাকতেন। বাড়ি আসতে বললে মোটা অঃকের টাকা দাবী করতেন। তাকে প্রায়শঃই ৩০/৪০ হাজার টাকা দিতে হতো। মার্কেট করার জন্য কখনও ৫০ হাজার টাকা দাবী করতো। মেয়র বলেন, এসব টাকা দিয়ে তিনি কি করেছেন আমি জানি না। কিছুদিন পূর্বে আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চান। এতো টাকা দিয়ে কি করবে। জানতে চাইলে বলেছে, আমি কি করবো তা আমার ব্যপার। তিনি বলেন, আমার কোনো ব্যাংকে কোনো টাকা পয়সা নেই। আমি কারও কাছ থেকে অন্যায় মতো কোনো টাকা পয়সা নেইনি। কেউ অমন দাবী করতে পারবে না। তিনি বলেন, স্ত্রীর মারমুখি আচরণে তিনি সর্বদা ভীত-সন্ত্রস্ত থাকতেন। তার এমন অস্বাভাবিক আচরণ সত্য কি মিথ্যা এবং দুর্নীতি করে টাকা কামিয়েছি কি না- তা তদন্ত করে জানার জন্য সাংবাদিকদের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, সোনিয়ার এহেন আচরণে বাধ্য হয়ে নিজ পরিবারের সদস্যদের সাথে পরামর্শ করে ছোট তিনজন সন্তানকে লালন-পালন করতে দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন।
কিন্তু, তিনি সোনিয়ার সঙ্গে সব সময়ে যোগাযোগ রেখেছেন। তিনি গত তিনদিন পূর্বেও সোনিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেছেন। তাকে বাড়ি ফিরে আসতে বলেছেন। শুধু তাই নয়, আমার দ্বিতীয় স্ত্রী আলো তাকে বলেছে, আমরা এক সঙ্গে সংসার করবো। কিন্তু সোনিয়া শোনেনি। তিনি বলেন, এতো ঘটনার পরও স্ত্রী সোনিয়া ফিরে আসতে চাইলে তিনি সন্তানদের দিকে তাকিয়ে ঘরে তুলে নিবেন। তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, স্ত্রী সোনিয়া গত প্রায় আট মাস বাবার বাড়ি ছিলেন। আমি তাকে নির্যাতন করলাম কোথায়। প্রথম স্ত্রীর গর্ভের মাফরুহা ইসলাম (১০), সোয়াইমুল হক ওমর ও মরিয়ম আক্তার (৪) নামের তিন সন্তান রয়েছে এবং বর্তমানে প্রথম স্ত্রী প্রায় আড়াই মাসের সন্তান সম্ভবা- জানান তিনি। স্ত্রী উগ্রতার জন্য সোনিয়ার দু’ বোন ও মা দায়ী বলে তিনি দাবী করেন। এটাকে পারিবারিক পরম্পরা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমার শ্বশুর তিন বিবাহ করেছেন। এদিকে, মামলার আর্জিতে মেয়রের স্ত্রী সোনিয়া বলেন, ইসলামি শরীয়া মোতাবেক ২০১০ সালে মাহফুজের সাথে তার বিয়ে হয়। মেয়ের সুখ শান্তির কথা চিন্তা করে সোনিয়ার বাবা তাকে স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র দেয়। পরে ব্যবসার কথা বলে শ্বশুরের কাছে পাঁচ লাখ এবং ভায়রার কাছে সাড়ে সাত লাখ টাকা ধার নেয় মাহফুজ।
মামলার আরজিতে মেয়র মাহফুজ একজন মাদকসেবি, আলো নামের এক নারীর সঙ্গে পরকীয়ায় আসক্ত ও নারী নির্যাতনকারী বলে দাবী করেন সোনিয়া। তাকে বাপের বাড়ি পাঠিয়ে এবং পরকীয়ার জের ধরে অন্যায়ভাবে দ্বিতীয় স্ত্রী নিয়ে সংসার করছেন। তিনি আরও দাবী করেন, এ যাবত সন্তানদের মায়ায় এবং বাবা-মার মান সম্মানের দিকে চেয়ে নির্যাতন সহ্য করেও সংসার করেছেন। তিনি বলেন, মেয়র মাহফুজের বাবা এই নির্যাতন দেখেও না দেখার ভান করেছেন। সোনিয়া দাবী করেন, মেয়রের নির্যাতন সইতে না পেরে আইনি প্রতিকার পেতে তিনি বাধ্য হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় যান। কিন্তু, থানা পুলিশ তার অভিযোগ গ্রহণ না করে কোর্টে যেতে পরামর্শ দেন। এ ব্যপারে, ফরিদগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সহিদ হোসেন বলেন, মেয়রের বিষয়ে এবং তার স্ত্রী বা অন্য কেউ এমন অভিযোগ নিয়ে আমার কাছে এমন কি থানায় কেউ আসেননি। অন্য এক প্রশ্নের উত্তরে বলেন, বিজ্ঞ আদালত থেকেও(রবিবার পর্যন্ত সন্ধ্যা পর্যন্ত) এমন অভিযোগে ফরিদগঞ্জ থানায় কোনো নির্দেশনা আসেনি।
ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) নিউজ ডেস্ক।। বিডি টাইম্স নিউজ





























