জহির সিকদার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংবাদদাতা ।। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে মায়ের কাছ থেকে শিশুকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার (২’রা নভেম্বর) শিশুর মামা কিবরিয়া পাঠান পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
লিখিত অভিযোগ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ৭বছর আগে জেলার আখাউড়া উপজেলার রাধানগর গ্রামের ইসরাত জাহানের সাথে ঢাকার উত্তরখান এলাকার পুলারটেকের সাইফ উদ্দিন সিদ্দিকের বিয়ে হয়। ২০১৪ সালের আহিয়ান সিদ্দিক নামে ছেলে শিশুর জন্ম দেন ইসরাত।
২০১৮সালে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী ও শিশু সন্তানকে শ্বশুর বাড়িতে রেখে যান সাইফ উদ্দিন। সম্পর্কের অবনতির কারণে ২০১৯ সালে তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। ২০১৯ সালে সন্তানের অভিভাবকত্ব পাওয়ার জন্য শিশুর মা ইসরাত জাহান ব্রাহ্মণবাড়িয়া জজ আদালতের আখাউড়া সহকারী জজ ও পরিবার আদালতে মামলা করেন। মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রত্যেক ধার্য্য তারিখে মাকে দেখানোর জন্য নাবালক শিশু সন্তানকে আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয় আদালত। আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে শিশুর পিতা সাইফ উদ্দিন গত ১৮অক্টোবর জেলা জজ আদালতে সিভিল রিভিশন মামলা করেন। ওই মামলায় সোমবার নাবালক শিশু ও তার বাবা সাইফ উদ্দিন সিদ্দিককে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশনা দেন। দুপুরে আদালতে উভয়পক্ষের শুনানী শেষে শিশু আহিয়ানকে মামলার প্রত্যেক ধার্য্য তারিখে তিন ঘন্টার জন্য মা ইসরাতের কাছে থাকার নির্দেশ দেন জেলা জজ শফিউল আজম। শুনানী শেষে এজলাস থেকে শিশু আহিয়ানকে কোলে নিয়ে মা ইসরাত জাহান জেলা জজ আদালত ভবনের সামনে যান। সে সময় শিশুর পিতা সাইফ উদ্দিন আহিয়ানকে কোলে নিয়ে স্বজন ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সহায়তায় গাড়িতে উঠে যাওয়ার চেষ্টা করেন।
উপস্থিত থাকা আইনজীবীসহ লোকজন প্রতিবাদ করলে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। প্রতিবাদের মুখে গোয়েন্দা পুলিশের সদস্যরা আদালত প্রাঙ্গণ ত্যাগ করে। পরে তিন ঘন্টা মায়ের কাছে থাকার পর শিশু আহিয়ানকে নিয়ে ঢাকার দিকে রওয়ানা হন পিতা সাইফ উদ্দিন। বাদীপক্ষের আইনজীবী মোর্শেদ আলম ও শরিফুল আলম জানান, গোয়েন্দা পুলিশ জোরপূর্বক শিশুকে তার মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। আদালতের নিজস্ব সিসিটিভি ক্যামেরায় ও শিশুর মামার মুঠোফোনে ডিবি পুলিশের এই কর্মকান্ডের রেকর্ড রয়েছে।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা মোঃ ইকবাল হোসেন জানান, অভিযোগ সত্য নয়। এমনিতেই আদালত চত্বরে গিয়েছিলাম। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করার জন্য অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোজাম্মেল হোসেন খাঁনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























