রেজা মাহমুদ, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি।। সৈয়দপুরে পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশীদারিত্বের দাবিতে সন্তানেরা ভোগদখলে থাকা ভাইদের দোকানে তালা দিয়েছে। এ ঘটনায় ভাইবোনদের উভয় পক্ষে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। শনিবার সকাল ৯ টার দিকে শহরের শহীদ ডা. শামসুল হক সড়কের একটি কসমেটিক দোকানে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, শহরের নতুন মুন্সিপাড়া এলাকার বাসিন্দা ৫ পুত্র ও ৬ কন্যা সন্তানের জনক কাশেম আলী প্রায় ২০ বছর আগে মারা যান।
মারা যাওয়ার আগে ৬ কন্যা ও ৫ পুত্র সন্তানসহ নতুন মুন্সিপাড়া এলাকায় বসতবাড়ি এবং শহরের উল্লিখিত এলাকায় একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান রেখে যান। সে সময় থেকে বেশ কিছুদিন ভাইবোনদের মধ্যে সম্পর্ক ভাল থাকলেও তাদের মায়ের মৃত্যুর পর সম্পর্কের অবনতি হতে থাকে। শুরু হয় পিতার সম্পত্তি নিয়ে ভাইবোনদের মধ্যে বিরোধ। ১১ ভাইবোনের মধ্যে ইতিপূর্বে রোখসানা ও রিয়া নামে দুই বোনও মারা যান। বাকি ৯ ভাইবোনের মধ্যে তাদের তিনভাই একরাম, ইমতিয়াজ ও আসলাম যোগসাজস করে ভোগদখল করলেও বি ত করেছে বড় ৪ বোন বেবি, রেহেনা, মিন্নি, ইয়াসমিন, ভাই মুন্না, জাহিদসহ মৃত দুই বোন রোখসানা ও রিয়ার সন্তানদের।
মৃত পিতার সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের এসব তথ্য জানিয়ে প্ত্রু জাহিদ জানান, এনিয়ে বেশ কয়েকবার শালিশ বৈঠক বসলেও তারা কোন কথাই মানেনি। উল্টো পিতার সম্পত্তি ভোগদখল করা তিন ভাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়েছেন। বি ত ভাইবোনদের পক্ষে জাহিদ জানায়, তাদের অনেকেই বর্তমানে অসহায়ভাবে জীবন যাপন করলেও তিন ভাইয়ের কাছে পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশীদারিত্ব চাইলেও কোন লাভ হয়নি।
ফলে আজ সকালে তাদের বি ত ভাইবোনসহ মৃত বোনদের সন্তানেরা বাধ্য হয়ে দোকানে তালা লাগান। তাদের দাবি সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত দোকান বন্ধ থাকবে। এদিকে বি ত ভাইবোনেরা দোকানে তালা লাগানোর ঘটনায় ভোগদখল করা তিন ভাইসহ তাদের আত্মীয়স্বজনদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় দু পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি পর্যন্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। এ বিষয়ে কথা হয় মৃত কাশেম আলীর পুত্র একরামের সাথে। তিনি বলেন, আমরা কাউকে বি ত করিনি।
পিতার সম্পত্তিতে ভাইবোন সকলের অধিকার আছে। কিন্তু সেটা হবে নিয়মের মাধ্যমে। তারা জোর করে সম্পত্তি নিতে চায় বলেই দোকানে তালা লাগিয়েছে। এব্যাপারে কথা হয় ঘটনাস্থলে উপস্থিত সৈয়দপুর থানার উপ-পরিদর্শক মো. আনসার আলীর সাথে। তিনি বলেন দোকানে তালা লাগানোর ঘটনায় উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন। দোকানের চাবি পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। উবয়পক্ষকে থানায় আসতে বলা হয়েছে। সেখানে সমাধানের চেস্টা করা হবে।
নীলফামারী নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ





























