ঐতিহ্যবাহী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের উদ্যোগে ‘অধ্যাপক ড. রবীন্দ্র বিজয় বড়ুয়া ষষ্ঠ স্মারক বক্তৃতা’ আজ রমেশ চন্দ্র মজুমদার আর্টস মিলনায়তনে ২২ অক্টোবরের সকালে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান । “নতুন চর্যাপদের ধারায় বজ্রযানি দেব-দেবীর স্বরূপ” প্রবন্ধ পাঠ করেন রবীন্দ্র সৃজনকলা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, প্রবন্ধ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ ইতিহাসবিদ অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরী এবং অধ্যাপক ড. সুমন কান্তি বড়ুয়ার বিভাগের চেয়ারম্যান এবং স্মারক বক্তৃতার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন।

বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শান্টু বড়ুয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করেন বিভাগের প্রভাষকবৃন্দ জ্যোতিস্বী চাকমা, রত্না রানী দাস ও শামীমা নাছরিন এবং শুভেচ্ছা বক্তব্যে অধ্যাপক ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া উপস্থিত সকলকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করে ড. রবীন্দ্র বিজয় বড়ুয়ার পরিচয় এবং পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ সৃষ্টিতে তাঁর অবদান তুলে ধরেন। তিনি বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, বৌদ্ধ মূর্তিতত্ত্ব বৌদ্ধধর্ম ও বাঙলা সাহিত্যে এবং বৌদ্ধ শিল্পকলা প্রত্নতত্ত্ব কোর্সগুলো চর্যাপদ নির্ভর। তাই এ স্মারক বক্তৃতাটি শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই তাৎপর্যমন্ডিত। উল্লেখ্য যে, তিনি ১৯৬২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সিনিয়র প্রভাষক পদে যোগদান করেন, ১৯৭৩ সালে তাঁর আন্তরিক প্রচেষ্টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত ও পালি নামে বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বতন্ত্র পালি বিভাগ প্রতিষ্ঠা ছিল তাঁর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। অতপর ২০০৭ সালে সংস্কৃত থেকে আলাদা হয়ে পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগটির যাত্রা শুরু হয়। এরপর স্মারক বক্তৃতা প্রদান করেন অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদ, তিনি চর্যাপদকে নিয়ে নতুন গবেষণা বিষয়বস্তু উপস্থাপন করেন খুব সহজ পদ্ধতিতে। ২০০৮ সাল থেকে তিনি চর্যা সংগ্রহ কার্যে যুক্ত হন এর প্রচেষ্টায় ২০১৭ সালে ৩৩৫ টি ইতিহাস দিয়ে তাঁর প্রকাশিত হয় নতুন চর্যাপদ নামে। তিনি আলোচনা করেছিলেন ৩৩৫টির চর্চাগান বা চর্যাপদের উপর ভিত্তি করে বজ্রযানি দেবদেবীর স্বরূপ উন্মোচন করে। দেবদেবীর অঙ্গ-ভঙ্গির উপর ভিত্তি করেই তিনি গবেষণার কাজটি করেছেন।

এরপর প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য ড. মো. আখতারুজ্জামান পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগকে স্বাগত জানায় অনুষ্ঠানটি আয়োজন করার জন্য এবং উপস্থিত সবাইকে শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করেন। তিনি অধ্যাপক ড. রবীন্দ্র বিজয় বড়ুয়াকে গভীর ভাবে স্মরণ করেন, তাঁর আত্মার প্রতি সদগতি জানান ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি উপস্থিত শিক্ষার্থীদের বলেন, ‘অধ্যাপক বড়ুয়া একজন আর্দশ শিক্ষক ও গবেষক ছিলেন। তাঁর জীবন কর্ম থেকে শিক্ষা নিয়ে ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে উঠার জন্য তিনি শিক্ষার্থাদের আহ্বান করেন।” এছাড়া অধ্যাপক সৈয়দ মোহাম্মদ শাহেদের চর্যাপদ নিয়ে গবেষণার কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

তিনি বাংলার মানুষের ইতহাস, সমাজ-সংস্কৃতি, রাজনৈতিক ইতিহাস, অর্থনীতি জানতে চর্যাপদের গুরুত্ব তুলে ধরেন এবং প্রবীণ ইতহাসবিদ অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানান সাথে ঢাবিতে পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট বিভাগ চালু করতে উনার অবদানের কথা তুলে ধরেন। কারণ বরেণ্য ইতহাসবিদ তখন কলা অনুষদের মাননীয় ডিন ছিলেন। এরপর সম্মানিত আলোচক হিসেবে অধ্যাপক আবদুল মমিন চৌধুরী বাংলার শেকড়ের ইতিহাস জানতে চর্যাপদের গুরুত্বের কথা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী হওয়ার কথা, নীহাররঞ্জন, হরোপ্রসাদ শাস্ত্রী ও বঙ্কিমচন্দ্রের উক্তির মাধ্যমে তাদের কথা তুলে ধরেন এবং সবাইকে বৈরতা নয় সামঞ্জস্যতার ন্যায় অবস্থান করার কথা বলেছেন।

ড. রবীন্দ্র বিজয় বড়ুয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁর জ্যোষ্ঠ কন্যা অধ্যাপক ড. গীতাঞ্জলী বড়ুয়া ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগকে, উপস্থিত সুধীজন এবং বাবার অধ্যবসায় ও সামাজিক কর্মকান্ড কিভাবে করতেন তা স্মৃতি তুলে ধরেন। এবং বাবার কাছ থেকে কিভাবে কাজের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন সে কথা তুলে ধরেন। এরপর বিভাগের অধ্যাপক ড.সুকোমল বড়ুয়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে ড. রবীন্দ্র বিজয় বড়ুয়া স্মৃতিচারণ করেন, শিক্ষার্থীদের অনুপ্রেরণা দেন। সর্বোপরি অনুষ্ঠানের সভাপতি ও পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সুমন কান্তি বড়ুয়া সবাইকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান । ড. মনিরুজ্জামান, ড. আহমেদ কবীর, ড. সুনন্দা বড়ুয়া, অমূল্য ভূষণ বড়ুয়া, জীবনানন্দ বড়ুয়া, ড. সুমঙ্গল বড়ুয়া, ড. বেলু রাণী বড়ুয়া, ড. বিমান চন্দ্র বড়ুয়া, ড. নীরু বড়ুয়া, আশিকুজ্জামান খান কিরন ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম, চারুকলার অধ্যাপক সাবরীনা শাহনাজ, দর্শনের রেবেকা সুলতানা, ড. শামীমা নাছরিন প্রাণ রসায়নের অধ্যাপিকা, অধ্যাপিকা অঞ্জলী বড়ুয়া, সংস্কৃতের অসীম সরকার, ময়না তালুকদার, চন্দনা বিশ্বাস, বিজয় বড়ুয়া, বিমান বিহারী বড়ুয়া ও উপস্থিত বিভাগের শিক্ষার্থীদের প্রতি ধন্যবাদ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

লেখকঃ রোমানা পাপড়ি
খন্ড-কালীন শিক্ষক,পালি এন্ড বুদ্ধিস্ট স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে