৩য় বারের মত শুরু হয়েছে বাংলাদেশ এবং চায়নার মধ্যে শিক্ষা এবং সংস্কৃতি বিনিময়ের সমঝোতা স্মারক বাংলাদেশ-চায়না ইয়ুথ ক্যাম্প ২০১৯।এই ইয়ুথ ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হচ্ছে চীনের চির বসন্তের নগরী খ্যাত কুনমিং শহরের নামকরা ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ে।
বিশাল ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় যেন পাহাড়ের উপর মাথা উচু করে দাড়িয়ে চির সবুজ কুনমিং নগরীর ঐতিহ্য জানান দিচ্ছে সগৌরবে।শান্ত শ্যামল পরিবেশ তার গুরুত্বকে বাড়িয়ে দিয়েছে আরো অনেক। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি পরতে পরতে লুকিয়ে আছে শিক্ষা গ্রহনের ছাপ। বলতেই হয় কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেই উক্তি, বিশ্ব জোড়া পাঠশালা মোর সবার আমি ছাত্র, নানান ভাবে নতুন জিনিস শিখছি দিবা রাত্র, এই পৃথিবীর বিরাট খাতায় পাঠ্য যে সব পাতায় পাতায়, শিখছি যে সব কৌতূহলে নেই দ্বিধা লেশ মাত্র”। ইউনান বিশ্ববিদ্যালয় যেন কবি গুরুর সেই অমর কবিতার জলন্ত প্রতিফলন।

সকাল বেলা প্রাত রাশ সেরে শিক্ষার্থীরা একসাথে বাস যোগে বের হন বিশ্ববিদ্যালয় এর উদ্দেশ্যে। প্রথম ক্লাস অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৯টায়। প্রাথমিক চাইনিজ শিক্ষা কোর্সের পাঠদানের মাধ্যমে ক্লাস শুরু হয়। ক্লাসে অংশগ্রহণকারী সকলেই বেশ আনন্দ ঘন পরিবেশে পাঠ সম্পন্ন করেন। এই ক্লাসে মূলত প্রাথমিক ভাবে কি ভাবে চাইনিজ ভাষাভাষী মানুষের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে হয় সেই সম্পর্কে ধারনা দেয়া হয়।ইয়ুথ ক্যাম্পের শিক্ষার্থী এবং ইউনান বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্তরিক ব্যবহার ছিল চোখে পড়ার মত। লেখা পড়ার পাশাপাশি হাসি তামাশায় মেতে উঠছিলেন তারা বারবার। মনে হচ্ছিল যেন খেলার ছলে জানাচ্ছিলেন তারা নিজের দেশকে আর জেনে নিচ্ছিলেন বন্ধু প্রতিম দেশকে।

তারপর শুরু হয় ঐতিহ্যবাহী কুংফু ক্লাস।এই ক্লাসে এক সাথে ১৫০ জন শিক্ষার্থীদের অংগশগ্রহন পুরো পরিবেশকে মনোমুগ্ধকর করে তোলে। এই ক্লাসে শেখানো হয় বডি রিলাক্সসেশন পদ্ধতি,যা একজন মানুষের প্রাত্যহিক জীবনকে সুস্থ সবল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে। তারপর শেখানো হয় চাইনিজদের ট্রাডিশনাল হাত পাখার বিভিন্ন ধরনের খেলা। সেখানে সকল শিক্ষার্থীদের এই শারিরীক কসরত খেলায় অংশ নেন। এরপর দেয়া হয় মধ্যাহ্ন ভোজের বিরতি।

বিরতির পর আবার অনুষ্ঠিত হয় প্রাথমিক চাইনিজ শিক্ষা কোর্স। ক্লাস শেষে বাংলাদেশ ইয়ুথ ক্যাম্পের প্রতিনিধি দলকে নিয়ে যাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস হল রমে। সেখানে তাঁদের দেখানো হয় আজকের বিশ্বে আধুনিক চায়নার মাথা উঁচু করে দাড়ানোর পিছনে তাঁদের যেসব আবিষ্কার এবং অবদান রয়েছে তার উপর চায়না সিসি টিভির করা “স্মার্ট চায়না” নামক বিশেষ প্রামান্যচিত্র।

এরপরের অংশে ছিল বৃক্ষরোপন কর্মসূচী। বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গনের মধ্যে অবস্থিত বাগানের মধ্যে শিক্ষার্থী গণ বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেন। পরিবেশ রক্ষার্থে সচেতন নাগরিক গড়ে তোলার লক্ষে ইয়ুথ ক্যাম্পের এই উদ্যোগ ছিল সবার কাছে প্রশংসনীয়। পড়ন্ত বিকেলের কাচামিঠা রোদে বৃক্ষরোপন করে সবাই ফিরে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটারিয়ায়। সেখানে রাতের খাবার গ্রহণ সম্পন্ন করে ৩য় দিনের কার্যক্রম শেষ করে শিক্ষার্থীরা ফিরে আসেন হোটেলে।
শামস ই তানভীর
নিউজ ডেস্ক ।। বিডি টাইম্স নিউজ























