বাংলাদেশের রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির ছাত্রী অরিত্রী অধিকারীর আত্মহত্যার মামলায় তার শ্রেণিশিক্ষিকা হাসনা হেনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বুধবার রাত ১১টার দিকে উত্তরা এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপকমিশনার খন্দকার নুরুন্নবী জানান, আইনি ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা পাওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষকদের গ্রেফতারে তৎপরতা শুরু করেন গোয়েন্দারা। শিক্ষিকা হাসনা হেনার অবস্থান নিশ্চিত হয়ে রাত ১১টার দিকে উত্তরায় অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে আসা হয় মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে। আগামীকাল সকালে তাকে আদালতে নেয়া হবে। এর আগে আজ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা মেনে ভিকারুননিসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, শাখাপ্রধান জিনাত আখতার ও শ্রেণিশিক্ষক হাসনা হেনা বরখাস্ত করা হয়। আজই প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়।

এছাড়া, স্কুলের নিয়মিত পরীক্ষা শুক্রবার (৭ ডিসেম্বর) থেকে এবং কলেজ শাখার ক্লাস রোববার (৯ ডিসেম্বর) থেকে শুরু হবে বলে গভর্নিং বডির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি মুশতারী সুলতানা জানিয়েছেন, বডির সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যোগ্যতার বিবেচনায় আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই নতুন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিয়োগ দেওয়া হবে। এদিকে, যে গভর্নিং বডির অপসারণের দাবি জানানো হয়েছে সেই বডির সদস্যদের বৈঠকের সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনরত ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা গভর্নিং বডির অপসারণসহ ৬ দফা দাবি আদায়ে বৃহস্পতিবার (০৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে ফের অবস্থানের কথা জানিয়েছেন। তাদের আন্দোলনে সমর্থন দিয়েছেন তাদের অভিভাবকরাও।

ছয়দফা দাবি হলো- অধ্যক্ষসহ অন্য শিক্ষকদের পদত্যাগের লিখিত আদেশ জনসম্মুখে দেখাতে হবে এবং আত্মহত্যার প্ররোচনার দায়ে প্রচলিত বিধান অনুযায়ী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, ভিকারুননিসা স্কুলে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধ করতে হবে, কথায় কথায় বহিষ্কারের ভয় দেখানো যাবে না এবং অপরাধ অনুযায়ী শাস্তির জন্য ডিটেনশন পলিসি চালু করতে হবে, মানসিক সুস্থতার জন্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মানসিক চিকিৎসক দিয়ে কাউন্সিলিং করতে হবে, গভর্নিং বডির সবাইকে অপসারণ করতে হবে, ঘটনার জন্য অরিত্রীর বাবা-মায়ের কাছে জনসম্মুখে ক্ষমা চাইতে হবে।

সোমবার দুপুরের দিকে রাজধানীর শান্তিনগরে গলায় ফাঁস দিয়ে অরিত্রী অধিকারী (১৫) নামে ভিকারুননিসার এক ছাত্রী আত্মহত্যা করে। অরিত্রী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শাখার নবম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর পল্টন থানায় ‘আত্মহত্যার প্ররোচণাকারী’ হিসেবে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন অরিত্রীর বাবা। মামলার আসামিরা হচ্ছেন অধ্যক্ষ নাজনীন ফেরদৌস, প্রভাতী শাখার প্রধান জিনাত আক্তার ও শ্রেণি শিক্ষিকা হাসনা হেনা।

নিউজ ডেস্ক, বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে