ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের পথে এগিয়ে নিতে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী’র (রাশিদ আসকারী) সাহসী ও দক্ষ নেতৃত্বকে সার্বিক সহযোগিতা করে চলেছেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা।

প্রশাসনের এই তিন কর্ণধার বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নিতে এক ও ঐক্যবদ্ধভাবে রাতদিন পরিশ্রম করছেন। যে কোন সমস্যাকে তাঁরা পাশ না কাটিয়ে তা সমাধানের চেষ্টা করছেন। আর এ কারণেই অতীতের সকল প্রশাসনের চেয়ে উন্নয়ন ও সফলতার শীর্ষে অবস্থান করছেন বর্তমান প্রশাসন।

গত ১৩ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে আরও একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছেন বর্তমান প্রশাসন। শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের অবসান ঘটিয়েছেন। তাঁরা বিজ্ঞান অনুষদকে ভেঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদ, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনুষদ এবং বিজ্ঞান অনুষদ করেছেন। এর ফলে এ বিভাগের শিক্ষার্থীরা একদিকে পাবে বিজ্ঞানের মান এবং অপরদিকে পাবে প্রকৌশলীর মান। এছাড়া মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদকে ভেঙ্গে মানবিক অনুষদ এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ করেছেন। এখন থেকে ৫টি অনুষদের পরিবর্তে ৮টি অনুষদের অধীনে ৩৩টি বিভাগ পরিচালিত হবে। এ খবর শিক্ষার্থীদের কানে পৌছানো মাত্রই উল্লসিত হয়ে উঠে তারা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মুহুর্তের মধ্যেই সংবাদটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয় যা দেশব্যাপী আলোড়িত হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়ে বিভিন্ন মহলের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা অব্যাহত রয়েছে। আজ (১৪ নভেম্বর) সকাল থেকেই ভাইস চ্যান্সেলরের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী (রাশিদ আসকারী), প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান ও ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহাকে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের বিভিন্ন বিভাগসহ বিভিন্ন অনুষদ ও বিভাগের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।

উল্লেখ থাকে যে, ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ ও ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রির দাবিতে ২০০৮ সালে বিজ্ঞান অনুষদের শিক্ষার্থীরা আন্দোলন শুরু করে। তৎকালীন ভাইস চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর একই অনুষদের শিক্ষক হওয়ায় আন্দোলনকারীরা তাদের দাবি পূরণের স্বপ্ন দেখে। সে সময় ভাইস চ্যান্সেলর ও প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর শিক্ষার্থীদের
দাবি পূরণের প্রতিশ্রুতি দেন এবং বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করলেও সফল হননি। পরবর্তীতে এ দাবিতে আবারও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চলমান রাখে।

অবশেষে গত ১৩ নভেম্বর বর্তমান প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবি পূরণ করেন। তাঁরা বিজ্ঞান অনুষদকে ভেঙ্গে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদ, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনুষদ ও বিজ্ঞান অনুষদ এবং মানবিক ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদকে ভেঙ্গে মানবিক অনুষদ ও সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদ করেন। সেই সাথে ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন হিসেবে প্রফেসর ড. মমতাজুল ইসলামকে, বায়োলজিক্যাল সায়েন্স অনুষদের ডিন হিসেবে প্রফেসর ড. মহাঃ আনোয়ারুল হককে, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে প্রফেসর ড. এস এম মোস্তফা কামালকে, মানবিক অনুষদের ডিন হিসেবে প্রফেসর ড. নেছার উদ্দিন আহমদ এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন হিসেবে প্রফেসর ড. নাসিম বানুকে নিয়োগ দেন।

বর্তমান প্রশাসনের এই যুগান্তকারী পদক্ষেপ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে আন্তর্জাতিকীকরণের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে বিভিন্ন মহল মনে করেন।

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ।।  বিডি টাইম্‌স নিউজ

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে