ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী বলেছেন, শোকাবহ এই আগস্ট মাসে আমরা বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণকরি সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। আমরা বিনম্র শ্রদ্ধা জানাই বঙ্গবন্ধুর সাথে ১৯৭৫ সালের সেই ভয়াল কালরাতে যাঁরা শহীদ হয়েছেন তাঁদের প্রতি। আমরা একই সাথে ঘৃণাভরে স্মরণকরি যে কুচক্রী মহল এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত ছিল, যারা একটি ষড়যন্ত্রের মধ্যদিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে বিনষ্ট করার চেষ্টা করেছিল তাদেরকে। আমরা তাদেরকে ধিক্কার এবং ঘৃণা জানাই।

ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি গ্রীণ ক্যাম্পাসে পরিণত করতে চাই। তিনি বলেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জঙ্গিবাদ, মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সর্বতোভাবে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং একাডেমিক সম্প্রসারণে এরই মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধান করেছে। এখন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকে আমরা বলতে চাই নয়নাভিরাম সুন্দর একটি ক্যাম্পাস। তিনি বলেন, আমাদের ২১ শতকের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ যেটি সেটি হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবেলা করা। আর এই বৈশ্বিক উষ্ণতা মোকাবেলা করার জন্য প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বৃক্ষরোপন করতে হবে। আমরা গতবছর ১১ হাজার বৃক্ষরোপন করেছি। এবারও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ফলজ, বনজ এবং ঔষধী গাছের চারা রোপন করা হবে। ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, আমাদের সেই কর্মসূচি গ্রহণের আগেই কর্মকর্তা সমিতির এই উদ্যোগকে আমরা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানাই। তিনি সকলের উদ্দেশ্যে বলেন, অপরিকল্পিত বৃক্ষরোপন নয়। ক্যাম্পাসে যারা গাছ লাগাবেন অবশ্যই এস্টেট ও প্রকৌশল অফিসের সাথে যোগাযোগ করে পরিকল্পিত ভাবে গাছ লাগাবেন। তিনি সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আসুন বৃক্ষরোপনের মধ্যদিয়ে আমাদের ক্যাম্পাসকে আরো বেশি সৌন্দর্য্য, আরো বেশি পরিবেশ বান্ধব এবং সবুজ করে গড়ে তুলি। প্রকৃতির সৌন্দর্যে পরিণত হবে আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাস।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কর্মকর্তা সমিতির আয়োজনে পক্ষকালব্যাপি বৃক্ষরোপন কর্মসূচির উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ হারুন-উর-রশিদ আসকারী এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতায় প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোঃ শাহিনুর রহমান বলেন, বনায়নের ক্ষেত্রে আমরা পিছিয়ে নেই। বাংলাদেশ একটি সবুজ দেশ। তিনি বলেন, বনায়নের ক্ষেত্রে সবুজ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় উপহার দেওয়ায় ইতোপূর্বে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট হতে আমরা পুরস্কার গ্রহণ করেছি। আমি বিশ্বাসকরি বনায়নের ক্ষেত্রে আমাদের যে কার্যক্রম চলছে, এই কার্যক্রমের ফলে অচিরেই আমরা বড় ধরনের আরও একটি পুরস্কার লাভ করবো। কর্মকর্তা সমিতি আগামীতেও এধরনের আয়োজন করবে এই প্রত্যাশা করেন তিনি।

অপর বিশেষ অতিথি ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা বলেন, প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার একটি নির্দেশনা রয়েছে সারা বাংলাদেশকে সবুজ বাংলাদেশে রুপান্তর করার। তারই অংগিকার হিসেবে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসকেও সবুজ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস করার প্রচেষ্টা রয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের ছেলে-মেয়েদের জন্য আমরা একটি সুন্দর পরিবেশ নিশ্চিত করতে চাই।

কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি মোঃ শামছুল ইসলাম জোহার সভাপতিত্বে ও সাধারন সম্পাদক মীর মোঃ মোর্শেদুর রহমানের পরিচালনায় সভায় অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা বিভাগের পরিচালক খন্দকার হামিদুর রহমান এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের অর্থ ও হিসাব বিভাগের পরিচালক মোঃ রেজাউল করিম হাওলাদার। স্বাগত বক্তব্য রাখেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার (ভার:) এস এম আব্দুল লতিফ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন প্রক্টর প্রফেসর ড. মোঃ মাহবুবর রহমান, আই.আই.ই.আর’র পরিচালক প্রফেসর ড. মোহাঃ মেহের আলীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে বৃক্ষরোপন করেন অতিথিবৃন্দ। উল্লেখ্য কর্মকর্তা সমিতির আয়োজনে ক্যাম্পাসে ৫ হাজার ফলজ, বনজ এবং ঔষধী গাছের চারা রোপন করা হবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে