গ্রেট ব্রিটেনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য যে কতটা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, তা অনেকটাই মানুষ ভুলে গেছে—এমন মন্তব্য করেছেন ব্রিটিশ উপকূল ধরে প্রায় ৪০০০ মাইল হেঁটে আবর্জনা সংগ্রহ করা সাবেক সমাজসেবী কর্মী Owen Dixon। ব্রিটেনের ল্যাঙ্কাশায়ারের ব্ল্যাকবার্নের বাসিন্দা ডিক্সন প্রায় ১০ বছর আগে তার পোষা নর্দার্ন ইনুইট কুকুর কোডাকে সঙ্গে নিয়ে ব্রিটিশ উপকূল ধরে হাঁটা শুরু করেন।

শুরুতে শুধুই দীর্ঘ পথ হাঁটার উদ্দেশ্য থাকলেও, পথে পথে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা আবর্জনা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। তিনি উপলব্ধি করেন—মানুষ নির্বিচারে ময়লা ফেলে পরিবেশ দূষিত করছে। তখনই তিনি সিদ্ধান্ত নেন, হাঁটার পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে আবর্জনা সংগ্রহ করবেন। এভাবেই শুরু হয় তার পরিবেশ রক্ষার ব্যতিক্রমী যাত্রা।

ব্রিটেনের সমুদ্রসৈকত ও উপকূলীয় এলাকাগুলোর পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনতে ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা থেকেই এই কাজ শুরু করেন ডিক্সন। ধীরে ধীরে তার উদ্যোগটি তৃণমূল পর্যায়ের একটি শক্তিশালী পরিবেশ আন্দোলনে রূপ নেয়। যুক্তরাজ্যজুড়ে বিভিন্ন কমিউনিটি ও স্বেচ্ছাসেবী দলকে সমুদ্রসৈকত ও জনস্থান পরিষ্কারে ব্যাপকভাবে অনুপ্রাণিত করে তার কাজ।

এই সমাজসেবামূলক অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ৫৪ বছর বয়সী ডিক্সন Keep Britain Tidy–এর একজন সফল রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হন। ধারণা করা হয়, এ পর্যন্ত তিনি ২০–৩০টি আবর্জনা সংগ্রহ ও সমুদ্রসৈকত পরিষ্কার কার্যক্রমকে প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করেছেন।

ডিক্সন জানান, বাবার রেখে যাওয়া অর্থ দিয়ে যখন তিনি যাত্রা শুরু করেন, তখন চারপাশের ময়লা দেখে তিনি ভীষণ ক্ষুব্ধ হন। সেখান থেকেই দৃঢ় সিদ্ধান্ত—ময়লা দেখলেই পরিষ্কার করবেন। সমাজসেবার পূর্ব অভিজ্ঞতা তাকে থামতে দেয়নি; বরং হাঁটার সঙ্গে সঙ্গে নিয়মিত পরিষ্কার কার্যক্রম চালিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে।

তার মতে, একটি দেশ ও সমাজের জন্য পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি মানুষের মন ও মানসিকতায় গভীর প্রভাব ফেলে। পরিচ্ছন্ন পরিবেশই সুন্দর সমাজ গঠনের ভিত্তি। তাই সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে তিনি এ ধরনের কাজে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। ডিক্সন বলেন, সমাজে কেউ ময়লা ফেলছে, আবার কেউ তা উপেক্ষা করছে—এই মানসিকতা বদলাতে হবে। গঠনমূলক পরিকল্পনা ও সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই শহর ও দেশকে পরিষ্কার রাখা সম্ভব।

বর্তমানে ডিক্সন ব্রিটেনের বিভিন্ন স্কুল ও কলেজে গিয়ে ছোট ছোট সমাজসেবামূলক কাজের মাধ্যমে কীভাবে নিজ দায়িত্বে দেশ ও পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখা যায়—সে বিষয়ে বক্তব্য রাখছেন। তার বার্তা একটাই: নিজ উদ্যোগে নিজের শহর ও দেশ পরিষ্কার রাখুন, এবং অন্যকেও পরিষ্কার রাখতে উৎসাহিত করুন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য লিখুন দয়া করে!
এখানে আপনার নাম লিখুন দয়া করে