জহির সিকদার,ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রতিনিধি।। নবীনগরে ৮ জন খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হয়েও পাচ্ছেন না কোন সরকারী ভাতা। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বড়াইল ইউনিয়নে ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় ১০ ই অক্টোবর পাকিস্তানি পাক হানাদার বাহিনী বর্বর ও নির্মম হত্যাযজ্ঞ চালায়,এই হত্যাযঙ্গে সে দিন বড়াইল ইউনিয়নের কয়েক শত মানুষ শহীদ হন, তাদের মধ্য ৪৩ জন শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা কে খারঘর নদীর পাড়ে গনকবর দেওয়া হয়।
স্বাধীনতার প্রায় ৫০’বছর পর স্থানীয় লোকজন ও প্রশাসনের মাধ্যমে গনকবর টি চিহ্নিত করে শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানে চেতনায় ৭১ নামে সৃতিসৌদ নির্মাণ করা হয়। এবং ৭১ সালে পাকিস্তানি পাক হানাদার বাহিনী কর্তৃক নিহত ৪৩ জন শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধার নাম সম্বলিত একটি ফলক উন্মোচন করা হয়। এই ফলকে লিপিবদ্ধ ৪৩ জন শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধার মধ্যে ৮ জন ছিলেন আনসার সদস্য,এই ৮ জন আনসার সদস্য শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা খেতাব পেলেও তাদের পরিবারের কেও এখন পর্যন্ত পাচ্ছেন না মুক্তিযোদ্ধা ভাতা। পাচ্ছেন না সরকারি সাহায্য অথবা কোন সহযোগিতা। এই ৮ টি পরিবার বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ঘুরাঘুরি করে কোন ফল পাননি। বর্তমানে অসহায় অবস্থায় অর্ধাহারে-অনাহারে দিনাতিপাত করছেন।
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, জেলা প্রশাসক মোঃ শাহগীর আহম্মেদ,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ একরামুল ছিদ্দিক,জেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার, বড়াইল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ জাকির হোসেনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অসহায় ৮ টি শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা পরিবার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমরা শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা পরিবার এইটা স্বীকৃত ও প্রমানিত। শুধু মাত্র আনসার বাহিনীতে যোগদান পত্রটি দেখাতে পারছিনা বলে আমরা শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা ভাতা ও কোন প্রকার সরকারি সাহায্য সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমাদের ৮ পরিবারের কেউ কেউ রিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন, আমাদের বাবারা এই দেশকে স্বাধীন করার জন্য জীবন দিয়েছেন। অথচ এই স্বাধীন দেশে আমরা আমাদের ন্যায্য অধিকার টুকু পাচ্ছি না। তারা বলেন আমরা মৃত্যুর আগে আমাদের বাবার শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা পরিবার হিসেবে আমাদের ভাতা পেতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ ও সহযোগীতা কামনা করছি।
স্বাধীনতার পর এই পর্যন্ত যতবার সরকারি ভাবে শহীদ আনসার পরিবার পুনর্মিলনী হচ্ছে প্রত্যেকটি অনুষ্ঠিনে আমরা দাওয়াত পেয়েছি এবং অংশগ্রহণ করেছি।শহীদ আনসার গনের যে তালিকা সরকারিভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। সেই তালিকায়ও এই শহীদ বীরমুক্তিযোদ্ধা ৮জন আনসারের নাম রয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া নিউজ ডেস্ক। বিডি টাইমস নিউজ
























